ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

পাবনায় প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বুলবুলের নাম তালিকায় নেই!

প্রকাশিত: ০৬:৫৩, ১২ জুন ২০১৭

পাবনায় প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বুলবুলের নাম তালিকায় নেই!

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১১ জুন ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ অসন্তোষ বাড়ছে। সম্মুখযুদ্ধে প্রথম আত্মবিসর্জনকারী জিএম শামসুল আলম বুলবুলের নামও শহীদের তালিকায় উঠেনি। আরও আশ্চর্য যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবনাতে এসে যে আট শহীদ পরিবারের হাতে অনুদানের চেক নিজ হাতে তুলে দিয়েছিলেন তারাও শহীদের তালিকায় স্থান পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের এ বীর শহীদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও মনোবেদনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, ২৭ মার্চ সম্মুখযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন তৎকালীন পাবনা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র কৃতী শুটার জিএম শামসুল আলম বুলবুল। তৎকালীন সময়ে পাকসেনার দল শহরে ঢুকে ময়লগাড়ির ১ তলা ভবনে অবস্থান নেয়। এরপর শামসুল আলম বুলবুলসহ কয়েক মুক্তিযোদ্ধা ওই ভবনের কিছু দূরে কাঁচা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পাকসেনার ওপর আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে কয়েক পাকসেনা নিহত হয়। এক পর্যায়ে পাকসেনাদের দল হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। অপর পাকসেনারা ক্রোলিং করে অপরদিক দিয়ে এগোতে থাকে। শামসুল আলম বুলবুল এ সময় তার অবস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে ক্রোলিংরত পাকসেনাদের গুলিতে তিনি শহীদ হন। তিনিই পাবনায় প্রথম শহীদ। তার নামানুসারে পাবনা ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ বুলবুল কলেজ নামকরণ করা হয়। যেটি এখন শহীদ সরকারী বুলবুল কলেজ। অসীম সাহসী এ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামও তালিকাতে নেই। এ শহীদের কবর সুজানগর উপজেলার রানীনগর ইউনিয়নের ভাটিকয়া গ্রামের বাড়িতে রয়েছে। অন্যদিকে পাবনা পুরাতন ফুড অফিসের সামনে পাকসেনারা ১১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে আশরাফ আলী আক্কেল, আকবর আলী, আফসার আলী, মোশাররফ আলী মুসা, এ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন, হারুনর রশিদ, নুরুল হক ও শফিউন্নবী সূর্যকে ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। পরবর্তীতে এখানেই তাদের গণকবর নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে শফিউন্নবী সূর্য ছিলেন বাস ড্রাইভার। তিনি ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ইপিআরদের গাড়ি চালিয়ে নগরবাড়ির ঘাটে গিয়ে পাকসেনাদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হন। বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীনের পর শহীম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর শহরের কাঁলাচাদপাড়া বাসায় এসে এ ৮ শহীদের পরিবারের প্রত্যেকের হাতে ২ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ আট শহীদের নামও আজ পর্যন্ত তালিকায় উঠেনি। এ নিয়ে শহীদ পরিবারের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও মনোবেদনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্মুখযুদ্ধে প্রথম শহীদ জিএম শামসুল আলম বুলবুলের বড়ভাই জিএম তৌফিকুল আলম জিন্নাহ এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বুলবুলের নাম না ওঠা লজ্জাস্কর। রাষ্ট্র তাদের অন্তত শহীদ পরিবারের মর্যাদাটুকু দিক এ দাবিই তিনি জানিয়েছেন। অপর ৮ শহীদ পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাদের স্বজন দেশের জন্যে প্রাণবিসর্জন দিয়েছেন এটুকু মূল্যায়ন তাদের পাওয়া উচিত। এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মকবুল হোসেন সন্টু ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন এসব শহীদের তালিকায় নাম না ওঠা অত্যন্ত দুঃখজনক।