ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সম্ভাবনার আলোর মশাল আজও যাঁর হাতে

অমিত রায় চৌধুরী

প্রকাশিত: ২১:৪৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সম্ভাবনার আলোর মশাল আজও যাঁর হাতে

জননেত্রী শেখ হাসিনা

বেশ অনুমান করতে পারি-’৭৫-র নৃশংসতায় হতবাক জনপদে তখনো আতঙ্ক কাটেনি। যে আদর্শ ও সংকল্প নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সে রাষ্ট্রটিকে খুঁজে পাওয়া তখন রীতিমতো দুঃসাধ্য। রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতি মৌলিক চরিত্র হারিয়ে আবার উল্টোপথে যাত্রা শুরু করেছে। ভয়ের শাসনে বিবেক কোণঠাসা। পরিকল্পিত ইতিহাস বিকৃতি সমাজমনের আদলটাকেই বদলে ফেলার চেষ্টা করছে। এমনই একটা অস্পষ্ট, অনিশ্চয়তায় আচ্ছন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। দিনটা ছিল ১৭ মে, ১৯৮১ সাল। 
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যখন ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই হয়তো শেখ হাসিনার আগমন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তিনি আসলেন, দেখলেন, পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকারে অজানা, বন্ধুর পথে পা বাড়ালেন। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনই তাঁর লক্ষ্য। ’৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর জনতার রায় নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। গবেষকরা মনে করেনÑ’৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত শাসনকাল স্বাধীনতা উত্তরকালে যে কোনো মানদ-ে একটা স্বর্ণযুগ। শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নানা সমস্যা তিনি সমাধান করে ফেলেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়।

ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে সঙ্গে রেখে তিনি পদ্মার পানি-বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম সহিংস হয়ে উঠেছিল। পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতে জনপদ হয়ে উঠেছিল রক্তাক্ত। শেখ হাসিনা আবির্ভূত হন শান্তির দূত হয়ে। ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর। ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে সুদীর্ঘ ২২ বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হয়। গড়ে ওঠে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন। ১৯৯৮-এর ১০ ফেব্রুয়ারি শান্তিবাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে। 
এরপর ২০০৯ থেকে শুরু করে টানা তিন মেয়াদ জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- ও যুদ্ধাপরাধের বিচার তাঁর এজেন্ডায় অগ্রাধিকার পায়। কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। বৈরিতায় আক্রান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক রাজনীতি, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা, জটিল ভূ-রাজনীতির সমীকরণ তাঁর অভীষ্টকে ক্রমেই দুর্গম করে তোলে। একের পর এক ষড়যন্ত্র তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায়। তীক্ষè বিচক্ষণতা ও প্রবৃত্তিগত সাহস নিয়ে তিনি সেসব বিপত্তিকে মোকাবিলা করতে থাকেন। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করতেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহ; যা কেড়ে নেয় ৭৫টি তাজা প্রাণ। এদের মধ্যে ছিল ৫৮ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তা। প্রজ্ঞা, সাহস ও ধৈর্য দিয়ে তিনি তা মোকাবিলা করেন।

সামরিক অভিযান না চালিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে গিয়ে তিনি সম্ভবত অনেক রক্তপাত এড়াতে পেরেছিলেন। তিন ঘণ্টা ধরে সেনা অফিসারদের আবেগ প্রশমনে তিনি যে মেধা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন, তা হয়তো ভবিষ্যৎ রাজনীতির ছাত্রদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। আর একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, যোগ্য রাষ্ট্রনায়কের অগ্নিপরীক্ষায় সেদিন তিনি উত্তীর্ণই হয়েছিলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে যেসব গুণ তিনি পেয়েছিলেন; তার মধ্যে ছিল সাহস, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করতে তিনি ছিলেন আপোসহীন। কোনো হুমকি তিনি তোয়াক্কা করেননি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালে দেশী-বিদেশী চাপের কাছে তিনি নত হননি। হেফাজত আন্দোলন, কোটাবিরোধী বা নিরাপদ সড়কÑকোনো আন্দোলনই তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি।

নিজের জীবনের ওপর হুমকি এসেছে বারবার। শুধু ২১ আগস্টের মতো ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নয়, বিমানে জ্বালানির পথ রুদ্ধ করে তাঁকে হত্যার প্রচেষ্টা হয়েছে। তিনি একচুলও পেছনে সরেননি। অন্যদিকে আইন ও সংবিধানের প্রতিও শ্রদ্ধা হারাননি। যুদ্ধাপরাধ, বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগস্ট, হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলাসহ যে কোনো অপরাধকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি সবসময়ই দ্বিধাহীন। নিজের ওপর ছিল অগাধ আস্থা। 
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছিল বলে যখন কল্পিত অভিযোগ উঠেছিলÑশীর্ষ নেতৃত্বের যে ভূমিকা দেখেছে দেশ, তাতে গর্বিত না হয়ে পারা যায় না। এ দেশ গরিব। এরা পরনির্ভর। অন্যের সাহায্যে চলে। তাই এদের সম্মান-মর্যাদা নেইÑএই ধারণাকে শেখ হাসিনা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নিজস্ব অর্থায়নে যখন তিনি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলেন, শোনা গেল কত কটাক্ষ, বিরূপ মন্তব্য আর নির্মম অবিশ্বাসের সুর। শেখ হাসিনা সবার সন্দেহকে ভুল প্রমাণ করলেন। পদ্মা সেতু আজ শুধু অপার সম্ভাবনার দিগন্তকে উন্মোচন করেনি, দেশের মর্যাদা, সক্ষমতা ও দৃঢ়তার দৃষ্টিনন্দন সৌধ রচনা করেছে। কিন্তু আমরা ভীষণ অকৃতজ্ঞ। প্রশংসা নয়, কেবলমাত্র সত্যটুকুকে স্বীকার করতেও আমাদের যত রাজ্যের দ্বিধা। সমুদ্রজয়েও আমরা অনেককে খোলামনে উল্লাস করতে দেখিনি।

