ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ২৫ জুন ২০২৪

ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মামুনুল হক।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৫ জুন) ধর্ষণ মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী একেএম ওমর ফারুক বলেন, ‘ধর্ষণ মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’

এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন বছর কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন তিনি।

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে এসে নারীর সঙ্গে তাকে ঘেরাও করে রাখেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গিয়ে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়ে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মামুনুল হককে নজরদারিতে রাখেন।

পরে ওই বছরের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা করেন ওই নারী। তবে আসামি মামুনুল হক ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করে এলেও তার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত বিয়ের কাবিননামা বা এ সংক্রান্ত বৈধ কোনো তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।

ধর্ষণ মামলার বাদী সাক্ষ্য প্রদানের সময়ও ওই নারী আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে নিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে আদালতে মামুনুল হক ওই নারীকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু কোনো কাবিননামা তিনি দেখাতে পারেননি। তখন ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কাবিননামা ছাড়া মৌখিকভাবে কোনো বিয়ে বৈধ নয় বলেও বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

 

এম হাসান

×