ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

আওয়ামী লীগের মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

বায়ান্নয় বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলা যাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বায়ান্নয় বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলা যাবে না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিরোধী জোটের সরকার হটানোর কথিত আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেছেন, এখন আবার শুনি তাদের মুখে বড় বড় কথা- আন্দোলন করে সরকার হটিয়ে দেবে। আর তার মধ্যে জামায়াত-বিএনপি বুঝলাম কিন্তু আমাদের কিছু বামপন্থি দল আছে এখন তারাও লাফায়। তারাও আন্দোলন করবে, বিপ্লব করবে। এখন তারা আন্দোলন করে আমাদের ক্ষমতা থেকে সরাবে।

নির্বাচনের আগে বলেছিল নির্বাচন করতে দেবে না, আমরা ইলেকশন (নির্বাচন) করে এসেছি। বাংলাদেশের ’৭৫ সালের পর যে কয়েকটা নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে যদি কোনো সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়ে থাকে তবে সেটা ৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালের নির্বাচনেই হয়েছে।
‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজার চেষ্টা ও মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে, দেশী-বিদেশী নানা তদবির করেও তারা (বিএনপি) জনগণকে ঠেকাতে পারেনি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা নতুন ভোটার এবং নারী ভোটাররা আরও বেশি ভোট দিয়েছে এবার। 
টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারি তার জন্য অনেক রকম চক্রান্ত হয়েছে। তারপরও আসতে আসতে এই পঞ্চম দফায়ও এসে গেছি। বাংলাদেশে রেকর্ড পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১৫ বছরের অন্তত বদলে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষের উন্নতি হয়েছে।  
টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ভোগে নয়, ত্যাগেই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি আনন্দ এবং অর্জন। এ কথাটা মনে রাখতে হবে। আর সেটা শিখিয়েছেন আমাদের লাখো শহীদ। সেটা শিখিয়েছেন আমাদের ভাষা আন্দোলনের শহীদ। সেটা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাজেই তার আদর্শ নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না।  এই সিদ্ধান্তটা নিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান বিভিন্ন সময়ে মুছে ফেলার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হলেও ইতিহাসের অবদান কেউ মুছে ফেলতে পারে না, পারবেও না। আর উপমহাদেশে একমাত্র ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ, যা আমরা পেয়েছি; যার সব অবদানই হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটা আদর্শ নিয়ে না চললে কোন দেশের উন্নতি করা যায় না। আর এই আদর্শ আমাদের শিখিয়েছে একুশ, ২১ ফেব্রুয়ারি ত্যাগের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে মহান আত্মত্যাগ এদেশের মানুষ করেছে। বাংলাদেশ আজকে আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এ দেশের মানুষকে আরও উন্নত জীবন দিতে চাই। দেশের মানুষের ভাগ্য আরও পরিবর্তন করে আরও উন্নত জীবন যাতে পায় সেই পরিকল্পনা নিয়েই কিন্তু আওয়ামী লীগ কাজ করে যায়। আর আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য কাজ করে বলেই মানুষের আস্থা, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস অর্জন করেছ। আর যার ফলে বারবার জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাইকে বলব মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে হবে। সেই পরিকল্পনা আমরা তৈরি করেছি। আমরা যা কিছু করি পরিকল্পনা করে সুষ্ঠুভাবে করি। এখানে কোন এডহক ভিত্তিতে কাজ আমরা করি না। আমাদের আশু করণীয়,  মধ্যবর্তী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই আমরা করি। ২০৪১ এর বাংলাদেশ হবে আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশ। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা করে দিয়েছি। 
আওয়ামী লীগ জনগণকে দেওয়া সব ওয়াদা পূরণ করেছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনে ইশতিহারে আমরা যা যা ওয়াদা জাতিকে করেছিলাম, এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ প্রতিটি নির্বাচনে ইশতেহারে আমরা যা যা ওয়াদা করেছি  প্রতিটি ওয়াদাই আমরা পূরণ করেছি এবং পূরণ করেছি বলেই আমরা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। তিনি বলেন, আমরা ২০১০ থেকে ২০২১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছিলাম এবং ২০২১ থেকে ২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা করে দিয়েছি। কিভাবে বাংলাদেশ আগামী দিনে সামনে এগিয়ে যাবে। আমাদের তরুণ সমাজকে নিজেদের সেইভাবে প্রস্তুত করতে হবে। 
একুশের চেতনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে চলার এবং আদর্শ নিয়ে চলার। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে যে চেতনার উন্মেষ ঘটেছি, তার মাধ্যমেই কিন্তু আজকে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃতি করে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস যারা মুছে ফেলতে চেয়েছিল ধীরে ধীরে তারাই আস্তাকুঁড়ে যাবে। আর বাঙালি মাথা উঁচু করে স্বাধীন সত্য নিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। এটাই হলো বাস্তবতা।
ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি, সেখানেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান রয়েছে। আজ মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, আমরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি, তার সব কিছুতেই অবদান রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের। আমি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্র্রদ্ধা জানাই।
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ, বাঙালি আজ আমরা বিশ্বের বুকে যে আত্ম-পরিচয় পেয়েছি, সেটা দিয়ে গেছেন মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি, সেখানেও বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তমুদ্দন মজলিশ এবং আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে। তার আগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে শিক্ষা সম্মেলনে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ জানান। এর মধ্য দিয়েই ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালে পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগ গঠন করেন।
ছাত্র সংগঠন গঠন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতি নেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তখন যেসব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন ছিল, তাদের নিয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় ১১ মার্চ ধর্মঘট ডাকা হবে।