সারা বিশ্বকে অবাক করে দেশ যখন করোনার ঝাপটাকে দুর্বল করে দিতে পারল, কেন যেন মনে হয়, আমরা তাতেও খুশি নই। আমরা কী তাহলে নিজেদের কোনো বিপর্যয়ের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকি? এ কেমন মনস্তত্ত্ব? আত্মপরিচয়ের এ সংকট, মনোজগতের এই দ্বৈততা কিন্তু আমাদের খুব অচেনা নয়। দেশকে ভালোবাসি বলে দাবি করি। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবে অংশীদারিত্ব চাই। কিন্তু মুুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করি না। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে লজ্জা পাই। অথচ ঘাতক দালালদের মহিমান্বিত করতে দ্বিধা করি না, কিন্তু দেশকে যিনি এমন উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন, গোটা বিশ্ব যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, দেশ যখন সারা বিশ্বের কাছে মডেলÑতখন নানা ছুঁতোয় তাঁকে ছোট করার চেষ্টা করি। 
বর্তমান সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থান খুবই স্পষ্ট। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর দুর্নীতির নাছোড়বান্দা অস্তিত্ব এ সময়ের বড় অস্বস্তি। তবে খোঁজ পেলে, তিনি যেই হোন, বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। দলের মন্ত্রী, এমপি, নেতা বা প্রবল প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব- কেউই আইনকে পাশ কাটাতে পারেনি। দুদক কাজ করছে স্বাধীনভাবে। বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ বিশেষ করে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে যেসব শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন তার শতভাগই স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত। ব্যাংক, পুলিশ বা বিভিন্ন সংস্থার অনেক চাকরি হয়েছে, যাদের পরিচয়ই প্রমাণ করে এসব নিয়োগ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিক। ভুমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় এসে গেছে।

বিভিন্ন সেবা খাতের লাইসেন্স প্রদান ও গ্রহণ পদ্ধতি অনেকটাই এখন দুর্নীতিমুক্ত। ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ইস্পাত-কঠিন। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে তিনি দল-মত, আপন-পর কিছু দেখেননি। নদী-খাল ও রেলের জমি উদ্ধারে একের পর এক অভিযান চালিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়া সহজ নয়, কিন্তু এটা ঠিক, এ বিষয়ে সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রশ্নে শেখ হাসিনার নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা নিয়ে জনমনে বিন্দুমাত্র কোনো সংশয় নেই-এটাই সবচেয়ে বড় মূলধন।বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন ছিল বাস্তবমুখী, বুনিয়াদি ও প্রযুক্তিমূলক। ’৭৫ পরবর্তী শাসকচক্র এই গণমুখী শিক্ষাভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করে।

