ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

দু’টি অনুগল্প ॥ লোকটা

প্রকাশিত: ০৭:২৮, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

দু’টি অনুগল্প ॥ লোকটা

ভেতরে একটা উঁকি দিয়ে আবার ফিরে আসে ইদ্রিস সাহেব। দিলারার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে দিন দিন। বেশ বোঝা যায় শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। আকাশে ভরা চাঁদ। ইদ্রিস সাহেব হাসপাতালের বারান্দায় পাঁয়চারি করেন। অসুস্থ মানুষের পাশে বসে থাকতে অস্বস্তি লাগে তার। স্ত্রীর জ্ঞান নেই, সুতরাং পাশে বসে থাকাটা অবান্তর। স্ত্রীর মৃত্যু পরবর্তী বিভিন্ন চিন্তা ইদ্রিস সাহেবের মাথায় আসে। চিন্তাগুলোকে জোর করে মাথা থেকে সরিয়ে দেন তিনি। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য কী না করেছেন তিনি? সিঙ্গাপুর পর্যন্ত গিয়েছেন। চাঁদের আলোয় হাসপাতালের বারান্দা চিকচিক করে, ভরা চাঁদের রুপালি আলো ইদ্রিস সাহেবের গায়ে লেপ্টে থাকে। ঋতুর মুখটা স্মৃতির পাতায় আবছা হয়ে গেছে। তবু হঠাৎ করে ঋতুর কথা মনে হয়; ওর হাসিটা কানে বাজে। আকাশে ভরা চাঁদ উঠলে ইদ্রিস সাহেবের পুরনো কথা মনে পড়ে। ঋতু মেয়েটা আধ পাগল ছিল না? ছিলই তো। গল্প টল্প লিখত টুকটাক। ইদ্রিস সাহেব কতবার পড়তে চেয়েছে ওর লেখা। ঋতু দেয়নি। পড়তে দেব না, আমার ইচ্ছা- বলে ভেংচি কেটেছে। খুব জোর করায় একবার ডায়েরি খুলে ক’টা লাইন পড়ে শুনিয়েছিল শুধু। লাইনগুলো স্পষ্ট মনে আছে ইদ্রিস সাহেবের ‘মাঝরাতে স্ত্রীর মৃত্যুর পর লোকটার মাথা থেকে বড় একটা চিন্তা নেমে গেল। হাসপাতালে লাশ রেখে আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার জন্য বাড়ি গিয়ে দেখলেন দরজা খোলা। চাবি তার পকেটেই। ড্রইং রুমের সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে তার বারো বছর আগের প্রেমিকা। ফ্যানের বাতাসে তার চুল উড়ছে। লোকটা একটুও চমকাল না।’ মাঝরাত। দিলারার মৃত শরীরটা বিছানা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ইদ্রিস সাহেব বাড়ি যাওয়ার তাড়া অনুভব করছেন। বাসা তালা দেয়া। চাবি তার পকেটেই। ঋতু কি সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে?
×