ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০১:২৮, ১৪ আগস্ট ২০২২

ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

ডিমের ভ্যানে ডাকাতি

বাজারে ডিমের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় তাতে নজর পড়ে ডাকাতদেরএই ডিমের চালানে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরাও পড়েছে ৬ ডাকাতনারায়ণগঞ্জে ২৫ হাজার ডিমবোঝাই পিকআপ ভ্যানে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাবএকই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়উদ্ধার করা হয় সেই পিকআপটি

শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়গ্রেফতাররা হলেন ডাকাত দলের সরদার মুসা আলী (৪০), নাঈম মিয়া (২৪), শামিম (৩৫), রনি (২৬), আবু সুফিয়ান (২০) ও মামুন (২৪)তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, দুটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছোরা ও একটি বাস জব্দ করা হয়

র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, শুক্রবার রাতে রূপগঞ্জের ভুলতা গোলাকান্দাইল এশিয়ান হাইওয়েতে র‌্যাব-১১ এর একটি দল টহল দিচ্ছিলএসময় একটি ডিমবোঝাই পিকআপের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সেটি থামান র‌্যাব সদস্যরাতখন পিকআপ থেকে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য

তারা ডাকাতির উদ্দেশ্যে যুব কল্যাণ এক্সপ্রেস লিমিটেডের একটি বাস নিয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে ডিমের পিকআপের পিছু নেয়একপর্যায়ে ভুলতা-রূপসী সড়কে পিকআপটির সামনে গিয়ে বাস দিয়ে পথরোধ করেএরপর পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পিকআপটি নিয়ন্ত্রণে নেয় ডাকাতরাএ সময় তাদের আরেকটি দল পিকআপের চালক ও সহকারীর হাত-পা বেঁধে মারপিট করে বাসে উঠিয়ে নেয়এরপর ডাকাত দলের সরদার মুসা ও তার প্রধান সহকারী নাঈম পিকআপটি গাউছিয়া-মদনপুরমুখী রাস্তায় নিয়ে যায়আর ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা পিকআপের চালক ও হেলপারকে বাসে করে মদনপুরের দিকে নিয়ে যায়

ডাকাতদের দেয়া তথ্যে পিকআপের চালক ও হেলপারকে উদ্ধারে মদনপুর যায় র‌্যাবসেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে জব্দ করা হয় বাসটিএ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেতাদের মধ্যে র‌্যাব সদস্যরা ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হনআর বাকি ৪-৫ জন বাস থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়এরপর বাসের ভেতর থেকে পিকআপচালক ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়

এই ডাকাত দলটি বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিলতারা পেশায় কেউ পোশাককর্মী, কেউ গাড়িচালক, হেলপার আবার কেউ রাজমিস্ত্রি ও কাপড়ের দোকানের কাটিং মাস্টারদিনে নিজ নিজ পেশায় থাকলেও বিভিন্ন সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে

র‌্যাব জানায়, প্রথম গ্রুপটি ডাকাতির জন্য বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহনের তথ্য সংগ্রহ করেএরপর ডাকাতির জন্য স্থান নির্ধারণ করেদ্বিতীয় গ্রুপটি বাস নিয়ে মহাসড়কে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেয়এরপর ডাকাতির জন্য টার্গেট করা পণ্যবাহী যানের পিছু নেয় তারাপরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে পণ্যবাহী যানটিকে বাস দিয়ে গতিরোধ করে ডাকাতি করে

তৃতীয় গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ডাকাত দলের প্রধান মুসাতিনি ডাকাতি করা পণ্যবাহী যানটি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান এবং মালামাল আনলোড করেনএর মধ্যে পণ্য বিক্রি করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো কোন নির্জন স্থানে ফেলে দেয়া হয়জিজ্ঞাসাবাদে মুসা জানান, তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছেএর আগে ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগও করেন

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার শামিম ডাকাত সর্দার মুসার প্রধান সহযোগীতিনি ডাকাতির সময় বাসটি চালান২০০৬ সালে স্ত্রী হত্যার দায়ে সাত বছর কারাগারে ছিলেনতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছেঅন্যদিকে গ্রেফতার রনি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বাসচালকের হেলপারআর নাঈম পেশায় একজন গাড়িচালক

গ্রেফতার মামুন স্থানীয় একটি সেলাই কারখানায় কাটিং মাস্টারের কাজ করেডাকাতির কাজের জন্য বাসটি তারা কিভাবে পেলেন- এমন প্রশ্নে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটি মালিকের কাছ থেকে বাসটি নিয়ে গত দেড় বছর ধরে ডাকাতি করে আসছিল

কিন্তু বাস মালিক জানতেন না তার বাস দিয়ে যাত্রী পরিবহন না করে ডাকাতি হয়তবে বাসের সব কাগজপত্র ঠিক ছিল