ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

বলেছেন এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের মহাসচিব সারওয়ার

‘বিশ্ব কাবাডিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল’

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০০:৪৩, ১৪ জুন ২০২৪

‘বিশ্ব কাবাডিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল’

মুহাম্মদ সারওয়ার রানা

বঙ্গবন্ধু কাপ ২০২৪ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ সারওয়ার রানা।

তিনি আবার এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের টিডি টেকনিক্যাল ডেলিগেট-ও বটে। সারওয়ার বাংলাদেশের কাবাডির অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে কথা বলেছেন। কি করলে বাংলাদেশের কাবাডির মান আরও উন্নত হবে এবং এশিয়ান মানে যাবে, তা নিয়ে উপদেশও দিয়েছেন।

কাবাডি কোর্টের পাশেই অতিথিদের জন্য নির্মিত মঞ্চে বসে খেলা উপভোগ করেছেন সারওয়ার। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি পাকিস্তান জাতীয় কাবডি দলের অধিনায়ক ছিলেন ১৯৯৩ সালে। জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এই মেগা ইভেন্ট দেখে আমি খুব খুশি। সম্ভবত এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো এই টুর্নামেন্টটি হচ্ছে।

আমি জানি কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা এবং এই খেলাটির প্রসার ও উন্নয়নে হাবিবুর রহমানসহ (বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক) আরও অনেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশাকরি এই চেষ্টা সফল হলে বাংলাদেশ একসময় বিশ^ কাবাডিতে অনেক দূর যাবে।’
এই টুর্নামেন্টে মানসম্পন্ন দল নিয়ে প্রশ্ন করলে সারওয়ারের ভাষ্য, ‘এই আসরে কয়েকটি মানসম্পন্ন দল দেখেছি। তবে ২/৩টি মানসম্পন্ন দল যেমন : পাকিস্তান, ভারত, ইরান আসেনি।’ অতীতের সঙ্গে বর্তমানের কাবাডির পার্থক্য প্রসঙ্গে সারওয়ারের অভিমত, ‘এখন কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয় ম্যাটে। আগে হতো ক্লে-কোর্টে। ফলে এখন খেলার ধরন ভিন্ন। খেলাটা আগের চেয়েও বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়ে গেছে।

আমি একসময় (১৯৯৫-২০০০) ইরান জাতীয় দলকে কোচিং করিয়েছি, আমাকে ইরানের কাবাডির প্রতিষ্ঠাতা-কোচও বলতে পারেন। এখন তারা এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন দল। তারা এতটাই উন্নতি করেছে যে একইসঙ্গে ভারত-পাকিস্তানের মতো দলকেও হারিয়ে দিয়েছে। তবে না বলে পারছি না, বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে এই দেশগুলোর চেয়ে। এজন্যই অনেক বছর ধরে তারা এশিয়ান গেমসে পদক জিততে পারছে না। এ ছাড়া সাউথ এশিয়ন গেমসে অনেক রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক জিতলেও স্বর্ণপদক জিততে পারেনি। এই গেমসের খেলা এখন অনেক স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে চলে গেছে। 
কিন্তু ইরান একসময় অনেক পিছিয়ে থাকলেও এখন তারা অনেক উঁচুতে উঠে গেছে। তাদের পুরুষ দলের মতো নারীও দলও সাফল্য পাচ্ছে। অথচ তারা হিজাব পরে খেলে! আমি ইরান দলের কোচ থাকাকালীন তাদের অনুপ্রাণিত করতাম এই বলে, ‘তোমাদের দেশে রুস্তম-সোহরাবের মতো কালজয়ী কুস্তিগীরের দেশ।

তোমরা কাবাডিও খেলতে পারবে। পরে তো তারা আমার নিজের দেশ পাকিস্তানকেই হারিয়ে দিল!’ একটি দেশের কাবাডির মান উন্নত করতে হলে সদিচ্ছা, সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উন্নত প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই মনে করেন সাওয়ার। ৪৫ বছর ধরে কাবাডির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সারওয়ারের বাংলাদেশের কাবাডির জন্য উপদেশ হচ্ছে, ‘কাবাডিতে সফল হতে গেলে সবচেয়ে বেশি জরুরি শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া। মাঝে মধ্যে ফিজিক ব্যাপারটা সব নিয়ম ভেঙে দেয়। আপনি আমাকে সফলভাবে ধরে ফেললেন ঠিকই, কিন্তু আমার শক্তি বেশি থাকলে সেই শৃঙ্খল ভেঙে বের হয়ে আসা যায়।’

×