ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪৩০

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কিছু জানে না ॥ প্রতিমন্ত্রী

আগামী জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইইউ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আগামী জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইইউ

জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)

প্রাক-পর্যবেক্ষক দলের তৈরি করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বুধবার ইইউ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে তাদের এই মতামত জানিয়েছে। তাদের নির্বাচন মূল্যায়ন মিশন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী বলে মনে করছে না। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে ইইউ পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো কিছুই জানি না, এ ব্যাপারে এখনো। অফিসে সকাল থেকে ছিলাম। তবে কোনো কিছু আসলে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
ইইউ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনো কিছু জানানো হয়নি মন্তব্য করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘যে মুহূর্তে জানানো হবে (ইইউ জানাবে), আপনাদের জানিয়ে দেব।’
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তারা একটি চিঠি পেয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পাইনি তো। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদের যোগাযোগ আর আমাদের যোগাযোগ...। সরকারের অংশ হিসেবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে থাকলেও তারা এখনো আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশন এবং একটি অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, প্রাকÑপর্যবেক্ষক দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই বলে মনে করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনের তথ্য নিজস্ব সূত্র থেকে পাওয়ার সুবিধার্থে ইইউর পক্ষ  থেকে ছোট আকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হতে পারে।
অবশ্য বৃহস্পতিবার ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চিঠির কথা স্বীকার করে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইইউর হেড অব ডেলিগেশনস জানিয়েছেন, জুলাই মাসে তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সেটা ফলপ্রসূ হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। ওই মেইলে তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের হেড অফিস সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের পূর্ণাঙ্গ একটি মিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানোর আর্থিক বিষয় ছিল। তবে বাজেট স্বল্পতার কারণে তা নামঞ্জুর করেছে, বা আপাতত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ইসি সচিব বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে বলেও ইইউ মেইলে জানিয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা পূর্ণাঙ্গ দল না পাঠানোর বিষয়ে বলেছেন। এখানে পূর্ণাঙ্গ দলের কথা বলা হয়েছে।
তাদের এ সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না- জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটা সিইসি ভালো বলতে পারবেন। তারা পূর্ণাঙ্গ কথাটি বলেছেন। কাজেই ছোট দল পাঠাবেন, নাকি এ দেশে যারা আছেন তারাই করবেন...। কেননা, তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।
গত ৮-২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ইইউর ছয় সদস্যের একটি প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফর করে। প্রতিনিধি দলটি মূলত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, বাজেট, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে মূল্যায়ন করে। প্রাকনির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলটি বাংলাদেশের সরকারের প্রতিনিধি, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।
ইইউ অবশ্য বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দিয়েও এই বিষয়টি পরিস্কার করেছে। বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের সময় বিশেষজ্ঞদের একটি ছোট দল পাঠাবে। নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি যখন মতবিরোধে তখন ইইউ এই বিবৃতি দিয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি বেশ বিস্ময়কর যে, ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অন্যান্য বিদেশী নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ দলকেও বাংলাদেশে না আসার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও পর্যবেক্ষণ দল পাঠায়নি ইইউ।