ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

খেসারত যাত্রীদের

জেট ফুয়েলের দাম লাগামহীন

প্রকাশিত: ২৩:১০, ২২ মে ২০২২

জেট ফুয়েলের দাম লাগামহীন

আজাদ সুলায়মান ॥ লাগামহীন হয়ে পড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। তুচ্ছ অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে দাম। এতদিন বাড়ানো হচ্ছিল আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে। এখন বাড়ানো হচ্ছে- ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের অজুহাতে। গত দেড় বছরে ১৮ বার বাড়ানো হয়েছে জেট ফুয়েলের দাম। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বলছে, আরও বাড়তে পারে। এদিকে যে মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান ভাড়া আকাশচুম্বী করায় যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে গেছে, প্রতিনিয়ত দাম কমানোর কর্মসূচী দেয়া হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোতে তারা হতবাক। এখন বাধ্য হয়েই এয়ারলাইন্সগুলো আরেক দফা দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ রুটের প্রতিটি টিকেটে কমপক্ষে ৫শ’ টাকা করে বেড়ে যাবে। খেসারতটা দিতে হবে যাত্রীদেরই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেছেন, এটা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে করা হয়। আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কি করার আছে। তবে পরিণতিতে এটা এভিয়েশন সেক্টরেই বিপর্যয় ডেকে আনবে। জানা গেছে, সর্বশেষ গত সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণে ১০০ থেকে ৬ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম ১০৬ টাকা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে ফুয়েলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। গত ১৫ মে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিষয়টি জানিয়েছে পদ্মা অয়েল। নতুন আদেশ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার তেল কিনতে হবে ১ দশমিক ০৯ মার্কিন ডলারে। এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারিত ছিল ৪৬ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দাম বাড়িয়ে করা হয় ৫৩ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৫৫ টাকা, মার্চে ৬০ টাকা, এপ্রিলে ৬১ টাকা। তবে মে মাসে লিটারে ১ টাকা দাম কমানো হয়েছিল। জুনে প্রতি লিটারে ৩ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৬৩, জুলাইয়ে ৬৬, আগস্টে ৬৭ টাকা, অক্টোবরে দাঁড়ায় ৭০ টাকা এবং নবেম্বরে ৭৭ টাকা করা হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দুই দফায় কমানো হয়েছিল ৪ টাকা। সর্বশেষ এপ্রিলে দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একইভাবে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতিলিটার ৫০ সেন্ট (০.৫ ডলার)। প্রায় ১৫ মাসের মধ্যেই এ দাম দ্বিগুণ হয়ে ১.০৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি এয়ারলাইন্সের ৪০ শতাংশ পরিচালন ব্যয় হয় জেট ফুয়েলে। জেট ফুয়েলের দাম যত বেশি, ব্যয় তত বাড়ে। যেসব দেশ কম দামে তেল কিনছে, তাদের পরিচালন ব্যয় কম হচ্ছে, যাত্রীদের জন্য তারা কম দামে টিকেট দিচ্ছে। আর বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের অতিরিক্ত দামের প্রভাবে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব দিন দিন কমতে থাকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো। এমনকি রিজেন্ট, জিএমজি এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনেও নিজেদের অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএস বাংলার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া সরকারী বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন প্রমুখ। কোভিডকালীন ও কোভিড পরবর্তী গত ১৮ মাসে জেট ফুয়েলের মূল্য বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ছিল ৪৬ টাকা অথচ ১৮ মাসে প্রায় ১৫ বার জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা। যা বাংলাদেশের এভিয়েশনের ইতিহাসে জেট ফুয়েল সর্বোচ্চ দাম। যা একটি খাতকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই যথেষ্ট। যে রেকর্ড আকাশ পথের যাত্রীদের বিপর্যস্ত করে তুলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশী এয়ারলাইন্সকে প্রতিযোগিতা করতে হয় বিদেশী সব এয়ারলাইন্সের সঙ্গে। জেট ফুয়েল প্রাইস সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর। সেই ভাড়া বৃদ্ধির ফলে দেশীয় এয়ারলাইন্স চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে নবপ্রতিষ্ঠিত তিনটি এয়ারলাইন্স- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, এভিয়ানা এয়ারওয়েজ ও বেস্ট এয়ার, জেট ফুয়েলের উর্ধগতির সঙ্গে তাল না মিলিয়ে চলতে না পারার কারণে এভিয়ানা এয়ারওয়েজ, বেস্ট এয়ার বছর ঘোরার আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ এভিয়েশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সঙ্গে বেসরকারী বিনিয়োগে নিরুৎসাহী হতে দেখা গিয়েছিল এভিয়েশন খাতে। কোভিডকালীন এয়ারলাইন্সগুলো বিভিন্ন চার্জ বিশেষ করে এ্যারোনোটিক্যাল ও নন-এ্যারোনোটিক্যাল চার্জ মওকুফের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিল এভিয়েশন সেক্টরটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলে সত্য চার্জ মওকুফের পরিবর্তে নতুন দুটি চার্জ সংযুক্ত হতে দেখেছি- তা হচ্ছে বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি এবং নিরাপত্তা ফি। যা সরাসরি যাত্রীদের ভাড়ার ওপর বর্তায়। কামরুল ইসলাম আরও বলেন, এই সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার কর্মী যুক্ত আছে। যাদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন না করে সেক্টরটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন পথ বের করে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে সহায়তা করুন। বর্তমানে জিডিপির ৩ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে এভিয়েশন এ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরের। সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে এই সেক্টর থেকে ১০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রাখা সম্ভব জিডিপিতে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্ধারকদের সিদ্ধান্তহীনতা এভিয়েশন সেক্টরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলবে, সঙ্গে ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি, হোটেল ইন্ডাস্ট্রিসহ সব ইন্ডাস্ট্রিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সব শিল্পের গতিশীলতা বজায় রাখতে হলে এভিয়েশনের গতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:

বাংলাদেশ কখনো কারো সঙ্গে যুদ্ধ চায় না : প্রধানমন্ত্রী
ডলারে দেড় টাকার বেশি মুনাফা নয় : বাংলাদেশ ব্যাংক
বিএনপি আবারও ধরা খাবে : ওবায়দুল কাদের
বায়ু দুষণে বিশ্বে পঞ্চম ঢাকা
সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
বরগুনায় আরও পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়ী ওয়াসফিয়া দেশে ফিরলেন
২০২১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ড গঠন
গার্ডার দুর্ঘটনা: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
সোনার দাম ভরিপ্রতি কমছে ২,২৭৫ টাকা
অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়াকাটার সব খাবার হোটেল বন্ধ ঘোষণা
হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত, বাগানগুলো অচল
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী ৭ মাসের অন্ত:সত্বা, ধর্ষক দুলাভাই গ্রেপ্তার