শেখ হাসিনা সরকার আবার বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষানীতিকে সময়োপযোগী করে তা বাস্তবায়ন শুরু করে। ধাপে ধাপে শিক্ষাকে শ্রেণি-লিঙ্গ, গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অবিরাম চেষ্টা জারি রাখেন। প্রাথমিক হতে ¯œাতক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি-উপবৃত্তিসহ নানা প্রণোদনার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসা, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ব্যবস্থাকে প্রযুক্তি নির্ভর করার ব্যাপক কর্মকা- শুরু হয়। প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের পরিধিকে জেলা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়; যা এসডিজি অভীষ্ট অর্জনে দেশকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশটা প্রমাণ করছে, কারও ভরসায় নয়, স্বাধীন শক্তিতে সে বাঁচবে। পরনির্ভর হলে অর্থনীতির জমি শক্ত হতো না। পাকিস্তান আমলে খাদ্য উৎপাদন ছিল এক কোটি টন। এখন তা দাঁড়িয়েছে চার কোটি টনে। সমান তালে কৃষির সঙ্গে শিল্পের বিকাশও সম্ভব হতো না। চারপাশে কারখানা মাথা তুলছে। মানুষ কাজ পাচ্ছে। দুই হাজার আট সালে ছাপ্পান্ন লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল। এখন তা বারো কোটি ছাড়িয়েছে। দেশের ইউনিয়নগুলো পরিণত হয়েছে ডিজিটাল হাবে। পাঁচ হাজার আটশ পঁয়ষট্টিটি ডিজিটাল সেন্টারে এগারো হাজার তরুণের কর্মসংস্থান হয়েছে। সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রি-ল্যান্সার রয়েছে যা ক্রমাগত বাড়ছে। বলাবাহুল্য, নেতার দূরদৃষ্টিতে প্রযুক্তির বাজারে ফ্রিল্যান্সাররা নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। আগামী দিনে এ বাজার থেকেই তরুণ উদ্যোক্তাদের আয়ই হতে পারে অর্থনীতির বড় শক্তি।
ঘাটতি হতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দেশ আজ বাংলাদেশ। চাহিদা চৌদ্দ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন সক্ষমতা আজ চব্বিশ হাজার মেগাওয়াট। প্রায় শতভাগ মানুষ আজ বিদ্যুতের নাগালে। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিজের টাকায় পদ্মা ব্রিজ, ঢাকায় মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। চট্রগ্রামে কর্ণফুলী টানেল। রেল-সড়ক-নদীপথকে আধুনিকতায় মুড়ে দিতে চলমান নানা মেগা প্রজেক্ট। গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। বদল আসছে গ্রামে। হাইটেক পার্ক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র। স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক। বাধাও এসেছে অনেক। কোভিড-১৯ আর ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ^কে বিপর্যস্ত করেছে। তবুও উন্নয়নের গতি থমকে দাঁড়ায়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জননেত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা খুবই উজ্জ্বল। অত্যন্ত জটিল রসায়নও তিনি সহজ করে দিয়েছিলেন। ভারতের নির্বাচনে যখন মুক্তিযুদ্ধকালীন পরম মিত্র ইন্দিরা গান্ধী ও প্রণব মুখার্জীর দল কংগ্রেস পরাজিত হয়, অনেকে কৌতূহলী ও উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন-ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে এবার বুঝি ভাটা পড়বে। মুখোশ খুলে বিজয়ী দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। ২০১৯-এ সবাই যখন ভেবেছে গণচীন এবার হয়তো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। কার্যত দেখা গেল বিজয়ী সরকারকে সাধুবাদ জানাতে সবার আগেই ফুল হাতে ছুটে এসেছে সে দেশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন কেউই তাঁকে অপছন্দ করেননি। দেশের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলে রটনা ছিল। জিÑ২০ সম্মেলনে নেত্রী সে ধারণা বদলে দিলেন। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা হয়ে মধ্যপ্রাচ্য সবখানেই তাঁর জমি খুব পোক্ত। একের পর এক তিনি সবার স্বীকৃতি, ভালোবাসা ও সমীহ আদায় করে নিয়েছেন। 
শেখ হাসিনার বিরাট সাফল্যস্থল সীমানা সমস্যার সমাধান। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমল মিলিয়ে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত সমস্যা তিনি সমাধান করেছেন জাদুকরী কূটনীতি ও দূরদৃষ্টি নিয়ে। নরেন্দ্র মোদি, সোনিয়া গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, তরুন গগৈই-র মতো নেতাদের পাশে রেখে তিনি এ কাজটি সেরে ফেললেন অকল্পনীয় দক্ষতায়। প্রজ্ঞার অমলিন কীর্তি গড়লেন। চীন-ভারত-নেপাল-পাকিস্তান সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আজও পারেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা তা পারলেন নিজের মহিমায়। ভূ-খ-গত বিরোধমুক্ত জাতিতে পরিণত হলো দেশ। ১০ হাজার একরের বেশি জমি ফিরে এল। মিয়ানমার ও ভারতকে নজিরবিহীন দক্ষতায় কূটনৈতিকভাবে পরাজিত করে সমুদ্রজয়ী হলেন শেখ হাসিনা। এই সীমান্তজয়ী কন্যাকে নরেন্দ্র মোদি বললেন-আপনার পিতার হাতে যে চুক্তির সূচনা, আপনার হাতেই তার সার্থক পরিণতি। 
রাষ্ট্রনায়ক থেকে আজ তিনি বিশ্বনেতায় পরিণত। অবিশ্বাস্য পরিণতমনস্কতা, দূরদৃষ্টি ও শোষিত মানুষের জন্য তাঁর আবেগের উত্তাপ বারবার অনুভব করেছে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। ভ্যাকসিন বৈষম্য, কোভিড-উত্তর বিশ্বব্যবস্থা ও পরিকল্পিত বৈষম্যের কাঠামোকে তিনি ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্বাস্তু সমস্যা, প্যালেস্টাইন, আফগানিস্তানÑকোনোকিছুই তাঁর নজর এড়ায় না। হেনরি কিসিঞ্জারের বাস্কেট কেইসকে তিনি অপার সম্ভাবনার দেশে বদলে ফেলেছেন। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটেছে মধ্যম আয়ের দেশে। প্রথম বিশ্বের আলোকবৃত্তে প্রবেশের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় এখন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। বিশ্বাস করি, শুধু এদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি আছে, সবাই আজ এই গৌরবের অংশীদার। জমাট বাঁধা অন্ধকারেও তাই আজ আলোর আভাস। জননেত্রীর জন্মদিনে আজ সমগ্র জাতির বাঁধভাঙা শুভকামনা। 

    লেখক: ট্রেজারার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা

×