ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যা

এনামুল হক শামীম

প্রকাশিত: ২০:৩১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যা

বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বাঙালীর আশার বাতিঘর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বাঙালীর আশার বাতিঘর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ঘর আলোকিত করেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুভ শুভ শুভ দিন, আজ বঙ্গবন্ধুর বীরকন্যার জন্মদিন, বাঙালীর আশার বাতিঘরের শুভ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী, আপনি শতায়ু হোন। দেশের জন্য আপনাকে প্রয়োজন। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে আমরা হারিয়েছি। সেই হারানোর অপূর্ণতা এই দেশ এই জাতি কখনও পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ১৭ কোটি বাঙালীর অভিভাবক হিসেবে আপনাকে সামনে রেখেই আমরা পথ চলছি সফলতার সঙ্গে।  
দেশ আজ আপনার হাত ধরে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিদেশীরা এখন বিনিয়োগের জন্য আমাদের পেছনে ঘুরছে। কারণ, আপনি বাংলাদেশকে সেই সক্ষমতার জায়গায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে পদ্মা সেতু নির্মাণে যে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে বিশ্বনেতারা আজ হতবাক। আজ সেই স্বপ্নের সেতু দৃশ্যমান। অর্থায়নে পিছপা হওয়া সেই বিশ্বব্যাংক আজ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে পদ্মা সেতুতে ঋণ না দেয়া তাদের ভুল ছিল। দেশের মানুষ যা স্বপ্নেও ভাবেনি- নদীর নিচে বঙ্গবন্ধু টানেল হবে এই বাংলাদেশে। অথচ আপনার হাত ধরে তা আজ বাস্তবায়নের পথে। শিক্ষা এবং চিকিৎসায় দেশ এগিয়েছে অনেকদূর।

