ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

পর্তুগীজ ও স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত নজরুল সাহিত্য

প্রকাশিত: ০৫:৪৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

পর্তুগীজ ও স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত নজরুল সাহিত্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৈভবময় সৃষ্টির আলোয় আলোকিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম। প্রেম, দ্রোহ ও সাম্যের এই কবির নির্বাচিত কিছু সৃষ্টিকর্ম এবার অনূদিত হলো পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায়। ফলে এখন থেকে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য এই দুই ভাষার পাঠকরাও সুযোগ পাবেন কবির কালজয়ী গান, কবিতা কিংবা গদ্যের স্বাদ আস্বাদনের। বৃহস্পতিবার সকালে নজরুল ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বই দুটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। নজরুল ইনস্টিটিউটের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, ঢাকাস্থ ব্রাজিল দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন জুলিও সিজার সিলভা এবং স্পেন দূতাবাসের চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স প্যাটিক প্যাট্রিক স্যান্ডোভাল নিকোলস। স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ। পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত বইটির নাম হচ্ছে ‘নজরুল : প্রোজা এ পোয়েজিয়া সিলেশিয়োনাডোস’ (ঘধুৎঁষ : চৎড়ংধ ব চড়বংরধ ঝবষবপরড়হধফড়ং)। অনুবাদ করেছেন পর্তুগালের নাগরিক লেখিকা ও গবেষক আনা রিটা ব্যাপ্টিস্টা রড্রিগেজ জ্যাকিন্টো। এ বইয়ে নজরুলের বিদ্রোহী, ধূমকেতু কবিতাসহ মোট ৭৮টি কবিতা, গান ও প্রবন্ধ অনূদিত হয়েছে। আর স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘নজরুল : প্রোজা এ পয়েমাস সিলেক্টোস’ (ঘধুৎঁষ : চৎড়ংধ ু চড়বসধং ঝবষবপঃড়ং)। ইকুয়েডরের নাগরিক লেখিকা, গবেষক ও সাংবাদিক মারিয়া হেলেনা ব্যারোরা-আগারওয়াল অনূদিত গ্রন্থটিতে নজরুলের বিদ্রোহী, ধূমকেতুসহ মোট ১৫০টি কবিতা, গদ্য ও গান স্থান পেয়েছে। প্রকাশনা উৎসবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তিনি প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, মানবতার কবি, সাম্যের কবি। সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি বিদ্রোহী কবি। তিনি সকল অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন, লিখেছেন, জেল খেটেছেন। জেলে গিয়ে অনশন করেও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, শিখিয়েছেন সকল অন্যায়-অবিচারকে রুখে দিয়ে কিভাবে শির উঁচু করে অগ্রসর হতে হয়। এ কারণেই নজরুলের প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল অন্যরকম ভালবাসা। স্বাধীনতার পর তিনি কবিকে সসম্মানে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। মানুষের ভালবাসায় কবি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এদেশে অতিবাহিত করেন। তাই বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই নিবিড়। আসাদুজ্জামান নূর আরও বলেন, শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে। এক্ষেত্রে নজরুলের চেতনা ও আদর্শ আমাদের চলার পথে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ভাষা। পৃথিবীর একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী এ দুই ভাষায় কথা বলে। জাতীয় কবির নির্বাচিত সাহিত্যকর্ম পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে নজরুল ও তাঁর সৃষ্টিকর্মকে পৃথিবীব্যাপী তুলে ধরা সম্ভব হবে। এতে করে আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যভা-ার সম্পর্কে তারা যেমন জানতে পারবে; পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও বহির্বিশ্বে উজ্জ্বলতর হবে। সভাপতির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় নজরুলের অনুবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নজরুলের রচনা নানা ভাষায় অনুবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ৮টি