ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে : ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে : ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

সম্মাননা অনুষ্ঠান

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও বাল্য বিয়ে রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ সংক্রান্ত কমিটির মনিটরিং এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারের কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।   

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সভাকক্ষ থেকে অনলাইনে চট্টগ্রাম (৫জন) ও সিলেট (৫জন) বিভাগের মোট দশ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় ইন্দিরার কাছ থেকে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলার লায়লা আক্তার এবং সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শাহেনা আক্তার সম্মাননা স্মারক, নগদ অর্থ ও সনদ গ্রহণ করেন।

বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, সরকারের নারীবান্ধব উন্নয়ন ও নীতি কৌশল বাস্তবায়নের ফলে গত একযুগে সরকারি, বেসরকারি, আত্মকর্মসংস্থানসহ উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার জন্য। 

ইন্দিরা বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে বেগবান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে জয়িতা কার্যক্রমের সুচনা করেন। জয়িতার কার্যক্রম বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নারীবান্ধব বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারো তলা ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। জয়িতাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্যহীন ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার জয়িতাদের চিহ্নিত করে তাদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই  জয়িতারাই আজ বাধা পেরিয়ে দেশে সফলতার প্রতীক। 

চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন এবং রেঞ্জ ডিআইজি, চট্টগ্রাম মোঃ আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান।

চট্টগ্রাম বিভাগের সম্মাননা প্রাপ্ত নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরীতে সাতকানিয়া উপজেলার নাছরিন সোলতানা জেরিন, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী রাঙামাটি জেলার সপ্তর্ষি চাকমা, সফল জননী ক্যাটাগরীতে খাগড়াছড়ি জেলার ইন্দিরা দেবী চাকমা, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা ফেনী জেলার লায়লা আক্তার এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় কক্সবাজার জেলার মনোয়ারা পারভীন। 

সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্ব উপস্থিত ছিলে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ মফিজ উদ্দিন আহমেদ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ।
সিলেট বিভাগের সম্মাননা প্রাপ্ত নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরীতে সুনামগঞ্জ জেলার সৈয়দা ফারহানা ইমা, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মৌলভীবাজার  জেলার বড়লেখা উপজেলার মার্গ্রেট সুমের, সফল জননী ক্যাটাগরীতে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার সালেহা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করে মৌলভীবাজার জেলার শাহেনা আক্তার এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় সিলেট জেলার খুশি চৌধুরী। 
 

 

স্বপ্না

×