ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

স্বাধীনতার মাস

-

প্রকাশিত: ২০:৩৪, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

স্বাধীনতার মাস

সম্পাদকীয়

স্বাধীনতার মাস মার্চ। আমাদের কাছে রক্তঝরা মার্চ মাসের রয়েছে এক অন্যরকম আবেদন। এটি অগ্নিঝরা ইতিহাসের মাস, বিষাদ ও বেদনার মাস। এই মাসের ২৫ তারিখ থেকে লেখা শুরু হয়েছিল এক অমর মহাকাব্য- যার নাম বাংলাদেশ। বাঙালির জীবনে ভাষা আন্দোলনের স্মারক মাস ফেব্রুয়ারির পর মার্চের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় এই মার্চেই। একাত্তরের গোটা মার্চ মাসই ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে এগোচ্ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যায় মার্চেই।

১৯৭১-এর ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই বজ্রনিনাদ ঘোষণার পরই এ দেশের মানুষের বুঝতে বাকি রইল না যে, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে আর দেরি নেই। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। শত্রুর মোকাবিলা করার নির্দেশও ঘোষিত হয় তাঁর বজ্রকণ্ঠে।
পাকিস্তানের শোষণ, নির্যাতন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতি স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ হয়েছিল। এ দেশের তরুণ-তরুণী, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সেদিন এই একটি কণ্ঠের মন্ত্রমুগ্ধে আবিষ্ট হয়ে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য যার যার মতো করে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। স্বাধীনতা এবং মুক্তির ঐকতানে এক হয় জাতি। এরই মধ্যে নানা কূটকৌশল চালাতে থাকে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও শাসকগোষ্ঠী। প্রথমেই তারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে।

সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার নামে করতে থাকে সময়ক্ষেপণ। এভাবেই আসে ২৫ মার্চের কালরাত্রি। পাকবাহিনী ভারি অস্ত্র, কামান, সাঁজোয়া যান, ট্যাঙ্ক নিয়ে অপারেশন সার্চলাইট নামে এ দেশের ছাত্র, জনতাসহ নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মেতে ওঠে নির্মম হত্যাযজ্ঞে। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, শাঁখারীবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ভয়ঙ্কর নৃশংস হামলা চালায় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে গোটা জাতি। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। অসীম ত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান বাঙালিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র দিয়েছে। সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাঙালি তার মুক্তির সংগ্রামে জয়ী হয়।
আজ পহেলা মার্চ। জাতির কাছে মার্চ মাস এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উদ্গিরণকারী মাস। এই মাসেই জাতি তার চেতনাকে নতুন করে শাণিত করে। বলীয়ান হয় নতুন শপথে। অত্যাচার, নিপীড়ন আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্মারক মাস হিসেবে মার্চ প্রতিবারই আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। এ বছর স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্ণ হবে। আমরা আজকের দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই বীর শহীদদের, যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের মূল্যবান জীবন দান করে প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।

×