ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

এবার ফেঁসে যাচ্ছেন সালাউদ্দিনও

​​​​​​​স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১১, ২৫ মে ২০২৪

এবার ফেঁসে যাচ্ছেন সালাউদ্দিনও

.

২০২৩ সালে যখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে আর্থিক অনিয়ম জালিয়াতির দায়ে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন শুরুতে সোহাগকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষেই কথা বলেছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। পরে অবশ্য অবস্থা বেগতিক দেখে সুর পাল্টে ফেলেন। ছাড়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বেশ জোর দিয়েই বলেছিলেন, ‘সোহাগ দুর্নীতি করেনি, জালিয়াতি করেছে। এজন্য বাফুফের ফিন্যান্স কমিটি দায়ী নয়।সেই সময় ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন সোহাগ একা এতবড় জালিয়াতি করতে পারেন না। এর জন্য সালাউদ্দিন-সালামও জড়িত থাকতে পারেন।

বৃহস্পতিবার ফিফা মুর্শেদীকেও প্রায় ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। আর্থিক অসঙ্গতি ফিফার কমপ্ল্যায়ন্স সঠিকভাবে ফেডারেশন পূরণ করতে না পারায় মুর্শেদীকে জরিমানা করা হয়েছে। এতে পরিষ্কার হয়েছে সোহাগের অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না মুর্শেদীও।

বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতির পর বাকি ছিলেন সালাউদ্দিন। অবশেষে শুক্রবার ফিফার তদন্তে চলে এসেছে তার নামটিও। ফলে ফেঁসে যেতে পারেন সালাউদ্দিনও! কয়েক বছর ধরেই বাফুফের আর্থিক বিষয়াদি তদন্ত করেছে ফিফা। গত বছর ১৪ এপ্রিল সোহাগকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল (বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞা আরও এক বছর বাড়িয়েছে ফিফা। সেই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ২৬ লাখ টাকা) এরপরও তদন্ত অব্যাহত রেখেছিল ফিফার এথিকস কমিটির এডজুডিকেটরি চেম্বার।

বৃহস্পতিবার ফিফার তদন্তের রায়ে সেই জালিয়াতির দায়ে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় বাফুফের সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন সাবেক অপারেশন্স ম্যানেজার মিজানুর রহমানকে। ছাড়াও ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১৩ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয় সালাম মুর্শেদীকে। ছাড়াও প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা ফাইলও প্রকাশ করেছে ফিফা। সিনিয়রসহ-সভাপতি ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদীর ৫২ পাতার ফিফা রিপোর্টে বাফুফের সভাপতি সালাউদ্দিনের নামও এসেছে!

রিপোর্টের পাঁচ নম্বর পাতায় ২৬ নম্বর পয়েন্টে ফিফার ইনভেস্টগরি চেম্বার বাফুফের তুলনামূলক কোটেশন বিশ্লেষণ করে দেখেছে ভেন্ডর নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাফুফের চার জন সবসময় জড়িত ছিল। এই চারজন হলেন বাফুফের সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা আবু হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন।

ফিফা তাদের অধিভুক্ত সংস্থাকে অনুদান-আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ফিফার সেই অর্থ নিদিষ্ট নিয়ম-নীতি অনুসারে ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সেই নীতি অনুসরণ বাধ্যতামূলকই। ফিফা বাফুফেকে নিয়ে অনেকদিন থেকে তাগিদ দিয়ে আসলেও বাফুফের সুনির্দিষ্ট ক্রয় নীতিমালা ছিল না। ২০১৯ সালের অক্টোবর প্রকিউরমেন্ট নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন হলেও সেটি কার্যকর হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে। বাফুফে ক্রয়নীতি অনুযায়ী কোনো দ্রব্য/সেবা লাখ টাকার অধিকমূল্য হলে তা কিনতে তিনটি কোটেশন প্রয়োজন। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাফুফে এই কোটেশন প্রক্রিয়ায় ক্রয় করতে পারবে। কোটেশনের মাধ্যমে ভেন্ডার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সোহাগ, আবু, সালামের সঙ্গে সালাউদ্দিনের নামও এসেছে ফিফা রিপোর্টে। ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে কোনো কিছু ক্রয়/সেবার ক্ষেত্রে টেন্ডার আহ্বান করে ফেডারেশন।

সালাম মুর্শেদীর প্রতিবেদনে বাফুফের চেক এবং বেশকিছু তথ্য প্রকাশ করেছে ফিফা। সেখানে একটি ডকুমেন্টে বাফুফে সভাপতির স্বাক্ষরও দেখা গেছে। গত বছর সোহাগ নিষিদ্ধের ঘটনায় বাফুফে সভাপতির নাম আসেনি। কিন্তু এবার পাঁচটি পৃথক ফাইলের মধ্যে শুধু সালাম মুর্শেদীর ওপর ফিফা প্রতিবেদনে সালাউদ্দিনের প্রসঙ্গ এসেছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পাঁচটি ফাইলেই ফিফা বাফুফের ক্রয় চাহিদা প্রক্রিয়া থেকে একেবারে পেমেন্ট চেক ইস্যু পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছক আকারে প্রকাশ করেছে। ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাফুফে সভাপতি জড়িত না থাকলেও পেমেন্ট প্রদানে তার অনুমোদন আবশ্যক। বিশেষ করে কোনো দ্রব্য/জিনিস বাংলাদেশী টাকায় ১০ লাখ টাকার বেশি হলে সেটার অনুমোদনের এখতিয়ার কেবল সভাপতিরই। ১০ লাখের নিচে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, সাধারণ সম্পাদক ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অনুমোদন করতে পারেন।

বাফুফের চেকে স্বাক্ষর করার এখতিয়ার রয়েছে সভাপতি সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শেদী সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদের। এই তিন জনের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুর্শেদী কাজী নাবিলের স্বাক্ষরই বেশি। এই দুজনের একজন অনুপস্থিত থাকলে সালাউদ্দিন ক্ষেত্র বিশেষে চেকে স্বাক্ষর করেন। এই চেক স্বাক্ষর করেই এখন ফেঁেস যেতে পারেন তিনি!

×