ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

স্বাধীনতা মুক্তি ॥ ন্যায় ন্যায্যতার প্রশ্নে

মতিন বৈরাগী

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ২৬ মার্চ ২০২৩

স্বাধীনতা মুক্তি ॥ ন্যায় ন্যায্যতার প্রশ্নে

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’  ‘বঙ্গবন্ধু’

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’  ‘বঙ্গবন্ধু’। 
এই ঘোষণা প্রতিশ্রুতির। আজ যদি স্মৃতি হয়ে না গিয়ে থাকেÑ অপূর্ণতা ছিল না। ভাষা রুদ্ধের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে  এ দেশের মানুষের প্রথম ‘না’ উচ্চারণÑ শাসকের মুখের ওপরÑ মুক্তির অনবদ্য দলিল। পরবর্তীর অই ঘোষণা ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনগণের চিন্তা-মুক্তির উপায় উপাদানে অস্তিত্বলাভ করে। ভাষা আন্দোলনই প্রথম স্ফুলিঙ্গ যার দাবানল ক্ষমতাসীনরা দেখেছিল ’৭১-এ। সঙ্গত কারণে মুক্তির উচ্চারণ প্রথম এসেছে, কারণ; স্বাধীনতা অর্থাৎ শাসন কাঠামো না বদলালে চিন্তা রুদ্ধবাকের গ-ি অতিক্রমণে অতিক্রমী হয়ে উঠতে পারে না।

এখানে স্বাধীনতার আগে মুক্তির উচ্চারণ যুক্তিযুক্ত; আগ-পিছ হয়ে আছে পরিস্থিতির যৌক্তিকতায়। বাস্তবে মুক্তির প্রয়োজনেই স্বাধীনতার প্রয়োজন, আর এই মুক্তি অর্থনৈতিক, শাসনতান্ত্রিক, সামন্ততান্ত্রিক শোষণ-শাসন-ত্রাসনবিরুদ্ধ, মানবতা সমুন্নতিরÑ বাকস্বাধীতায় ব্যক্তিকে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ব্যক্ত হওয়ার, ন্যায় ও ন্যায্যের মৌলিক অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করার। 
আজ আর স্বাধীনতা শব্দটির মর্মার্থ গণমানুষের নিত্যদিনের উপলব্ধির অবিধানে উপস্থিত নেই; বরং তারা কেবল একটি দেশের স্বাধীন ভৌগোলিক সীমারেখা পেয়েছে আর তাই স্বাধীনতা পেয়েছে, এইটুকু নির্জীবভাবে উপলব্ধি করে। মুক্তির প্রশ্নটি আর তাদের আলোড়িত করে না।

যদিও স্বাধীনতা শব্দটি আরও ব্যাপক, বিস্তৃত এবং ছড়িয়ে যাওয়া তৃণগুল্মের শিকরগুচ্ছের মতো রেজোমিক সত্তার মুক্ত আলোকÑ তার মধ্যে মুক্তির প্রশ্নটি গুটিয়ে আছে। এই দুটি শব্দ প্রতিমুহূর্তে সংশ্লেষিত হয় জীবনেÑ দীক্ষা, শিক্ষা, অধিকারহীনতার কারণে  প্রজন্মান্তরেও উপলব্ধিতে উপলব্ধ হতে পারছে না। বাস্তবে একটি আটপৌরে শব্দের ভাষ্যবন্ধনে এর মর্মমূল চিত্তলগ্ন করা যায় না। অক্সিজেন যেমন প্রতিমুহূর্তে প্রয়োজনীয় জীবনের জন্য, স্বাধীনতা তেমনি নিয়তপ্রয়োজন যাপনে। ব্যাপক অর্থে মুক্তি সামগ্রিক, জীবনের এক উপলব্ধিপ্রাপ্ত বোধ।

কেবল চিহ্নিত একটি সীমারেখার ভূখ-চিন্তা স্বাধীনতা শব্দটিকে অসাড় অস্তিত্বে পরিণত করতে পারে যদি মুক্তির লড়াইটা আটকে থাকে ভুল শাসন কাঠামোর কাঁটাতারে। যদিও আধুনিক কালের রাষ্ট্র-সমাজ স্বাধীনতা অনুভবের পূর্ণতাপ্রাপ্তির খানিকটা সুযোগ আইনকানুন নিয়মরীতিতে সংযুক্ত করে জনসমাজকে লাভ/অলাভে যুক্ত করতে পেরেছে, তবু তার অন্তরাত্মা রয়েছে ফাঁকা শূন্য উঠানের মতো।  যদি রাষ্ট্রের ন্যায় ও ন্যায্যতা আদর্শিক গড়নে প্রথিত হয়ে উঠবার সম্ভাবনা থাকে; তবেই থাকে জীবনসুধা সমাজস্বাস্থ্যের। থাকে গড়ে উঠবার প্রশিক্ষণ, ব্যাপকতর সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে নিজেকে জানার শক্তি অর্জন।

