ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ভারতকে আরও সতর্ক হতে হবে

প্রকাশিত: ০০:১২, ১১ জুন ২০২৪

ভারতকে আরও সতর্ক হতে হবে

রকিবুল হাসান

প্রিয় পাঠক, এবারের বিশ্বকাপ সত্যিকার অর্থেই খুব উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রথম সপ্তাহেই অনেক বড় শক্তির পতন আর উঠতি দলগুলোর আগমনী বার্তা দেখা যাচ্ছে। টি২০ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, অথচ তারা এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় আছে। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠে নেমে ব্যর্থতায় লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল ইংলিশরা। 
পাকিস্তানও একবার করে ওয়ানডে ও টি২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। এবারের বিশ্বকাপে তারা একরাশ আশা নিয়ে এসেছে। কিন্তু টানা দুই হারে দুই ম্যাচ হাতে রেখে পাকিদের বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। বাবর আজমের দল তাদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বসে অপ্রত্যাশিতভাবে। এরপর রবিবার রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছেও হেরেছে।

অথচ ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য বাঁচামরার। এই লড়াইয়ে প্রাথমিক কাজটা পাকিস্তান ভালোমতোই করেছিল ভারতকে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট করে দিয়ে। এরপর ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান করে জয়ের পথে ছিল ইমরান খানের দেশ। তখন জয়ের জন্য বাকি দশ ওভারে মাত্র ৬৩ রানের দরকার ছিল। ছিল ৯ উইকেট। 
কিন্তু এরপর আমরা কি অবিশ্বাস্য কা- দেখলাম। এই রানগুলোও তারা করতে পারল না! হেরেছে ৬ রানে। এখন সবখানে একটা কথাই বলা হচ্ছে, পাকিস্তান বলেই এভাবে হারা সম্ভব। আমিও একই কথা বলব। তাদের দ্বারাই এমন সম্ভব। ভারতীয় বোলারদের অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে।

কিন্তু পাকিস্তানি ব্যাটাররা যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে করে তাদের এই আসরের দ্বিতীয় পর্বে খেলার  যোগ্যতা নেই বলে আমি মনে করি। ব্যাট হাতে কোনো সময়ই পাকি ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। তাদের মধ্যে জয়ের তৃষ্ণাও দেখা যায়নি। এখন যে অবস্থা তাতে ‘এ’ গ্রুপ থেকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুপার এইটে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছে।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময়ও আমি ভারতকে নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। অনেকবার বলেছিলাম, ফাইনালের আগে তাদের একটা জায়গায় থামা দরকার। তা না হলে সেই থামাটা ফাইনালে হয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছিল। 
প্রিয় পাঠক, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে চলেছে। এই বিশ্বকাপেও তারা হট ফেভারিট। তাদের ব্যাটিং লাইনআপ খুবই শক্তিশালী। বোলিংওয়েও তারা বিশ্বসেরাদের কাতারে। কিন্তু নিউইয়র্কের পিচে ভারতীয় ব্যাটাররাও ভালো করতে পারেননি। এখানকার উইকেট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এর আগে বড় বড় তারকারা ব্যাট হাতে মুখ থুবড়ে পড়লেও সবার চোখ ছিল পাক-ভারত লড়াইয়ে।

এখানে কোহলি-রোহিত-বাবরদের রানখরার পর অন্তত সবাই অনুধাবন করছেন, নিউইয়র্কের উইকেটে ব্যাট করা কতটা কঠিন। তবে একটা দিক দিয়ে ভালো হয়েছে। টি২০ ক্রিকেট মানেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং, এ ধারা থেকে আপাতত বের হওয়া গেছে। বোলিংয়েও যে নান্দনিকতা আছে, সেটা দেখিয়ে চলেছেন বিভিন্ন দেশের বোলাররা।  
যে কথা বলছিলাম, ভারত জিতলেও এ ম্যাচ থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে কিন্তু তাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হতে হয়েছিল। এবার এখনো না হারলেও আগেভাগেই ধাক্কা লেগেছে রোহিত শর্মার দলের।

এ থেকে সচেতন হয়ে তাদের দুর্বল দিক বের করতে হবে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াও সহজ হবে। ‘বি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ড মুগ্ধতা ছড়িয়ে চলেছে। তারা তিন ম্যাচ খেলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে। এই গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সুপার এইটে খেলা এখন কঠিন ব্যাপার। আমার তো মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে স্কটিশরাই পরের রাউন্ডে খেলবে। আর তল্পিতল্পা গোছাতে হবে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডকে।
অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়।

×