ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

সেই গাউসই এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নবাহক

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪০, ২১ জুন ২০২৪

সেই গাউসই এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নবাহক

ব্যাট হাতে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করেছেন আন্দ্রিয়েস গাউস

ইতোমধ্যেই আমেরিকার চমক দেখে ফেলেছে এবারের টি২০ বিশ্বকাপ। অভিষেক বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রমের নজির গড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বুধবার সুপার এইটেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর প্রায় দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিল! কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়াদের কাছে ১৮ রানে হেরে যায় এবারের আসরের সহ-আয়োজকরা। তবে হারলেও নিজের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আলো ছড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপে নজরকাড়া আন্দ্রিয়েস গাউস।

অ্যান্টিগার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যটা ছিল ১৯৫ রানের। যা তাড়া করতে প্রয়োজন ছিল ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের। আন্দ্রিয়েস গাউস ঠিক সেভাবেই খেললেন এদিন। পাওয়ারপ্লে-তে যখন একের পর এক ব্যাটারদের যাওয়া আসার মিছিল চলছিল, তখন একপাশ থেকে রীতিমতো দক্ষিণ আফ্রিকার  বোলারদের ওপর তা-ব বইয়ে দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে না হারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলেই অর্ধশতক তুলে নেন গাউস। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৭ বলে ৮০ রানে।
অথচ এই গাউস এবার দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতেও খেলতে পারতেন! কিন্তু নিজ দেশের ক্রিকেট ছেড়ে ২০২১ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এই উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটার। সব প্রক্রিয়া শেষ করে টি২০ বিশ্বকাপের ঠিক আগে কানাডার বিপক্ষে সিরিজে মাঠে নামেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতে না পারা এই ক্রিকেটার এবার তাদের বিপক্ষে খেলে নিজের জাত চেনালেন। ইনিংসের ১৮তম ওভারে তাব্রেইজ শামসির শেষ দুই বলে দুই ছক্কা  মেরে ম্যাচ তো জমিয়েই তুলেছিলেন। শেষ দুই ওভারে তাদের তখন প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। সমীকরণটা তিনি মেলাতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদার জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকা যুব দলের হয়ে যে রাবাদার সঙ্গে তিনি একসঙ্গে টেস্ট খেলেছেন। 
শুধু নিজের দেশের বিপক্ষেই যে রান করেছেন তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচে কানাডার বিপক্ষেও ৬৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন গাউস। সব মিলিয়ে ৪ ইনিংসে ৬০ গড়ে ১৮২ রান করে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। গাউসের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১২ সালে। খেলেছেন ৬০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ২০১৩ সাল থেকে লিস্ট এ ক্রিকেটে খেলেছেন ৫৭ ম্যাচ। প্রোটিয়াদের হয়ে খেলার স্বপ্নটা ফিকে হয়েছিল বলেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাউস। দুর্দান্ত খেলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাটাই এখন তার প্রত্যয়।

×