আর রাষ্ট্র-সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যক্তির যুক্ত হওয়ার উপায়। ব্যক্তি স্বাধীনতার বিকাশের মধ্য দিয়ে মূলত চিন্তার স্বাধীনতা স্থিতি পায়। চিন্তার স্বাধীনতা ব্যাহত হলে ব্যক্তির কর্মদক্ষতা সঙ্কুচিত হয়, চিত্ত সম্প্রসারণে ক্লিবতা নামে, জাতি হয় মেধাশূন্য। প্রজন্ম থাকে বিভ্রান্ত এবং সমাজ সমসমৃদ্ধির পথে না এগিয়ে সোয়ার হয় ব্যক্তি সুবিধাবাদে। আদর্শ হারিয়ে গিয়ে সমাজে অস্থিরতা বাড়ে, অন্তসারশূন্য সমাজ প্রতিষ্ঠা দেয় হিং¯্রনখরের। তখনই ন্যায় সমাজ থেকে শোষিত হয়ে কতিপয়ের ‘আমির’ গর্জন অনুগামী হয়।

যদিও তারা এটাকেই স্বাধীনতা মনে করে এবং ক্ষমতার অহংয়ে বিপুল মানুষকে অন্যায়ের করাতকলে কর্তিত করে স্বাধীনতার গৌরব কুলুঙ্গিতে তুলে রাখে। জনসমাজ নির্জীব নিস্পন্দ, তাদের জীবন ধারা ক্ষমতাবানদের বক্তৃতা, উপদেশ গালাগালের নব্য-ভাষাবিধানে যুক্ত হয়ে নতুন ভাষ্যের উপস্থিতি ঘটায়। ন্যায় স্থাপন ও ন্যায় বিধান সংযুক্তির অভাবে নিজের ভাবনার ধারাগতি অন্যের মাঝে সঞ্চালিত করতে পারে না। ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না ব্যাষ্টির অংশ। তার ‘আমির’ ‘বড় আমি’ পালিয়ে বেড়ায়। সে কেবল ‘নিজের জন্য নিজে’ এই সঙ্কীর্ণ চিন্তার বহরে যুক্ত হয়।

স্বাধীনতা হয় কতগুলো ব্যক্তির সম্পদভা-ার এবং উৎসব পালন রীতি। এতে জনগণের জীবনধারা খামার ঘেরাওয়ের মতো ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে ক্রমান্বয়ে অস্থিসার হয়। ব্যক্তির অমিত সম্ভাবনাকে মেষপালের ¯্রােতে যুক্ত করে। তখন ব্যক্তি ব্যাষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং নিজ ভাগ্য বিপর্যয়কে ভবিতব্যের ঝুলিয়ে দেয়। ব্যর্থ হয় তার কর্মশক্তির উদ্ভাবন, নান্দনিক চিন্তার প্রসারণ। একশ্রেণির উমেদারী তেলবাজিকররা বাগিয়ে নেয় কুৎসিতকর্মকুশলতায়,  বিনাশ করে আধুনিকতা সৃষ্টি অমিত শক্তির। 

॥ দুই ॥
প্রত্যেক মানুষের রয়েছে কল্পনা শক্তি, রয়েছে ভাষা। মানুষ তার কল্পনার মধ্যেই আবেগকে সঞ্চালিত করে এবং ভাবনার মধ্য দিয়ে প্রকাশে পারঙ্গম হয়। প্রকাশ যখন সমাজের মধ্যে সম্প্রসারিত হয় তখন তার ন্যায় ও ন্যায্যতার যে বিবেচনা যা প্রত্যেক মানুষের অস্তিত্বে জন্মগত; এই চিন্তাটাই সংগঠিত করে সমাজ রীতিনীতির উচ্চতর বোধ, শক্তিশালী সংস্কৃতি। তারই পরিমাপক্রিয়ায় সমাজমানুষ কোনো কিছুকে গ্রহণ বা বর্জন করে। এভাবে শতমত শতপথকে সম্প্রসারিত/সংযোজিত/সংশোধিত/বাতিল করে।

