ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

হাতুরু ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সম্মান দিয়েছেন ॥ সুজন

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:১০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

হাতুরু ক্রিকেটারদের প্রাপ্য সম্মান দিয়েছেন ॥ সুজন

সুজন

দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে আসছেন চান্দিকা হাতুরুসিংহে। এর আগে প্রথম মেয়াদে ৩ বছরের কিছুটা বেশি সময় একই দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ দলকে বেশকিছু অবিস্মরণীয় সাফল্য এনে দিয়েছিলেন এ শ্রীলঙ্কান কোচ। কিন্তু সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার বনিবনা না হওয়া এবং শৃঙ্খলার বিষয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করার কারণে জাতীয় দলের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকেনি।

তাই আবার বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসার পার হাতুরুসিংহের অধীনে দলের অবস্থা কি দাঁড়াবে তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিন্তু টিম ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন দাবি করেছেন, হাতুরুসিংহে অনেক ভালো মানুষ এবং সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন না করে প্রতিটি খেলোয়াড়কেই তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে থাকেন। মঙ্গলবার মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠে হাতুরুসিংহের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে এসব কথা বলেন সুজন। 

হাতুরুসিংহে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেন ২০১৪ সালের মে মাসে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে হুট করেই দায়িত্ব ছাড়েন। কিন্তু দায়িত্বকালে সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল হক সৌরভসহ সিনিয়রদের সঙ্গে যেমন মানিয়ে নিতে পারেননি, তেমনি দলের জুনিয়রদেরও কড়া শাসনে রেখেছিলেন শৃঙ্খলাজনিত কারণে। কিন্তু সে সময় জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার হিসেবে থাকা সুজন দাবি করলেন সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন করেননি হাতুরুসিংহে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়কেই প্রাপ্য সম্মান দিয়েছেন।

সুজন বলেন, ‘সাকিব কিংবা তামিম, অবশ্যই তারা সম্মান পাওয়ার যোগ্য.. বড় ক্রিকেটার, সিনিয়র ক্রিকেটার, আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। কোনো পার্থক্য তৈরি করেননি। একজন তরুণ ক্রিকেটারের যে সম্মান পাওয়া উচিত, আমার মনে হয় সেটা হাতুরু সবসময় সব ক্রিকেটারকে দিয়েছে।’ মাত্র ৪৫ বছর বয়সে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেই সময় হাতুরুসিংহে। এখন তার বয়স ৫৪। তাই অনেক পরিণত হয়েছেন তিনি। এমন দাবি নিয়ে সুজন বলেন, ‘তখন যে সময় ছিল, ও নিজেও কম বয়সের ছিল।

আমাদের যে একটা অবস্থা ছিল যে আমরা জিততে পারছিলাম না। আমাদের অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে তখন। এখন তো পরিস্থিতি অন্যরকম। হাতুরুও অনেক পরিপক্ব। আমরা যদি ইতিবাচকভাবে নেই, সব কিছু ঠিক থাকে, আমার মনে হয় না আমরা খারাপ করব ওর কোচিংয়ে।’ এখন ৬ বছর পর আবার ফিরছেন হাতুরু বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে। অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করে এসেছেন। সুজন প্রত্যাশা করছেন আরও ভালো কিছু। তিনি বলেন, ‘হাতুরু অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য কাজ করে গেছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের খুব ভালো করে চেনে। আমাদের ক্রিকেট খুব ভালোভাবে ওর নখদর্পণে আছে। আমি তো ভালো কিছু প্রত্যাশা করি। সময়ই বলে দেবে আসলে কী হয়। 
এখন তো অভিজ্ঞ হাতুরুকে পাব, পরিণত অনেক। দেখা যাক, ভালো হওয়ার চিন্তা করেই বিসিবি আনছে ওকে। ওই ভালোটা প্রদাণ করবে বলে আশা করি।’ এমনকি সুজনের দাবি হাতুরুসিংহের অধীনেই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ সবচেয়ে ভালো ছিল। এ বিষয়ে সুজন বলেছেন, ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ড্রেসিং রুম ছিল যখন হাতুরু ছিল। আমরা সবসময় একটা কথা বলি, মিডিয়াতেও আগে শুনি, কড়া হেড মাস্টার বলে কথা বলে বোধ হয়, আমার মনে হয় সে ওরকম কড়া নয়, যেরকম করে আমরা বলি।’ সুজনের দাবি মানুষ হিসেবেও যথেষ্ট ভালো হাতুরুসিংহে।

সে বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কী চাই, আপনি আমাকে পেছনে কথা না বলে সামনে কথা বলেন। এটা একটা ভালো মানুষের লক্ষণ। আমি মনে করি হাতুরু ভালো মানুষ। যা বলে, পেছনে কথা বলে না কাউকে, ও যা বলে সামনে কথা বলে। এটা যদি কড়া হেড মাস্টার হয়ে যায়, তাহলে কড়া হেড মাস্টার। কিন্তু আমি মনে করি, আমি অনেক কোচের সঙ্গে কাজ করেছি বাংলাদেশে, যারা সামনে একরকম আবার পেছনে অন্যরকম কথা বলে।

×