ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১

নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙলের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

​​​​​​​এমরানুল হক চৌধুরী,  সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙলের  লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

.

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জ- (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে নিয়ে সক্রিয়। অন্যদিকে বিএনপি রয়েছে হাইকমান্ডে সিগন্যালের অপেক্ষায়।

বড় দুই দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনে মধ্যস্বত্ব¡ভোগী। জাতীয় পার্টি গত দুবারের মতো আগামী দ্বাদশ নির্বাচনেও লাঙলের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয়। মহাজোটের শরিক এই দলটিকে আসনে এগিয়ে রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে না এলে নৌকা লাঙলের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এমনকি কেউ কেউ বলছেন বিএনপি নির্বাচনে এলেও এখানে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ হতে পারে।

জানা যায়, এই আসনে গেল দুই মেয়াদে এমপি হয়েছেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্। এই আসনে সাবেক এমপি আব্দুল মজিদের ছেলে নাজমুল হুদা হিমেলও লাঙল  প্রতীকে নির্বাচন করার জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার বাবার অবহেলিত নেতাকর্মীদের চাপে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চার নেতা এই  আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় ধরনের নির্বাচনী শোডাউন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ এই আসনের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে কাজ করছেন।

সুনামগঞ্জ- আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৪৪ হাজার ৪০৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮১ এবং মহিলা এক লাখ ৬৯ হাজার ৬২৪ জন। গত দুটি নির্বাচনে এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্। ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হবার আগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ওই সময় রাজনীতি আইন পেশার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়। বিএনপি নেতা ফজলুল হক আছপিয়াকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেবার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন।

কিছুদিন আগে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে শহরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের উদ্যোগে শহরে বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলে থাকা হাজারও নেতাকর্মীকে নৌকা নৌকা স্লেøাগান দিতে দেখা গেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, বিগত জেলা কমিটির নেতারাসহ সবাই আমার সঙ্গে রয়েছেন এবং থাকবেন আশা করছি। বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক শুভানুধ্যায়ীরা বর্তমান সরকারের উন্নয়নের গণমিছিলে ভাড়াটিয়া প্রার্থী নয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী চায় তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ব্যারিস্টার ইমন বলেন, ‘নেত্রী আমাকে গত নির্বাচনে সুনামগঞ্জ- আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমি এবারও সুনামগঞ্জ- আসনে প্রচার চালাচ্ছি। নেতাকর্মীরাও আসনে জাতীয় পার্টি নয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে আসছে।

জেলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এই আসনে মনোনয়ন দৌঁড়ে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটও।

অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নোমান বখ্ত পলিনও সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন এই আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। নোমান বখ্ত পলিন বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ছাড়াও গণসংযোগে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার চেষ্টা করব। মনোনয়ন চাইব, দলীয় সভানেত্রী আমাকে বিবেচনায় নিলে ভোটারের কাছে ভোট চাইতে যাব। মনোনয়ন না পেলে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে মাঠে থাকব।

এই আসনের সাবেক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আগামী নির্বাচনেও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আসনে দলকে চাঙা করতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় গণমিছিল করব। সুনামগঞ্জ- আসন শুরু কাঠইড় থেকে, ওখান থেকেই আমাদের শোডাউন শুরু হবে। শেষ হবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে গিয়ে।

এদিকে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সদরের এই আসনে নির্বাচনের মাঠ গরম রাখার চেষ্টা করছে বিএনপিও। মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজার প্রপুত্র সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য। তার অনুসারীরা বলছেন, তিনি সদর উপজেলার চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তার রয়েছে পারিবারিক প্রভাব ক্লিন ইমেজ। ধানের শীষ মার্কার বড় দাবিদার তিনি। বিএনপি নির্বাচনে গেলে এবং দল তাকে মূল্যায়ন করলে কেবল তাকে দিয়েই এই সদর আসন পুনরুদ্ধার সম্ভব।

অপরদিকে প্রয়াত সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া বলয়ে একাধিক প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের জন্য তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তালিকায় আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, প্রয়াত আছপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আবিদুল হক। জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিগতদিনে বর্তমান সময়ের রাজপথের সম্মুখ সমরে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল। তারা দল থেকে নুরুল ইসলামকেই চাইবেন ধানের শীষ প্রতীকে।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেরনুর আলী বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী গণমানুষের আস্থা ভরসার রাজনৈতিক সংগঠন। এই বিশাল নেতৃত্বের ভিড়ে দলে প্রতিযোগিতা আছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। তবে দলে কোনো বলয় বা গ্রুপিং নেই। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল নির্বাচনে এলে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ যিনিই পাবেন, আমরা তার পক্ষেই থাকব। ধানের শীষের বাইরে এই দল থেকে কারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

×