রাষ্ট্র ও সমাজমানুষের জন্য অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্প্রসারিত করে। ক্ষতিকর অংশগুলোকে পরিহার করে তার নাগরিকের সবল সংস্কৃতির জোরে। কিন্তু কোনো মত যদি প্রকাশযোগ্য হওয়ার পরিস্থিতি থেকে অবরুদ্ধতার মধ্যে ফেলা হয়, তা হলে সমাজ শুকিয়ে মেধাশূন্য হয়ে যেতে থাকে। যে কারণে অনেক দেশ যাদের উপলব্ধি হচ্ছে ভূখ-গত স্বাধীনতাই মুক্তি তারা এরূপ অবরুদ্ধতার মধ্যে পড়ে। প্রকৃত স্বাধীনতা এবং তার মধ্যের মুক্তির প্রশ্নটি যে কী, তার অনুসন্ধানক্রিয়া থেকে তার নাগরিকরা বিচ্যুতও হয়ে যায়।

বাস্তবতা হলো রাষ্ট্রিক সমাজ মানুষকে চিন্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে যতই অবরোধ তৈরি করুক না কেন, মানুষ কিন্তু চিন্তা করে। যতক্ষণ এই চিন্তা ভাষার আকার না পায়, যতক্ষণ তা ব্যক্তির মধ্যেই ভাবনার গ-িতে রুদ্ধ হয়ে থকে, ততক্ষণই জনশক্তির অবদমিত মনোভূমিতে সে বিচরণ করে এবং বহু ভাবনা যা ব্যক্তির যা কল্যাণের, যা বিচক্ষণতার একাগ্রতায় সমাজবন্ধনে যোগ্য- তা আর প্রকাশ পায় না। বরং অবদমনের ফলে ভাবনা বিকৃতির সূত্রপাত ঘটে। বিকলাঙ্গ হয় জন শক্তি। ধীরে ধীরে পুরো সমাজটাই হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়। ‘ভাবুক যদি তার চিন্তা-ভাবনা অপরকে জানাতে না পারে তা হলে তা হয় তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক এবং অতি অতুষ্টিকর।’

আসলে তো কোনো চিন্তাই কেবল প্রকাশের সুযোগের অভাবে ভাবনার মধ্যে থাকলেও রাষ্ট্রের শাসনের নানা পদ্ধতির প্রকাশ্যতার মধ্য দিয়ে সেই সব চিন্তার কোনো কোনো অংশ নানাভাবে প্রকাশ্য হয়ে পড়ে, এটাই হলো মানুষের নীরবতার মধ্যে ভাষাতরঙ্গের সখ্য। এমনি সংক্রমণ সমাজ রাষ্ট্রে হরহামেশা ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু বিজ্ঞ ক্ষমতা তা অনুভব করতে পারছে না। যা-ই হোক, স্বাধীনতা হলো চিন্তার স্বাধীনতা এবং সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকাশেরও।

