ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ লাখ ৪৭ হাজার সদস্য দায়িত্বে থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:০৮, ২১ নভেম্বর ২০২৩; আপডেট: ১৫:৩৫, ২১ নভেম্বর ২০২৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ লাখ ৪৭ হাজার সদস্য দায়িত্বে থাকবে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে বিদেশে গ্রহণযোগ্য করতে এবার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩২২ জন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য এ সংখ্যার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত নেই। নির্বাচনে স্বশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে কিনা ইসি সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। 
এমনই তথ্য প্রকাশ করেছেন-নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে অতিরিক্ত সচিব সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এদিন বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিরা বৈঠক করে। এই বৈঠকে মূলত এসব বাহিনীর বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে ইসির কাছে পৃথক চাহিদা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তারা কিছু অর্থ আগামও চেয়েছে। তবে চাহিদার বিষয়ে ইসির তরফ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

 বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে যারা নির্বাচনকালে দায়িত্ব পালন করবে, তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের জনবলের ভিত্তিতে একটি চাহিদা দিয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হার হিসেবে কত সংখ্যক সদস্য নিয়োগ হবে, সেই অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হবে। তারা কিছু অগ্রিম বরাদ্দ চেয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তার কতটুকু আমরা দিতে পারব, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছি।
এ সময় অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে সেই উপলক্ষে আজকে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক হয়েছে। এখানে বাজেট কখনো চূড়ান্ত হয় না। একটা সম্ভাব্য বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। প্রত্যেক জন ও প্রতিদিন হিসেবে তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) একটা বাজেট দেয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটা হার আছে, সে অনুযায়ী কত সংখ্যক নিয়োগ হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা কিছু অগ্রিম বরাদ্দ চেয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তির সাপেক্ষে আমরা কতটুকু দিতে পারব, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে এবং সব মিলিয়ে বাজেট কত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সবমিলিয়ে বাজেট বলা যাবে না। কোন বাহিনীর সংখ্যা কত সেটা বলতে পারি। আনসার ৫ লাখ ১৬ হাজার, কোস্টগার্ড থাকবে ২ হাজার ৩৫০ জন, বিজিবি থাকবে ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন এবং পুলিশ ও র‌্যাব থাকবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন। আর সেনাবাহিনীর বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। কোন বাহিনী কতদিন থাকবে সে বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে পরিপত্র জারি হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। তারা যেভাবে দায়িত্ব পাবে সে অনুযায়ী বরাদ্দ হবে।

তিনি জানান, র‌্যাংক অনুযায়ী একজন পুলিশের সর্বনিম্ন ভাতা ৫৩৬ টাকা, সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা। র‌্যাবও একই পরিমাণ পাবে। বিজিবি সর্বনিম্ন ৪০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১২২৫ টাকা ভাতা পাবে। কোস্টগার্ড সর্বনিম্ন ৬৩৭ টাকা, সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা, আনসার সর্বনিম্ন এক হাজার, সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা ভাতা পাবে।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগেই ইসির কাছে একটি খসড়া চাহিদা দিয়েছে। এর মধ্যে  পুলিশ ৪৩০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, আনসার ও ভিডিপি চেয়েছে ৩৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকা, র‌্যাব  ৫০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং কোস্টগার্ড ৭৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনের শান্তিশ্ঙ্খৃলা ও নিরাপত্তা থাকবে অভূতপূর্ব। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি ও অবহেলা সহ্য করবে না।

×