১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গাইবান্ধায় ফসলে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ বাড়ছে


নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৪ মার্চ ॥ পরিবেশবান্ধব কীটনাশকমুক্ত (সেভ এগ্রিকালচার) কৃষি ব্যবস্থাপনা চালুর লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও গাইবান্ধায় কৃষিতে সেক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উপরন্তু জমিতে এবং উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ ও জনজীবন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার বালাই দমন ব্যবস্থাপনার আওতায় ধান চাষ করা হচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৪০ ভাগ জমিতে বাকি ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ইরি-বোরো ধানের জমিতে শক্তিশালী আরগানো ফসফরাস গ্রুপের কীটনাশকসহ বিষাক্ত এবং শক্তিশালী কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। জমিতে রোগ বা ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ শুরু না হলেও এ জেলার কৃষকরা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি এবং দীর্ঘকালের অভ্যাসবশত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিটি ফসলের জমিতে কমপক্ষে ১ থেকে ২ বার কীটনাশক প্রয়োগ করছে। এছাড়া কলা, আম, পেঁপে, টমেটো এমনকি বেলসহ অন্যান্য ফল পাকানো ও সংরক্ষণে ব্রোমাইড, ইথাইলিন, ইথরেনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেগুন চাষে শতকরা ১শ’ ভাগ উচ্চ শক্তির কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া আলু, টমেটো ক্ষেতে ৪ থেকে ৫ বার প্রয়োগ করা হচ্ছে বিষাক্ত ছত্রাক নাশক রাসায়নিক দ্রব্য। তেমনি পাটক্ষেতে বিছাপোকা নিধনে ব্যবহার করা হচ্ছে ডাস্টবার্ন ও ক্যারাটে নামীয় বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্যাপুর, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ব্যাপক কলা চাষ করা হয়ে থাকে। গাছ থেকে কাঁচা কলার ছড়ি কেটে আড়তের গুদামে তাতে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ¯েপ্র করেই সেসব কলার ছড়ি দ্রুত ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য জেলায় এবং স্থানীয় হাটবাজারে। রাসায়নিক ¯েপ্র করার ফলে কলার রং টকটকে হলুদ হলেও আসলে তাতে তেমন কোন স্বাদ বা মিষ্টি থাকে না। কিন্তু মানুষের জন্য এ কথা অত্যন্ত বিষাক্ত।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শাক-সবিজ, কলা, টমেটো, কলা, কপি, লেটুস পাতা, পেঁপেসহ নানান ফল ও সবজিতে কীটনাশক এবং রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ করার পর কমপক্ষে ৮ থেকে ১৫ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত। কিন্তু এ জেলার কৃষকরা সে নিয়ম মানছে না। ফসলের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ থাকে। যারা ফসলের জন্য ক্ষতিকর শত্রু কীটপতঙ্গকে ধ্বংস করে। কিন্তু ব্যাপক কীটনাশক প্রয়োগ করার ফলে পরিবেশবান্ধব এ সব কীটপতঙ্গও সমূলে বিনষ্ট হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন।