ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

ডাচদের হাল্কাভাবে নেওয়া যাবে না

প্রকাশিত: ২৩:৪৯, ১২ জুন ২০২৪

ডাচদের হাল্কাভাবে নেওয়া যাবে না

রকিবুল হাসান

প্রিয় পাঠক, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ দলের খেলা আবারও দুয়ারে। এবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার অপেক্ষায় টাইগাররা। যে দলটির কাছে ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হেরেছিল সাকিব আল হাসানের দল। ওই হারের কষ্ট নিশ্চয়ই ভুলে যাননি আমাদের ক্রিকেটাররা।

বিশ্বকাপের ফরম্যাট ভিন্ন হলেও আমার বিশ্বাস ওই হারের প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছেন শান্ত-সাকিবরা। কেননা ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক বেশি। এ ম্যাচে জিততে পারলে বাংলাদেশ সুপার এইটে এক পা দিয়ে ফেলবে। যে কারণে গোটা দেশের মানুষ ও প্রবাসী বাঙালিরা ডাচ বধের অপেক্ষায় আছেন। 
তবে চাইলেই তো আর জেতা যায় না। আমাদের ব্যাটারদের যে বিশ্রী অবস্থা তাতে আশঙ্কা থেকেই গেছে। জিততে হলে লিটন, শান্ত, সাকিবদের ভালো করতেই হবে। ব্যাটিং ব্যর্থতার বেড়াজালের কারণে আমাদের বোলারদের অসাধারণ কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচেই বোলাররা আমাদের ম্যাচে রাখছেন। কিন্তু ব্যাটাররা রান করাই ভুলে গেছেন।

তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছেন। কিন্তু টপঅর্ডার ব্যাটারদের ভালো করতেই হবে। আদৌ কি ব্যাট কথা বলবে? বলতেই হবে; তা না হলে সুপার এইটে খেলার অমিত সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের বাকি দুটি ম্যাচেই জয়ের সামর্থ্য আছে। মাঠে নিজেদের সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে লড়তে পারলে সেটা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র পালা শেষে এবার উইন্ডিজে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সেখানকার পিচ আমাদের দেশের মতোই হবে আশা করি। তেমন হলে শান্ত-লিটনদের ভালো করার সম্ভাবনা আছে। এই ম্যাচটাকে আমি ডু অর ডাই বলব। কেননা ম্যাচটিতে যারাই জিতবে তাদের সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। তেমনি হেরে গেলে বিদায়ের শঙ্কাও বাড়বে। ডাচরা ইতোমধ্যে তাদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

বিশেষ করে তাদের শারীরিক সক্ষমতা দেখার মতো। নেপালের চেয়ে তারা অবশ্যই ভালো দল। যে কারণে তাদের হাল্কাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সেটা করলে পস্তাতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই দেখুন। তারা কিন্তু প্রোটিয়াদের প্রায় ধরেই ফেলেছিল। 
প্রিয় পাঠক, দুই দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগেই বলেছি এটি গ্রুপটি (গ্রুপ ডি) মৃত্যুকূপ।

এখানে কে বাঁচবে আর কে মরবে তার কিন্তু ঠিক নেই। ইতোমধ্যে পাঁচ দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সবার আগে সুপার এইটে খেলা নিশ্চিত করেছে। এই গ্রুপ থেকে বাকি একটি স্থানের জন্য লড়াই করছে চারটি দল। সাকিবের ফর্মহীনতা দলের জন্য ভীষণ দুশ্চিন্তার হয়ে গেছে। সত্যি বলতে তার কাছ থেকে এখনো বাংলাদেশ কিছুই পায়নি।

তাকে নিয়ে চারদিকে সমালোচনা হচ্ছে। আগেও আমরা দেখেছি সমালোচনার জবাব সাকিব দিয়েছেন মাঠে পারফরমেন্স করেই। ডাচদের বিরুদ্ধে যদি তেমন আরেকটি দিন আসে তাহলে দলের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। 
তবে আমি বারবার বলছি, জিততে হলে টপঅর্ডার ব্যাটারদের ভালো করতেই হবে। আমাদের বোলারদের ওপর সবার আস্থা আছে। তাসকিন, রিশাদ, তানজিম সাকিবরা অসাধারণ বোলিং করছেন। তাদের সাফল্য ডাচদের বিরুদ্ধেও অব্যাহত থাকবে আশা করি। পাশাপাশি ব্যাটাররা ভালো করলে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া কঠিন হবে না। 
অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়

×