ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

যৌথসভায় কাদের

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে তামাশা ভুল নয়, ফৌজদারি অপরাধ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৮, ২ এপ্রিল ২০২৩

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে তামাশা ভুল নয়, ফৌজদারি অপরাধ

ওবায়দুল কাদের

মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রথম আলোর প্রকাশ করা প্রতিবেদনটি ভুল নয়, ফৌজদারি অপরাধ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সরকারকে হেয় করতে প্রথম আলো ও বিএনপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

শনিবার  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দলটির সভাপতি-সম্পাদকম-লীর সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, অনেকে বলছেন এটা তাদের একটা ভুল। আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বাধীনতা দিবসের দিনে বাঙালি জাতির ৫২ বছরের অর্জন-মর্যাদা নিয়ে তামাশা করা সাধারণ ভুল নয়, একটি ফৌজদারি অপরাধ।

দৈনিক প্রথম আলো তাদের নিজস্ব প্রভুদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য জাতির সামনে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তরুণ সমাজের মনে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টির জন্য উস্কানি দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে।
যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সিমিন হোসেন রিমি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। 
বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় পবিত্র রোজার মাসে বিএনপির কর্মসূচির বিরুদ্ধে দলীয় কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নেতারা বলেন, রোজার মাসে আমরা কোনো কর্মসূচি না দিয়ে সাধারণ গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করব, তবে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। বৈঠকে দুজন প্রভাবশালী নেতা দৈনিক প্রথম আলোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করেন। কয়েকজন নেতা প্রথম আলোর দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে মাঠে নামানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলে ওবায়দুল কাদের জানান, বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলা হবে। 
স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর এই উদ্যোগ জাতিসত্তা-বিনাশী অপতৎপরতা নয় কি? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবস তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ সৃষ্টির এক অনন্য দিন। অথচ এই দিনে পলিটিক্যালি সিলেক্টেড বিশেষ এজেন্ডা সেটিংয়ের উদ্দেশ্য করা এই সংবাদটি মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অর্জনকে অস্বীকার করার শামিল নয় কি? তিনি অভিযোগ করেন, ঐতিহ্যগতভাবেই দৈনিকটির এক বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে থাকে। আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করে তারা বরাবরই বিরাজনীতিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
ষড়যন্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একজন সম্পাদক এবং একজন রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং সংস্থা থেকে যেসব রিপোর্ট এসেছে, এরা অত্যন্ত চতুর। আন্তর্জাতিক লিংক এদের অনেক শক্ত। কিন্তু তারা এই খবর ছড়িয়ে দিয়েছে যে, দ্র্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি নিয়ে রিপোর্ট করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দ্র্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নিয়ে রিপোর্ট করায় কিংবা এ নিয়ে টকশোতে অংশ নেওয়ার জন্য সরকার কি একজন লোকের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাহলে মিথ্যা সংবাদ আজকের সারা দুনিয়ায় রটানো হচ্ছে যে দ্র্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্যই রিপোর্ট করাতে এই সাংবাদিক এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সাংবাদিকরা আমাদের শত্রু নয়। কিন্তু প্রথম আলো আপনাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে। বিএনপিকে আমরা ভাবি প্রতিপক্ষ, বিএনপি আমাদের ভাবে শত্রু। প্রথম আলোও আমাদের ভাবে শত্রু। প্রত্যেকের সম্পাদকীয় পলিসি আছে। প্রথম আলোর আওয়ামী লীগের সঙ্গে শত্রুতা, যেটা বিএনপির রাজনীতিকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে আজকের বাস্তবতা।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রথম আলোর সম্পাদক-প্রকাশক কী দায় এড়াতে পারেন? তারা কি তাদের এই গৃহীত অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ অথবা ক্ষমা চেয়েছেন? কোনোটাই করেন নাই। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের বিবৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বলছে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্যই সরকার এ ধরনের মামলা করেছে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে। আমি প্রথমে বলতে চাই সরকার কিন্তু এখানে মামলা করেনি।

মামলা সাধারণ একজন নাগরিকও করতে পারে। সরকার মামলা করেছে এটা সর্বাগ্রে মিথ্যা। আর ভয় দেখানোর কথা যে বলা হচ্ছে- কাকে ভয় দেখাবো? যাকে ভয় দেখানোর কথা বলা হয়েছে তিনি এই দেশের মানুষকে ভয়ের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি এ দেশে রাষ্ট্রকে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভয় দেখিয়েছিলেন। তিনি এ দেশের রাজনীতিকে ভয় দেখিয়েছিলেন। তিনি এই দেশের সাংবিধানিক সরকারকে ভয় দেখিয়েছিলেন। অসাংবিধানিক সরকারের পক্ষে ওকালতি করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন আমাদের মনে নেই? কে কাকে ভয়  দেখায়? তিনিই তো বিরাজনীতির ফয়সালা নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন? সম্পাদকীয় লিখেছেন? আমরা কি ভুলে গেছি?
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম আলো আর বিএনপি, একজন আরেকজনের সাপ্লিমেন্ট করে। টার্গেট হচ্ছে সরকার। টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা। টার্গেট গণতন্ত্র। টার্গেট আগামী নির্বাচন ভ-ুল করা। এই সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার জন্য হেন কোনো তৎপরতা নেই যা বিএনপি নামক এবং প্রথম আলো নামক পত্রিকাটি না করছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে।

আমরা এ বিষয়গুলো কখনো আপনাদের বলিনি। আজ আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে শুনতে শুনতে। এসব অপবাদ এসব মিথ্যাচার চলতেই আছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, তারপর অনলাইনে ফেসবুকের কুৎসিত প্রচারণার। পার্সোনালি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করা, গালিগালাজ। ডিজিটাল বাংলাদেশ করে আমরা কি ভুল করে ফেললাম? সেই ডিজিটাল মাধ্যমে এখন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। তারা এ বিষয়টা অত্যন্ত চতুরভাবে করে যাচ্ছে। দেশবাসীকে এ ধরনের ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

×