১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তু প্রদর্শনের জন্য ঢাকা চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭১ সালে হাইকোর্ট চত্বর থেকে মিরপুরে চিড়িয়াখানা স্থানান্তর করা হয়। মিরপুরের তুরাগ নদীর তীরে ১৮৬.৬০ একর জায়গার ওপর ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। দর্শনার্থীদের জন্য ১৯৭৪ সালে এটি উন্মুক্ত করা হয়। এখানে ১৬৫ প্রজাতির মাংসাশি, তৃণভোজী, ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, পাখি ও ফিস এ্যাকুরিয়ামের প্রাণী রয়েছে।
মিরপুর চিড়িয়াখানাতে সর্বমোট ২ হাজার প্রাণী রয়েছে। প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় সিংহ, চিতা বাঘ, কালো ভাল্লুক, ভারতীয় সিংহ, হাতি, ঘোড়া, গরু, জলহস্তি, গ-ার, হরিণ, বনরুই, ভাল্লুক, বানর, সিম্পাঞ্জি, জিরাফ, জেব্রা, মায়াহরিণ, চিত্রাহরিণ, রেসাস বানর, উল্লুক, অজগর, কুমির, সজার, লোনা পানির কুমির, সংকনী সাপ, গোখরা সাপ, সবুজ কেড়া সাপ, সবুজ কচ্ছপ, মদন টাক, ময়না, টিয়া, বক, ময়ূর, চিল, শকুন, শালিক, টিয়া, এমুপাখি, উটপাখি, কানিবক, গোবক, সাদা ময়ূর, ফ্লামিংগো, কাও ধনেশ, গোল্ড ফিস, চিতল ফিস, ফালি ফিস, তিমির কঙ্কাল, ডলফিন এবং সৌল ফিস অন্যতম। এছাড়া চিড়িয়াখানার ভেতরে অতিথি পাখি ও মাছের জন্য ২টি লেক রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় সাহসী এক অধ্যায় এদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজ উদ দৌলার পরাজয়ের পর ১৭৫৭-১৯৭১ দীর্ঘ এই দুই শতকে বহু বীর বহুবার স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, লড়াই করেছে, শহীদ হয়েছে। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ জাতি বিজয় ছিনিয়ে আনে, পূরণ হয় দুই শতকের স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেসব সংগ্রামের সাহসী কাহিনী তথ্য চিত্র, আলোকচিত্র এবং ইতিহাসের নানা স্মারকের সমন্বয়ে গড়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আটজন ট্রাস্টি উদ্যোগে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ সেগুনবাগিচার একটি সাবেকী ভবনের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। এই জাদুঘর জাতির গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্তির মাধ্যমে বিকশিত সমাজ গঠনে প্রেরণা সঞ্চারে সচেষ্ট রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
বাংলাদেশর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা নিদর্শন জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। প্রাচীন যুগ থেকে আজকের বাংলাদেশ যতগুলো সিড়ি পার করেছে তার সবকটির চিহ্ন ধরে রেখেছে জাতীয় জাদুঘর। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং তা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণা কাজে নিয়োজিত রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমে ঢাকা জাদুঘর নামে আত্মপ্রকাশ করে আজকের জাতীয় জাদুঘর। ১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একটি কক্ষে এর উদ্বোধন করেন তদানিন্তন বাংলার গবর্নর লর্ড কার মাইকেল। ১৯৭০ পাকিস্তান সরকার ঢাকা জাদুঘর কমিটির পরিবর্তে ঢাকা জাদুঘর প্রযতœ বোর্ড অধ্যাদেশ জারি করে একে সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় রূপ দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৩ সালে ঢাকা জাদুঘরকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত। রাজধানী ঢাকার শাহাবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এর অবস্থান।

