ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ২৩:০০, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

.

২০২২ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৭ জন স্কুল এবং কলেজগামী শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এমন একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায়। আঁচল ফাউন্ডেশনের তরুণ গবেষক দল দেশের দেড়-শতাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহননের তথ্য সংগ্রহ করে সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনেই থাকে এক বা একাধিক হন্তারক; অর্থাৎ ব্যক্তি ও পরিস্থিতি। তাই শুধু আত্মহত্যাকারী কিংবা আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকারীকে দোষারোপ করা সমীচীন নয়। মনোবিদরা বলেন, আত্মহত্যা প্রবণতা একটি অসুস্থতা। অনেকেরই এটি থাকে। তবে তারা কোনো না কোনো উপায়ে কাউকে না কাউকে আগেভাগেই তার বাসনার কথা জানিয়ে রাখে। ফলে, সচেতন স্বজন উদ্যোগী হলে এই অপমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমাজ হলো এবসার্ড, আনপ্রেডিক্টেবল, উদ্ভট, চরম নিষ্ঠুর এক সমাজ। এখানে সুন্দর মনের মৃত্যু ঘটছে অহরহ। তাই দৈহিক মৃত্যু থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিরন্তর সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলতে হয়। তবে মেফিস্টোফেলিস তথা শয়তানদের কূট চাল থেকে অনেক সময় নিজেকে বাঁচাতে পারেন না অতিসংবেদনশীল মানুষ।
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা মোকাবিলায় ফাউন্ডেশনটি যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছে, তার কোনোটিই নতুন কিছু নয়। এসব বিষয় নানা সময়েই আলোচিত হয়ে থাকে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এখন কাজ শুরু করা চাই। হতাশা, একাকিত্ব ও নেতিবাচক ভাবনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি করার বিকল্প নেই। সন্তানদের মানসিক বিকাশ এবং তাদের সহানুভূতির সঙ্গে শুনতে ও বুঝতে অভিভাবকদের জন্য প্যারেন্টিং কার্যক্রম চালু সময়ের দাবি। প্রেম-প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে বা অজ্ঞাতসারে ধারণ করা গোপন ছবি, ভিডিও ইত্যাদি প্রচার তথা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ ও সাইবার ক্রাইমের বিষয়ে শাস্তি উল্লেখপূর্বক বিশেষ প্রচারণাভিযান পরিচালনা করার প্রস্তাবনাটি বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ছাত্রীদের আত্মহত্যার হার বেশি।

এ থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অল্পবয়সী মেয়েরাও সমাজে বিপন্নতার শিকার এবং তারা জীবনের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তরুণদের সামান্য মোবাইল ফোন কিংবা মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ার কারণে জীবন বিসর্জন দেওয়ার বিষয়টি থেকে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, সমাজে শ্রেণিবৈষম্য, সম্পদবৈষম্য মানুষের মনের গভীরে হতাশা ও বিরূপতা সৃষ্টি করছে। সন্তানরা যদি অনুধাবনে সক্ষম কিংবা তাদেরকে বোঝানো হয়, তাদের অভিভাবক আর্থিকভাবে এতটা সচ্ছল নন যে, সন্তানের শখের পেছনে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা কিংবা অভিভাবকের দায়ও কম নয়। সঠিক মূল্যবোধ তুলে ধরা, সামজিক শিক্ষাদান, পরোপকারী ব্রত কিংবা পরমতসহিষ্ণু হয়ে ওঠার কাজটি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব-কর্তব্য বিষয়েও আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বরাবরই এদেশে উপেক্ষিত। আর উপেক্ষা নয়। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়েও করণীয় ঠিক করা জরুরি।

 

×