এর মধ্য দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং গ্রহণ বর্জনের প্রশিক্ষণ পায়। যেখানে রাষ্ট্র শক্তির ভূমিকাটা হলো ন্যায্যতার, অভিভাবকত্বের, কোনো মতেই দমন-পীড়নের নয়; কারণ রাষ্ট্রটা কতিপয়ের নয়  সামগ্রিকÑ জনমানুষের। তারাই একে নির্মাণ করে, জীবনমূল্য দেয়, প্রয়োজনে অতিমূল্যে তা রক্ষা করে। 
॥ তিন ॥
স্বাধীনতা যেমন ভূখ-গত সীমারেখার সঙ্কীর্ণতায় অর্থবহ নয়; তেমনি স্বাধীনতা ব্যক্তির কোনো প্রকাশে রাষ্ট্রবিরোধী অসঙ্গত আচরণ কিংবা অন্যের ক্ষতির উপাদান-উপায় ও নয়। কেউ যদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ববিরোধী কার্য-কর্মে লিপ্ত হয়, কারও মত প্রকাশ কিংবা প্রকাশ উপাদান যদি বিকৃত হয়, সমাজ নিয়মরীতিকে কলুষিত করে, ঐতিহ্যকে আক্রমণ করে, কিংবা কারও ন্যায়সঙ্গত অবস্থানকে সমাজে ইচ্ছাকৃতভাবে হেয় করে এবং রাষ্ট্রের স্থিতির জন্য ক্ষতিকারক হয়, কিংবা ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিংবা মত প্রকাশের মধ্যে এমন গুপ্ততা লুকায়িত থাকে যে তার দ্বারা সমাজের সুদীর্ঘ সময়ের মূল্যবান ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা হলে রাষ্ট্রের ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায্যতা সংরক্ষণ কর্তব্য অপ্রত্যাশিত হবে না।  সে ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিকার থাকে তাকে দমন করা এবং ওই সব প্রকাশকে অপসারিত করা। সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক বিষয়গুলো যাতে বিকৃত না হয় তার সুরক্ষা দেওয়া।
ক্ষমতা চাইলেও মানুষের চিন্তাকে রুদ্ধ করতে পারে না। কারণ চিন্তা মানব শরীর সংগঠনের একটি নিরবছিন্ন স্বাধীন প্রকৃয়া। কেবলমাত্র প্রকাশ্য মত ও চিন্তারূপের ওপর রাষ্ট্র হামলে পড়তে পারে না। কিন্তু যদি প্রাকশ্য না হয় তা হলে কি চিন্তা¯্রােত মিলিয়ে যায়? যায় না। বরং অবদমিত হয়ে তার ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ কখনো কখনো আমাদের দেখার বিষয় হয়ে ওঠে। অয়নীয়া এবং অথেন্সে স্বাধীন চিন্তার বিস্তার যখন শুরু হয়েছিল তখন সেই প্রাচীন রাষ্ট্র বহু মূল্যবান বিষয়-আশয় মানবসভ্যতার অগ্রগামিতায় উপস্থিত করতে পেরেছিল। তার পরও প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি বহু চিন্তাবিদ, দার্শনিক, কবি সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ  বহুবুদ্ধিবৃত্তিক মানুষকে জীবনমূল্য দিতে হয়েছে, হচ্ছে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রকাশ স্বাধীনতায় বৈরী হওয়ার কারণে। থমকে গেছে সভ্যতা অগ্রসরের অভিজ্ঞতা যা পুনরুদ্ধার করতে পরবর্তী মানুষকে শত শত বছর অপেক্ষাই করতে হয়েছে।

যে কোনো নতুন চিন্তার প্রকাশ যেমন ক্ষমতাকে অস্থির করে তার স্বার্থের কারণে তেমনি তা ধর্মান্ধতার কোপানলেও পড়ে পুরোহিতদের অলস ভোগ ইচ্ছার কারণে। এসবের মূল কারণ চিন্তার স্বাধীনতা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অনুপস্থিত থাকা। কেবলমাত্র স্বাধীনতা আছে বলার, শোনার, জানার এই নীতিকথা ক্ষমতার মুখে উচ্চারিত হলেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয় না, মুক্তিও আসে না। বাস্তবে মতপ্রকাশে ক্ষমতাকেন্দ্রকে উৎসাহ জোগাতে হয় তার নিজের ত্রুটিগুলোও জানতে এবং বুঝতে।

প্রকাশ নানা মানুষ তার স্ব-স্ব অবস্থানের মাপকাঠিতে ঘটায়, এটাই দস্তুর। যারা রাজনীতি করেন তারা রাজনীতির মূল কেন্দ্র পরিচালনায় তাদের চিন্তাকে প্রকাশ করেন। যারা উদ্ভাবনে কাজ করেন তারা তাদের উদ্ভাবনে চিন্তা কাঠামোকে উপস্থাপন করেন, যারা শিল্পী-কবি-সাহিত্যিক তারা তাদের সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে তার মত ও পথের চিন্তাকে প্রকাশ করেন। এই প্রকাশের যৌক্তিক দিক গ্রহণযোগ্যতা আলোচনা/সমালোচনার মধ্যে, আর এতে উমেদার চটকদারদের ভিড়ও কমে।

কিন্তু ক্ষমতা তার রুচি অভ্যেসে যদি মানুষের প্রকাশকে রুদ্ধ করে এবং নানাভাবে তার দমন প্রস্তুতিতে মগ্ন হয়, তখনই শুরু চিন্তার বিকৃতি, উগ্র মতের উপস্থিতি। দমন যত কঠিন হয়, উপসর্গ তত বাড়ে। এমনও ঘটে যায় যে ভৌগোলিক স্বাধীনতাটুকু অন্যের আঁটুনিতে হাঁসফাঁস করতে থাকে। কিন্তু তার পরও স্বাধীনতা/চিন্তার স্বাধীনতা অর্জনে মানুষকে কত জীবনমূল্য দিয়ে যেতে হচ্ছে হয় একটা শুভ সকাল প্রত্যাশায়। 
 
লেখক : কবি

×