ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

অজিরা প্রমাণ করেছে তারাই সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন

রকিবুল হাসান

প্রকাশিত: ০১:৫০, ২০ নভেম্বর ২০২৩

অজিরা প্রমাণ করেছে তারাই  সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন

.

প্রিয় পাঠক, বিশ্বকাপের ফাইনাল মহারণে আমরা অস্ট্রেলিয়ার অসাধারণ পারফর্ম্যান্স দেখলাম। অনেকে ভেবেছিলেন টস জিতে হয়তো ব্যাটিং নেবে অজিরা! ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাও বলেছেন, টস জিতলে তারা ব্যাটিং নিতেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স প্রায় সবাইকে ভুল প্রমাণ করেছেন। তিনি টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন এবং স্বাগতিক ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। এরপর বোলিং ফিল্ডিংয়ে চোখ ধাঁধানো পারফর্ম্যান্স প্রদর্শন করে ভারতকে অল্প রানে আটকে রাখেন অজি বোলাররা। এটা সম্ভব হয়েছে প্যাট কামিন্সের অসাধারণ অধিনায়কত্বের কারণে। তিনি অসাধারণভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দল পরিচালনা করেছেন।

ফাইনাল নিয়ে অস্ট্রেলিয়া হোমওয়ার্ক করেছে এটা বোঝাই যায়। টস জয় থেকে শুরু করে ভারতের ইনিংসের পুরোটা সময়ই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে তারা। কামিন্সের সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানাতেই হবে। তিনি জানতেন পরে ব্যাট করার সময় ডিউ ফ্যাক্টর পার্থক্য গড়ে দেবে। তখন বল ভালোমতো ব্যাটে আসবে; বোলাররা ঠিকমতো বল করতে পারবে না। সেটাই কিন্তু হয়েছে। ওপেনার ট্রাভিস হেড অসাধারণ সেঞ্চুরি করেছেন। ভারতের কোনো বোলারই তাকে ধৈর্যহারা করতে পারেননি। যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অথচ প্রিয় পাঠক, এই অজিরা তাদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল। তখন কে জানত তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম, এই অজিরা যে কোনো পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সেটাই তারা করে দেখিয়েছে। পরিকল্পনামাফিক ক্রিকেট খেলে হেক্সা কমপ্লিট করেছে। ভারতের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। সব ম্যাচ জিতে তারা ফাইনালে উঠে আসে। একটা খারাপ দিনই তাদের এসেছে; সেটা ফাইনালে। এখন তাদের আবার চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। অসাধারণ একটা দলের বিশ্বকাপটা প্রাপ্য ছিল। কিন্তু অদম্য অজিরা সেটা হতে দেয়নি। এবারের বিশ্বকাপ সার্বিকভাবে আমার পছন্দ হয়েছে। সব দল অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। বড় দলগুলোর পচা শামুকে পা কাটার সম্ভাবনা ছিল না। সেটা হয়ওনি। সেরা দুটি দলই ফাইনালে খেলেছে।

প্রিয় পাঠক, ভারত হেরে গেছে তাদের ব্যাটিংয়ের কারণেই। প্রথম ১০ ওভারে ৮০ রান করার পরও মাত্র ২৪০ রান করতে পারে তারা। আসলে ম্যাচে ভারত অনুভব করেছে লোয়ার মিডল অর্ডারের ভালো ব্যাটিং। লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই ভারতের মিডলঅর্ডার অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। বিশেষ করে বিরাট কোহলি যেভাবে খেলেছেন তাতে ভারতের শেষ দিকের ব্যাটারদের কিছুই করতে হয়নি। এটাই তাদের শেষ পর্যন্ত কাল হয়েছে। কেননা ফাইনালে লোয়ার অর্ডারদের ভালো করার প্রয়োজন ছিল। সেটা তারা করতে পারেনি আগের ম্যাচগুলোতে ব্যাট করার সুযোগ না পাওয়ায়। আসল জায়গাতেই তাই ভারত ফেল করেছে। আরেকটি জায়গায় ভারতকে ভুগতে হয়েছে। তাদের বোলাররা পুরো আসরে ভালো করেছে। যে কারণে কখনো বাড়তি বোলারের প্রয়োজন অনুভূত হয়নি।

কিন্তু ফাইনালে ভারতের তিন পেসার প্রত্যাশিত বল করতে পারেননি। আর দুই স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা কুলদ্বীপ যাদব তো বিন্দু পরিমাণ প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেননি। এই দুই স্পিনারকে সাবলীলভাবে খেলেছেন হেড লাবুশেন। পাঁচজন বোলার নিয়ে খেলা ভারত ষষ্ঠ বোলারের অভাব প্রকটভাবে অনুভব করেছে। সবমিলিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন। হারলেও ভারতকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলেছে।

প্রিয় পাঠক, শেষ ক্ষণে একটি কথা বলতেই হবে, অস্ট্রেলিয়া সবসময় হারকে ঘৃণা করে। তারা কখনোই হারতে চায় না। সবসময়ের চ্যাম্পিয়ন দল, বড় মঞ্চের দল। সেটা আরেকবার অজিরা প্রমাণ করেছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের লাখ ৩২ হাজার ভারতীয় দর্শককে স্তব্ধ করে।

অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়

×