ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

৫৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে অনন্য উচ্চতায় হ্যারি কেন

জাহিদুল আলম জয়

প্রকাশিত: ০০:১৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

৫৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে অনন্য উচ্চতায় হ্যারি কেন

গোলের রেকর্ড গড়ে অনন্য উচ্চতায় টটেনহ্যামের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এক রাতে অসাধারণ দুই প্রাপ্তিতে ভাস্বর হয়েছেন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের অধিনায়ক ক্লাব দল টটেনহ্যাম হটস্পারের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন। সেই সঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ গোলের গৌরবময় মাইফলকও স্পর্শ করেছেন। রবিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এক গোল করে এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী কেন।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কেনের একমাত্র গোলে ভর করে টটেনহ্যাম হটস্পার ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে সফরকারী ম্যানচেস্টার সিটিকে। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশকে ফাউল করে লালকার্ড (দ্বিতীয় হলুদ কার্ড) দেখেন টটেনহ্যামের ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। তাতে অবশ্য হ্যারিদের জয় আটকায়নি।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৫ মিনিটে গোল করে টটেনহ্যামকে দারুণ জয় উপহার দিয়েছেন ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয় করা হ্যারি কেন।

এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে স্পার্সরা। এক ম্যাচ কম খেলে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে আগের দুই নম্বরেই আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি। ম্যাচে জয়সূচক গোল করে কিংবদন্তি জিমি গ্রিভসকে (২৬৬ গোল) ছাড়িয়ে টটেনহ্যামের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন কেন। বর্তমানে কেনের গোলসংখ্যা ২৬৭টি। ৪১৬ ম্যাচ খেলে গোলগুলো করেছেন তিনি। ১৯৭০ সালে টটেনহ্যামের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন জিমি গ্রিভস।

৫৩ বছর পর তাকে পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক। গ্রিভস রেকর্ডগড়া গোলগুলো করেছিলেন ৩৭৯ ম্যাচ খেলে। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে এই নজির গড়েন। এই তুলনায় কেনের চেয়ে ৩৭ ম্যাচ কম খেলেছেন গ্রিভস। স্পার্সদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও অ্যালান শিয়েরার (২৬০) ও ওয়েন রুনির (২০৮) পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ গোল করার মাইলফলক গড়েছেন কেন।

গৌরবময় রেকর্ডের পর গর্বিত হ্যারি কেন বলেন, আমার বলার মতো ভাষা নেই। এটা আসলেই জাদুকরী এক মুহূর্ত। এই কৃতিত্ব অর্জনে আমি মরিয়া ছিলাম। একইসঙ্গে দলের জয়ও চেয়েছিলাম। ঘরের মাঠের সমর্থকদের সামনে এই অর্জন কখনোই ভোলার মতো নয়। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল করে ওয়েন রুনির সঙ্গে ইংল্যান্ডের সর্বকলের সর্বোচ্চ গোলাদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন কেন। এবার গ্রিভসকে টপকে অসাধারণ অর্জনে ভেসেছেন।

অবশ্য ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার সিটি যদি তাকে দলে ভেড়াত তাহলে হয়তো এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারতেন না কেন। দারুণ রেকর্ড গড়লেও ক্যারিয়ারের শুরুটা মসৃণ ছিল না তার। ২০০৯ সাল থেকে টটেনহ্যামের হয়ে খেলছেন। 
অথচ এরপর থেকে চারবার বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য টটেনহ্যাম কেনের গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাকে আর অন্য কোথাও যেতে দেয়নি। ২০২১ সালে ৮১ বছর বয়সে গ্রিভস মৃত্যুবরণ করেন। ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সাবলীল গোলদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। এমন একজন কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের পাশে নিজের নাম উঠাতে পেরে কেন গর্ব অনুভব করছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে কখনই মনে হয়নি প্রিমিয়ার লিগে ২০০ গোল করব। তখন থেকে এ পর্যন্ত যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না। নানা নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত আমি এখানে আসতে পেরেছি। জিমি গ্রিভস একজন পরিপূর্ণ নায়ক। ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্তটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

×