ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়

-

প্রকাশিত: ২০:২৯, ১৮ মে ২০২৪

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়

সম্পাদকীয়

একুশ শতকের অন্যতম চ্যালেঞ্জ জলবায়ু সংকট। মানবসৃষ্ট কারণগুলো জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটাচ্ছে দ্রুত। সেসবের মধ্যে কলকারখানা, যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস, কয়লা পোড়ানো, ইটভাঁটির ধোঁয়া, গাছ কাটা ইত্যাদি অন্যতম। ফলে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দুই মেরুর বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের, যা উদ্বেগজনক।

সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দেখা দিচ্ছে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগ, যার  বিরূপ প্রভাব পড়ছে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর।  
বর্তমানে বিশ্বের দুর্যোগপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ছে বেশি। শীতকালের স্থায়িত্ব কমে যাওয়ায় অনুকূল তাপমাত্রার অভাব এবং অধিক শৈত্যপ্রবাহের ফলে রবিশস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়াও ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির সমূহ কারণ।

এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্রতিবছর দুর্যোগে গড়ে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় দুই শতাংশ সমপরিমাণ কমে যায়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় দুই কোটি মানুষ খাবার পানিতে লবণাক্ততার সমস্যায় পড়েছেন। তাতে বিপর্যস্ত হচ্ছে তাদের জীবন ও জীবিকা। এই অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিপর্যয়কে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ংকর অপ্রথাগত হুমকি বলে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 
জলবায়ু পরিবর্তন পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোতে অধিক মাত্রায় প্রভাব ফেলছে। কাজেই এর প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। কেননা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা প্রায় অসম্ভব। সম্প্রতি পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, উন্নত বিশ্বকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

মূল সমস্যা কার্বন নিঃসরণ কমানো। কিন্তু সেটি উন্নত দেশগুলো করছে না। বিশ্ব যেভাবে চলছে, তাতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব হয়তো সহসাই এড়ানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অশুভ কিছু ঘটার আগেই আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। বেঁচে থাকার উপযোগী বিশ্ব গঠনে গাফিলতির সুযোগ নেই। সকলের পরিবেশ সচেতন হওয়ার সময় এখনই।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের উচিত- বনাঞ্চল ধ্বংস না করে বাড়ির চারদিকে, রাস্তার পাশে, রেললাইনের দুই ধারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস) এর ব্যবহার কমানো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব ও করণীয় দিকগুলো নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সভা, সেমিনার আয়োজন করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে মুজিব প্রস্পারেটিভ প্ল্যান (২০২২-২০৪১) এর আওতায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছেন। ভবিষ্যতে সুন্দর পৃথিবী নির্মাণে জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার আরও বেশি সচেষ্ট হবে- এটাই প্রত্যাশা।

×