করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৯৩ লাখ কোটি টাকা থেকে ৭৪৮ লাখ কোটি টাকার সমান। সব মিলিয়ে এই ক্ষতির পরিমাণ বিশ্ব জিডিপির মোট (মোট দেশজ উৎপাদন) ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, এই পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবির হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার থেকে ২১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের মতো, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৮ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকার সমান। এই অঞ্চলে জিডিপি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইউরোপ-আমেরিকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমতে পারে ৭০০ কোটি ডলার। ইতোমধ্যে কোভিড-১৯-এর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিসহ জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ। সংস্থা দুটি ভয়াবহ মন্দার পূর্বাভাসও দিয়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসা আগামীতে হতে পারে দুঃসাধ্য।
করোনাভাইরাস কোভিড-১৯-এর অনিবার্য প্রভাবে পুরো অচল ও গতিহীন হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। উন্নত বিশ্বসহ করোনা আক্রান্ত ২১২টি দেশের প্রায় সর্বত্র চলছে লকডাউন। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুই প্রায় বন্ধ। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বরং সঙ্কুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সব মিলিয়ে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ভার্চুয়াল সভাও হয়েছে ইতোমধ্যে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা অনলাইনে অংশগ্রহণ করছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে, করোনা মোকাবেলায় বিশ্ব একযোগে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে এই মন্দার প্রভাব অব্যাহত থাকবে ২০২১ সালেও। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্ব এতটা খারাপ অবস্থায় আগে কখনও পড়েনি। বিশ্বমন্দা পরিস্থিতি নিয়ে ইতোপূর্বে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। তার আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যে পরিণত হতে চলেছে। বিশ্বমন্দার কফিনে সর্বশেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে করোনাভাইরাস, যা বর্তমানে চিহ্নিত কোভিড-১৯ অভিধায়। চীনের উহানে উদ্ভূত এই মারাত্মক ভাইরাসটি এর মধ্যে আক্রমণ করেছে প্রায় সমগ্র বিশ্বকে, যা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি বাংলাদেশও। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক, চামড়া, সুতাসহ নানা পণ্যের সরাসরি বাণিজ্য থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিও। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ ও পদ্ধতি বের করতে হবে বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দসহ অর্থনীতিবিদদের। এর পাশাপাশি ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে করোনার প্রতিষেধক ও টিকা আবিষ্কারে।







