ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

অস্ট্রেলিয়াই সেরা

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ২০ নভেম্বর ২০২৩

অস্ট্রেলিয়াই সেরা

সম্পাদকীয়

বিশ^কাপ ক্রিকেটে গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজেয় থাকা ভারতকে হারিয়ে ফাইনাল-মঞ্চে কৌশলী ও দারুণ লড়াকু অস্ট্রেলিয়াই চ্যাম্পিয়নÑ এ খবর দুনিয়ার তাবড় ক্রিকেটপ্রেমীদের জানা। জিতলে হাসি, হারলে কান্না। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভেঙে পড়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে নিজ দেশে নিজেদের মাঠে বিশ^কাপের সবকয়টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডোবা! -এ ভীষণ কষ্টের। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা হেসেছে বিজয়ীর হাসি, যাদের সূচনা ছিল জোড়া হার দিয়ে। একেই বলে অনিশ্চয়তার খেলা।

তবে এবার বিশ^কাপের আসরটি জন্ম দিয়ে গেছে অনেক উপাখ্যানের, যা কল্পকাহিনীকেও যেন হার মানায়। ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। ভারতের সেরা ব্যাটার কোহলি ভেঙে দিয়েছেন শচীনের রেকর্ড, সেঞ্চুরির হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। তার হাতে বড়ই মানানসই হতো চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা। শেষরক্ষা হলো না। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনেই কিছুটা বাজেভাবে হেরে গেল ভারত। 
উপমহাদেশে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজিত হলো। তবে এবারই প্রথম ভারত এককভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব লাভ করেছিল। উপমহাদেশে ক্রিকেট উন্মাদনা সম্পর্কে পুরো বিশ্বই অবগত। এর আগে তিনবার সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ভারত নিজেদের প্রমাণ করেছে। দেড় মাস আগে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর্দা উঠছিল। দেশটিতে এর আগে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। সেবার অবশ্য ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছিল ভারত, মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।

চূড়ান্ত আধিপত্য বলতে যা বোঝায়, সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ভারতের পারফরম্যান্স ছিল সে রকমই। শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপের প্রতিটি পরীক্ষায় ভারত যেন ছিল শীর্ষে। কিন্তু ফাইনালের রাতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কাছে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিকেরা। জয়ের ধরনের কারণেই হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফি অস্ট্রেলিয়ার হাতেই বেশি মানাচ্ছে।

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা হাফ ভলি দেননি, শর্ট লেংথে বল করলেও গতি কমিয়ে এনেছেন। বিরাট কোহলির আউটেও দারুণ পরিকল্পনা ও সঠিক বাস্তবায়ন ছিল। অস্ট্রেলিয়া উইকেট ভালোভাবে বুঝেছে, পরিকল্পনা ছিল চমৎকার। উইকেট মন্থর বলে বাড়তি পেসার খেলায়নি। চার বোলার নিয়েই চ্যাম্পিয়ন তারা! প্রথম ম্যাচেই ভারতের কাছে হার ছয় উইকেটে, পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার ১৩৪ রানে। এমন বাজেভাবে বিশ্বকাপ শুরু করা অস্ট্রেলিয়াই সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন উইকেট আর ফাইনালে ভারতকে ছয় উইকেটে হারিয়ে আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন! তাই তাদের সেরা বলতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা প্যাট কামিন্স হাসতে হাসতেই বললেন, ‘সেরাটা শেষের জন্য জমিয়ে রেখেছিলাম।’ ৯ ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়া কামিন্সই সেমিফাইনালে নিয়েছেন ৫১ রানে তিন উইকেট, ফাইনালে ৩৪ রানে দুই উইকেট। ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভার বল করে একটিও বাউন্ডারি হজম করেননি। এবারের বিশ্বকাপে পুরো ১০ ওভার বোলিং করে একটি বাউন্ডারি হজম না করা বোলার আছেন আটজন, কিন্তু কামিন্সই পেসারদের মধ্যে প্রথম। ঠান্ডা মাথার বিচক্ষণ অধিনায়ক হিসেবে সুদর্শন কামিন্স ইতিহাসে স্থান পেলেন। অন্যপক্ষে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর গত ১০ বছর ধরে ভারতের তো ঘুরেফিরে সেই একই গল্প। নকআউট ম্যাচে নকআউট হয়ে যাওয়া! যা হোক, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই জিতেছে, এতে কোনো সংশয় নেই।

×