ভাষায় নজরুলের রচনা অনূদিত হয়েছে। ইংরেজী, উর্দু, জাপানি, চীনা, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় নজরুল রচনা অনূদিত হয়েছে। মোঃ শাহরিয়ার আলম বলেন, কাজী নজরুলের রচনা এখনও খুব বেশি ভাষায় অনুবাদ হয়নি, এটা খুব দুঃখজনক। স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষায় যে দুটি অনুবাদ হলো, এটি দারুণ ব্যাপার। অন্যান্য ভাষায়ও অনুবাদ করে নজরুলকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তিশিল্পী ড. শাহদাৎ হোসেন নিপু প্রথমে নজরুলের বিদ্রোহী ও ধূমকেতু কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে তা পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় আবৃত্তি করা হয়। বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা ও ইয়াকুব আলী খান নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। বেহুলা বাংলার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের প্রকাশনা ॥ মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনাকে উপজীব্য করে দেশের নবীন-প্রবীণ ৭১ জন সাহিত্যিকের লেখা ৭১টি উপন্যাস প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে প্রকাশনা সংস্থা বেহুলা বাংলা। ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ৯টি উপন্যাস। বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এর মোড়ক উন্মোচন করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক আলমগীর রেজা চৌধুরী ও আখতার হুসেন। উন্মোচিত বইগুলো হলো- বিপ্লব বণিকের ‘দ্য হাইজ্যাকার’, হামীম কামরুল হকের ‘রক্ত অশ্রু ঘাম’, সৈয়দ রিয়াজুর রশীদের ‘জ্যোৎস্নায় এক প্রাচীন নৌকা’, খালিদ মারুফের ‘শীতার্থ পৌষ’, আলী প্রয়াসের ‘বালক ও বুলেট’, মাসুম মাহমুদের ‘ভেতর ছড়িয়ে পড়ে’, ম্যারিনা নাসরীনের ‘জলঘুমুর’, মামুন রশীদের ‘টিটু মিলনায়তন’ এবং সাইফুল ইসলামের ‘বিস্কুটের টিন’। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে খেলাঘর সদস্যদের ভারত সফর ॥ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল কাল শনিবার ভারতের ত্রিপুরার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য প্রণয় সাহা। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ্ পলাশ। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন আসমা আব্বাসী (নৃত্য সমন্বয়ক), অনিকেত আচার্য (সঙ্গীত সমন্বয়ক), রকিবা খান (সঙ্গীত শিল্পী), আসিফ ইকবাল সৌরভ (সঙ্গীত শিল্পী), সামিহা ইসলাম (সঙ্গীত শিল্পী), সেতু দাস (সঙ্গীত শিল্পী), আফিয়া হুমায়রা জেবু (সঙ্গীত শিল্পী), নন্দিনী দাস (সঙ্গীত শিল্পী), হাসনাইন লক্ষ্মী অব্যয় (সঙ্গীত শিল্পী), সেমন্তি রোদসি (আবৃত্তি শিল্পী), সৈয়দা রাইসা মাহজাবিন (আবৃত্তি শিল্পী), আবিদা ভূঁইয়া (নৃত্য শিল্পী), আজিজুন্নাহার অর্পিতা (নৃত্য শিল্পী), নওরিন খান চৌধুরী (নৃত্য শিল্পী), মুনশায়াত খান মেঘা (নৃত্য শিল্পী) এবং সাবরিনা জাহিন সুজানা (নৃত্য শিল্পী)। মুন্সীগঞ্জে বইমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ॥ স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, মুন্সীগঞ্জে অমর একুশে বইমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভিন্নমাত্রা যুক্ত করেছে। ‘একুশ মানে মাথানত না করা’ শীর্ষক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বইমেলার পাশের এই আয়োজন থেকে ভাষা শহীদদের বাণী ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে চারদিকে। তাই সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখর এখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শিল্পকলা একাডেমি চত্বর। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের এ আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও সুরের মূর্ছনায় মুখরিত করে চারদিক। বুধবার রাতে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউল ইসলাম হিরু এই সভাপতিত্বে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মোমবাতি প্রজ্বলন করে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই আয়োজন চলবে অমর একুশের প্রথম প্রহর পর্যন্ত।