অর্থাৎ আমরা যে আজ মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, আমরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি উপমহাদেশে ভাষাভিত্তিক একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ, সেই জাতি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি, তার সব কিছুতেই অবদান রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে ১৯৫৮ সাল থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা  রিপোর্ট করত। আমি ’৯৬ সালে সরকার গঠন করে এসবির অফিস থেকে সমস্ত ফাইল সংগ্রহ করি। আমার সঙ্গে ছিল বেবী মওদুদ, দুইজনে মিলে ফাইলগুলো পড়ি। ভাষা আন্দোলনে তিনি কী কী কাজ করেছেন তা কিন্তু স্পষ্ট হয়েছে। প্রথম খণ্ডেই অনেক তথ্য পাবেন। রিপোর্টগুলো যেহেতু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে এটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। 
বাঙালির যা কিছু প্রাপ্তি, তা কিন্তু আওয়ামী লীগই দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অসহনীয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, বিজাতীয় ভাষা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। মুজিব একটি জাতির রূপকার, এই সিনেমা দেখলেও কিন্তু ইতিহাসের অনেক কিছু জানার সুযোগ রয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। অনেক জ্ঞানীগুণী বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য ছিল তিনি (বঙ্গবন্ধু) আবার ভাষা আন্দোলেন কী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি তো জেলে ছিলেন। তো জেলে ছিলেন কেন? ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলনের জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া এবং এই বাংলাদেশের মানুষের কথা বলতে গিয়েই তো তিনি বারবার জেলে গেছেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তান নামক যে রাষ্ট্রটা গঠন হয়েছিল, সেখানে এই পূর্ববঙ্গের মানুষেরই অবদান ছিল। তখনকার মুসলিম লীগ কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো সিটই পায়নি, আর সেটার ওপর ভিত্তি করেই পাকিস্তান সৃষ্টি। অথচ আমরা ৫৬ ভাগ ছিলাম বাঙালি, অথচ আমাদেরই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র। তাদের শাসনভার আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আর এসবের প্রতিবাদ সেই ’৪৮ সাল থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিবাদ শুরু করেন। এজন্য তিনি বারবার গ্রেপ্তার হন। বন্দি থাকাকালীন অবস্থায়ই তিনি যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী যদি পড়েন দেখবেন গোপনে তিনি কিভাবে হাসপাতালে দেখা করতেন এবং তিনি দিকনির্দেশনা দিতেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি যখনই তথ্যগুলো নিয়ে একবার বক্তব্য দিলাম। আমাদের দেশের একজন লেখক (বদরুদ্দিন ওমর), তিনি আমার ওপর ক্ষেপে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে লিখলেন, আমি নাকি এই সমস্ত তথ্য বানিয়ে লিখেছি। আমি আর বেবী মওদুদ তথ্যগুলো নিয়ে এম আর আক্তার মুকুল ভাইয়ের বাসা যাই। আমরা তো চুনোপুঁটি, আমরা লিখলে হবে না। তাই মুকুল ভাইকে বললাম আপনি লিখবেন। আপনি জবাব দেবেন।

উনি লিখলেন, তারপর আর কোনো কথা নেই। ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করা, এটা আমাদের দেশের এক শ্রেণির মানুষ করত। এখনো দেখবেন যা কিছু করেন কোনো কিছু তাদের ভালো লাগে না। ভালো না লাগার গ্রুপই আমাদের নামে বদনাম ছড়ায় সব জায়গায়। তাদের কিছু ভালো লাগে না। এটাই হলো বড় কথা।  
তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা এবং বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করা বাংলাদেশে এক শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত সমস্যা। এখনো যা কিছু করেন তা তাদের কিছুই ভালো লাগে না, কোনো ভালো কাজই তাদের পছন্দ হয় না। এরাই কিন্তু বাংলাদেশের বদনাম ছড়ায়। যা হোক ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে যে মুছে ফেলা হয়েছিল এখন তো আর মুছতে পারবে না। এটাও স্বীকার করে না যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা, ছুটি ঘোষণা, শহীদ মিনার তৈরি করার প্রকল্প করেছে।  
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে যে চেতনা, তার থেকেই আমাদের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আসে। জাতির পিতা এটি তার আত্মজীবনীতেও লিখেছেন, ৫২ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, জাতির পিতার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হলেও ইতিহাসের অবদান কেউ মুছে ফেলতে পারে না। আর তিনি তো থেমে থাকেনি। যতবার গ্রেপ্তার করেছে আবার তিনি বেড়িয়েছেন, আবার আন্দোলন করেছেন।

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। অথচ তারা নানান উপায়ে বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে চলে যায় আমাদের পতাকা। ইনডেমনিটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করেছে। খুনিদের পুনর্বাসন করে নানান জায়গায় পদায়ন করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে আমাদের দেশের পতাকা।

×