ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মানসিক হাসপাতাল

প্রকাশিত: ২১:১৬, ১৩ মার্চ ২০২৬

মানসিক হাসপাতাল

রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের বেডে রক্তমাখা দাগ ও ছারপোকার উপদ্রব দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। হাসপাতালের নাজুক পরিবেশ দেখে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ছারপোকার পেটভর্তি রক্ত, রোগীরা ঘুমাবে কীভাবে? রোগীর স্বজনরা বলেন, রোগীর সঙ্গে যারা হাসপাতালে থাকেন, তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েন এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। তেলাপোকা ও ছারপোকার কারণে খাবারও নষ্ট হয়ে যায়। আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেব হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের কাছে জানতে চাওয়ার আগ্রহের বিষয়টিকে। এটি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। তবে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এটি একটি সামান্য দিক মাত্র। হাসপাতালের বেড এবং খাওয়ার মান নিয়ে বাগাড়ম্বর করা সহজ। রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা, ডাক্তারদের সময়মতো পাওয়া যায় কিনা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের স্টাফরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন কিনা, এ সবকিছুই খতিয়ে দেখা দরকার। রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দান বড় একটি বিষয়। সেখানে ওষুধ প্রাপ্তির বিষয়টিও চলে আসে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনতে হয়। বাইরে ওষুধের দাম নাগালের বাইরে। এসবই বাস্তবতা। 
আসা যাক মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে। যেহেতু মন্ত্রীমহোদয় সেখানে আগে গেছেন। গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ৩ কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ মানুষই চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ দশমিক ৪ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৩ ভাগ শিশু-কিশোর মানসিক রোগে আক্রান্ত, যা মোট সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৩ কোটি। এই বিশালসংখ্যক মানুষের জন্য উন্নত ও সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত তারাও অজ্ঞতা, ভ্রান্তধারণা, ভীতি, লোকলজ্জা ও বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে মানসিক রোগের বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পরিবর্তে অপ্রচলিত অবৈজ্ঞানিক অচিকিৎসা গ্রহণ করছেন। ফলে মানসিক রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আরও জটিল আকার ধারণ করছে। অথচ আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে মানসিক রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। মানসিক স্বাস্থ্যে যে নীরব সংকট চলছে তা দূর করতে হবে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে। সেইসঙ্গে মানসিকভাবে যারা স্বাস্থ্যসমস্যার শিকার, তাদের নিজেদেরও অনুধাবন করতে হবে যে, তার চিকিৎসা জরুরি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার এ দিকগুলো নতুন করে পর্যবেক্ষণ করে গ্রহণ করতে হবে সুপরিকল্পনা।  
ওষুধের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় একমাত্র উচ্চবিত্ত শ্রেণি ছাড়া সবার ক্ষেত্রেই যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা গ্রহণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দেশে সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুগম করা যায়নি, এটি বাস্তবতা। বর্তমানে স্বাস্থ্য ব্যয়ের তিন-চতুর্থাংশ বহন করছেন ব্যক্তি নিজেই। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য এটি ভাবনার বিষয়। স্বাস্থ্য খাতে শুধু বাজেট বাড়িয়ে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর জন্যে প্রয়োজন প্রধানত ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ।

প্যানেল/মো.

×