ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইনার সার্কুলার রিং রোড

-

প্রকাশিত: ২১:১০, ২৭ মে ২০২৪

ইনার সার্কুলার রিং রোড

সম্পাদকীয়

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একইসঙ্গে চারটি বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীসহ দেশবাসী এসবের প্রভূত সুফল ভোগ করবে। এর পাশাপাশি গতি আসবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে। প্রকল্পগুলো হলো- বঙ্গবাজার নগর পাইকারি বিপণি বিতান, পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে রায়েরবাজার স্লুইসগেট পর্যন্ত আটলেনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ ফজলুল মনি সড়ক, ধানমণ্ডি লেকে নজরুল সরোবর এবং শাহবাগে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কৃষি উদ্যানের আধুনিকীকরণ।

দ্বিমতের অবকাশ নেই যে, চারটি প্রকল্পই  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এর ফলে, রাজধানী হিসেবে ঢাকার সৌন্দর্য সমধিক বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি ঢাকা তথা দেশবাসী পাবে একটি আধুনিক যানজটমুক্ত বাসোপযোগী মনোরম রাজধানী। এই চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
তবে রাজধানীর যানজট নিরসনে সর্বাধিক গুরুত্ব পেতে পারে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজ থেকে রায়েরবাজার স্লুইসগেট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ আটলেনের সড়কটি। এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৩১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পটি অনুমোদন করে।

এটি জুন ২০২৬ সালে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত। দ্বিতীয় পর্যায়ে কামরাঙ্গিরচর লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সাভার, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, গাজীপুরসহ এই সড়ক ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত হবে সহজ ও উন্নত। এর ফলে রাজধানীর যানজট হ্রাস পাবে বহুলাংশে। প্রকল্পের আওতায় রায়েরবাজার স্লুইসগেট থেকে লোহার ব্রিজ পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে পাঁচ কিলোমিটার আটলেনের সড়ক।

এছাড়াও তিনটি ওভারপাস, তিনটি ফুটওভার ব্রিজ, দশ কিলোমিটার ড্রেন, দশ কিলোমিটার হাঁটার পথ, যাত্রী ছাউনিসহ তিনটি বাস-বে এবং দুই কিলোমিটার দেওয়াল নির্মাণ করা হবে। এর ফলে, ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি প্রসারিত হবে অর্থনৈতিক কর্মকা-, ব্যবসা-বাণিজ্য। সহজ হবে পণ্য পরিবহন। সর্বোপরি নিরসন হবে যানজট। ফলে, উন্নত ও আধুনিক হবে মানুষের জীবনযাপন এবং আর্থসামাজিক অবস্থা। 
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি প্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে। তবে প্রতিদিন ২১ জেলার যানবাহন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে যাত্রাবাড়ী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে থাকে ঢাকা মহানগরীতে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৬টি জেলার যানবাহনও যাত্রাবাড়ী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে ঢাকায়।

ফলে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রতিদিন প্রচণ্ড যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। ঈদ উৎসবে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে, সর্বস্তরের নাগরিকের বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। অপচয় হচ্ছে জ্বালানির। ইনার সার্কুলার রিং রোড সড়কটি ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ ৩৭ জেলার যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ না করে উত্তরাঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবে সহজেই।

সে অবস্থায় যত তাড়াতাড়ি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষকে। মনে রাখতে হবে যে, দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ তথা দীর্ঘসূত্রতাসহ ব্যয় বৃদ্ধির বহু নজির রয়েছে। যে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার সতর্ক করেছেন দেশবাসীকে। এক্ষেত্রে এমনটি ঘটবে না বলেই প্রত্যাশা।

×