ছুটির মেয়াদ বাড়ল আবারও। সপ্তম দফায় বাড়ানো সরকারী এই ছুটির মেয়াদ থাকবে ৩০ মে পর্যন্ত। এই ছুটির মেয়াদ আরও বাড়বে কিনা তা জানা যাবে সে সময়। তবে এই মুহূর্তে যেটি খবর তা হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারি- করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ থাকবে আজীবন। আগামীতে মানুষকে অন্যান্য রোগ-ব্যাধির মতো করোনাকে নিয়েই অতিবাহিত করতে হবে জীবনযাপন। কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধক আবিষ্কার এবং ব্যবহার হলেও পৃথিবী থেকে একেবারে নির্মূল হবে না ভাইরাসটি। অথবা আপাতত নির্মূল হলেও চীন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো মহাশক্তিধর দেশগুলো এক সময়ের ভয়াবহ মহামারীর জীবাণু গুটিবসন্তের মতো ল্যাবরেটরিতে বাঁচিয়ে রাখবে ভাইরাসটি আগামীতে কোন যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য। কারণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ যেন পারমাণবিক মরণাস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ, তীব্র ও ভয়ঙ্কর। কেননা, ভাইরাসটি কেবল মনুষ্য প্রাণ সংহারীই নয়, যে কোন দেশের অর্থনীতির চাকাকেও অচল করে দেয়। জীবন-জীবিকাকে করে তোলে হুমকির সম্মুখীন। কাজে কাজেই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, আপাতত এই ছুটিই হবে শেষ ছুটি, আগামীতে তা আর বাড়ানো হবে না।
তবে প্রতিদিন যেখানে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি সামনে চলে আসে অনিবার্য, সেখানে দীর্ঘমেয়াদে ছুটি তথা লকডাউন কোন সমাধান হতে পারে না। স্থায়ী সমাধান তো নয়ই। বাস্তবের প্রেক্ষাপটটি চিন্তা করেই সরকার পর্যায়ক্রমে লকডাউন ও বিধি-নিষেধ শিথিল করেছে অনেকটা। রফতানিমুখী পোশাক খাত ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। সুপার মার্কেট, দোকানপাটও খুলেছে ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে। তবে সর্বত্র সামাজিক দূরত্ব ও সুরক্ষা কতটা মানা হচ্ছে সেটা অবশ্যই প্রশ্নসাপেক্ষ। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ছোট একটি ভূখ-ে সেটি মেনে চলা কার্যত অসম্ভব। আসন্ন ঈদে সেই কর্মব্যস্ততা বাড়বে আরও বহুগুণ। প্রধানত সেদিকটি চিন্তা করেই এবার বাড়ানো হয়েছে ছুটির মেয়াদ। রাজধানীসহ সারাদেশের পরিস্থিতি বর্তমানে প্রায় স্বাভাবিক হলেও বাস-মিনিবাস-ট্রেন-লঞ্চ-স্টিমার ইত্যাদি চলছে না। ঈদ পর্যন্ত সরকার সে সব যানবাহন চলতে দিতে অনিচ্ছুক। যে কারণে এবারে ঈদের আগে চার দিন ও পরের দুইদিন অতি জরুরী সার্ভিস ব্যতিরেকে সবরকম গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে যানবাহন চলাচলে। তদুপরি এবার ঈদের ছুটিতে শ্রমজীবীসহ সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে। সত্যি বলতে কি এবারের ঈদ আসছে যেন অনেকটা নিরানন্দময় পরিবেশে। সর্বস্তরের মানুষ এটা কিভাবে গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সরকার অবশ্য বিশেষ করে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে যথাসম্ভব দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এক কোটি ওএমএস কার্ডের আওতায় অন্তত পাঁচ কোটি জনসংখ্যাকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলেছে রেশনিংয়ের আওতায়। ঈদের আগে দুই কোটি দরিদ্র মানুষকে দেয়া হয়েছে নগদ প্রণোদনার অর্থ। দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে দেয়া হচ্ছে নানাবিধ নিত্যপণ্য। এসব বাস্তবতা এবং জনহিতকর উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রায় সর্বস্তরের মানুষ পথে নামতে চায় ব্যক্তিগত আয়-উপার্জনের অনিবার্য তাগিদে। মানুষের এই ব্যক্তি উদ্যোগ ও আগ্রহের প্রশংসা করতেই হবে অকুণ্ঠচিত্তে। সরকার গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণাধীন বলা চলে। সংক্রমণ কিছু বাড়লেও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে কম। সে ক্ষেত্রে সতর্ক ও সাবধানতার বিকল্প নেই।