বিনামূল্যে শিক্ষা তথা অবৈতনিক শিক্ষা আজ বুলি নয়, বাস্তবতা। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। কমেছে মাতৃমৃত্যুর হার। বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। ১০ টাকায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে কৃষকের জন্য খুলে দিয়েছেন এক নতুন জগত। মোবাইল ফোনকে এত সহজলভ্য করেছেন যে, ফসলের মাঠ থেকেই কৃষক জানতে পারে ফসলের মূল্য। ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য থেকে কৃষক আজ মুক্ত। ডিজিটাল টাকা যা ছিল শুধু উচ্চবিত্তদের এটিএম কার্ডে, আজ তা মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে।
উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে মহাকাশেও চলছে দেশের জয়যাত্রা আপনারই হাত ধরে। আমাদের গর্ব আমাদের অহঙ্কার ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-এর সাহায্য নিচ্ছে অন্যান্য অনেক দেশ। শুধু কি তাই! বিশাল সমুদ্রের নিরাপত্তায় মাথা উঁচু করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দু-দুটো সাবমেরিন। সেই হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশ আজ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আশ্রয়দাতা। শুধু তাই নয়, তাদের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসারও জোগানদাতা এই বাংলাদেশ। তাই আপনি মাদার অব হিউমিনিটি। সরকারী অর্থায়নে পাকাঘরসহ বাড়ি দিচ্ছেন ভূমিহীনদের। যা বিশ্বের নতুন নজির। তবে উন্নয়নের এই মহাসড়কের যাত্রাটা সব সময় কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। এসেছে অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি। এসব বাধা-বিপত্তিকে আপনি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন অদম্য সাহসিকতায়। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বাংলাদেশকে জঙ্গীরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার। আপনি সেই ষড়যন্ত্রের মুখে কুঠারাঘাত করেছেন। জঙ্গীর বংশকে করেছেন সমূলে নির্মূল।
রূপকথাকেও হার মানায় বঙ্গবন্ধুকন্যার জীবনগাথা। গল্পের দুঃখিনী রাজকন্যার দুঃখকষ্ট, রোমাঞ্চকর নানা ঘটনাও যেন ম্লান তাঁর জীবনকাহিনীর কাছে। তাঁর মা-বাবা, ভাইসহ নিকটাত্মীয়দের একই দিনে হত্যা করা হয়। নিজেও হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন অন্তত ২১ বার। খুব কাছ থেকে প্রিয় সহকর্মীদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন। অবৈধ শাসকের বিরোধিতা করতে গিয়ে বন্দীজীবন কাটিয়েছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার এক নিভৃত পল্লী থেকে উঠে এসে বাঙালী জাতিকে মুক্ত করেছিলেন পরাধীনতা থেকে। বাঙালীকে এনে দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশ। অথচ পিতার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় নিজ দেশে তিনি ফিরতে পারেননি। তাঁকে প্রতিবেশী একটি দেশে আশ্রিত জীবনযাপন করতে হয়েছে। এমন অসংখ্য ঘটনার অভিজ্ঞতায় পূর্ণ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন সংগ্রাম। তবে কোন কিছুই তাঁর পথচলাকে রুদ্ধ করতে পারেনি। দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।
বাংলার মানুষের কাছে রয়েছে তাঁর বহু পরিচয়। বিশ্বের মানুষ তাঁকে চেনেন বহু উপাধি ও উপনামে। কখনও তিনি জোয়ান অব আর্ক, কখনও তিনি মাদার অব হিউমিনিটি। আবার কখনও তিনি প্রাচ্যের নতুন তারকা। বিশ্ব সংস্থায় আবার তিনি পরিচিত শান্তি বৃক্ষ (পিস ট্রি) নতুবা চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ। কিন্তু এসব উপাধিকে ছাড়িয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর হাচু বা হাচিনা। আর বাঙালীর হৃদয়ে তিনি প্রোথিত হয়ে আছেন ‘শ্যাখের বেটি হাচিনা’ (শেখের বেটি হাসিনা) হয়ে, যা আর সব উপাধিকে নিঃসন্দেহে নিষ্প্রভ করে দিয়েছে। কিন্তু এই শেখের বেটির গল্পটি রচিত হয়েছে মাত্র কয়েক দশকে। কণ্টকাকীর্ণ এই রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর আবির্ভাবের কথা আমরা তাঁর মুখ থেকেই শুনতে পাই- ‘আমার ৭২ বছর জীবনের ৬০ বছরই কেটেছে রাজনীতিতে। স্কুল থেকে রাজনীতি শুরু করেছি, এখনও অব্যাহত। রাজনীতিতে কে কী করেছে অনেক ঘটনা নিজ চোখে দেখেছি।’
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়েই মূলত উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের এক অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের আগেই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার কাজও শুরু করেছেন। জাতির পিতার ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্য পূরণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন হচ্ছে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
শেখ হাসিনা আমাদের শিখিয়েছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে মাথা উঁচু করে কীভাবে পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সঠিক বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে হয়। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি কতটুকু দায়িত্ববান হলে নিজ দলের কোন নেতাকর্মী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও আপোসহীনভাবে কীভাবে আইনের আওতায় আনতে হয়, এটি একমাত্র উদাহরণ শেখ হাসিনাই। পাকিস্তানের জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে, বারবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে অধিকার বঞ্চিত বাঙালীদের যেভাবে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ঠিক তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই মানুষ তার অধিকার বঞ্চিত হবে, যেখানেই শোষণ আর নির্যাতনের শিকার হবে, নিষ্পেষিত হবে মানুষ আর মানবতা; সেখানেই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা- এই প্রত্যাশায় শুভ জন্মদিন।
একটি কাক্সিক্ষত স্বপ্ন নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তা পূরণ হয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে প্রচ- ধাক্কা ছিল। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা ফিরে না এলে ইতিহাসের স্বপ্ন ভঙ্গ হতো। জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিরে না এলে ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতো না। সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশের বাস্তবায়ন হতো না। তাকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। আসুন, শেখ হাসিনাকে আলোকবর্তিকা ধরে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করি।
লেখক : উপমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ

monarchmart
monarchmart

শীর্ষ সংবাদ:

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক জবির মাহাদী সেকেন্দার
আর্জেন্টিনা জিতলে বাংলাদেশও জেতে!
কলকাতায় শুরু হলো ১০ম বাংলাদেশ বইমেলা
বাংলাদেশিদের জন্য বাংলায় টুইট করছেন সেই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে উৎসবমুখর চট্টগ্রাম
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়নে ২৬৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
রাশিয়ার যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩ হাজার সৈন্য নিহত
খালেদা জিয়া তো মুক্ত, তাকে আবার কীভাবে জামিন দিব?
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে কাভার্ডভ্যান, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে লঘুচাপ, কমতে পারে তাপমাত্রা
শান্তি চুক্তির ২৫ বছর: সমস্যা ও উত্তরণের উপায়
চেয়ারম্যান পদে স্বামী-স্ত্রীর মনোনয়নপত্র দাখিল
বাঙ্গালি নিধনে পাকিস্তানিদের বিশ্বাসঘাতকতার উপাখ্যান
শিগগিরই মানব মস্তিষ্কে চিপ বসাবে নিউরালিংক