ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ওপর দায়িত্ব অনেক। নগরবাসীর প্রত্যাশাও বিপুল। প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ভেতরের ব্যবধান থাকে সবসময়। তবে প্রাপ্তি ও স্বপ্নের ভেতর ব্যবধান কমানো সম্ভব যদি মেয়রসহ কাউন্সিলর এবং কর্পোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মী অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। যদিও কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মূল অধিনায়ক হিসেবে নগরবাসী সব প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি এবং ভোগান্তির জন্য দুই মেয়রকেই দায়ী করে থাকেন। কখনও তাদের ওপর প্রশংসাবাণী বর্ষিত হয়, কখনওবা তারা হন সমালোচনাবিদ্ধ। এটাই বাস্তবতা। ঢাকা হলো জনভারাক্রান্ত সমস্যাভরপুর এক মহানগরী। এর সমস্যা বহুমুখী, কাজ অঢেল, সঙ্কট নিত্য পরিবর্তনশীল। তাই মেয়রদের চ্যালেঞ্জও বেশি। সম্প্রতি বাইরে করোনাভাইরাস, ঘরে ডেঙ্গুজ্বর আর শত কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণে নবীন হলেও এই মেয়র শপথ গ্রহণের পরপরই নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মশক নিধন, রাস্তাঘাট নির্মাণ বা সংস্কার, নতুন যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোকে কিভাবে আধুনিকায়ন করা হবে, কোন্্ পদ্ধতিতে মশক নিধনের কাজ চলবে সেটিসহ নগরের আধুনিকায়ন ও উন্নত সমৃদ্ধ ঢাকা বিনির্মাণের পরিকল্পনা করার কাজ শুরু করেছেন। ডেঙ্গু দূর করতে এডিস মশা নিধনে নাগরিকদের গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এডিসমুক্ত দক্ষিণ সিটি গড়াই হবে মেয়রের প্রথম ও প্রধান কাজ।
বাস্তবতা হলো যে কোন সময়ের চেয়ে বিশ্বমহামারীর সময় প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে থাকা একটি মহানগরীর কাজ সম্পাদন বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। করোনাকালের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি অভিনব কয়েকটি বড় সমস্যা সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে সবকিছুর আগে মানুষের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিতই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতির চাকা প্রায় অচল হয়ে থাকার কারণে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবনের মৌলিক মানবিক প্রয়োজন পূরণই একটা চ্যালেঞ্জ। একজন দায়িত্বশীল মানবিক মেয়র এসব বিষয় এড়িয়ে যেতে পারেন না। দায়িত্ব গ্রহণকারী দক্ষিণের নতুন মেয়র জনমানুষের প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালনে শতভাগ আন্তরিক ও সক্রিয় থাকবেন এমনটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির দুটি পৃথক অনলাইন সভা করেছেন। শুরুতেই তিনি প্রত্যেক কাউন্সিলর তার ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ না হলে দায়ী থাকবেন এবং তাকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, তিনি গত বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহ সঙ্কট সম্পর্কে বিশদ অবগত আছেন এবং আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। নগরবাসী মশক নিয়ন্ত্রণে শৈথিল্য দেখলে সেটির জন্য প্রধানত মেয়রকেই দুষবেন। নেতৃত্ব দানের ওপরেই কর্মসফলতা নির্ভর করে। সেজন্য নেতাকেও তার কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। তাই কথায় নয় কাজে প্রমাণ দিতে হবে। মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সাংবাদিক ও জনগণ কেউই ছাড় দেবে না। আমরা আশা করি, ঢাকার মেয়রদ্বয় নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলায় যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করবেন।







