ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

কিডনি রোগীর সতর্কতা

ডা. মো. অহিদুজ্জামান

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

কিডনি রোগীর সতর্কতা

.

মহামারী করোনাভাইরাস আতঙ্কে রয়েছে পরো বিশ্ববাসীকোনভাবেই লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না এ ভাইরাসটিরফলে সুস্থ মানুষ যেমন ভয়ে কাতর, তেমনি অসুস্থ মানুষওবিশেষ করে বয়স্করাতাই সতর্ক থাকা এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরীকিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে দিন দিন বাড়ছেইঅথচ মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এটিকিছু কিছু কিডনি রােগ আছে, যথাসময়ে চিকিসা না করালে সেটি তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারে না

কারণ সমূহ

সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসওষুধ বা অন্য চিকিসার পাশাপাশি কিডনি ফেইলিউরে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছেমোটামুটি পাঁচটি ধাপে কিডনি বিকলতার দিকে অগ্রসর হয়

প্রথম চারটি ধাপ চিকিসার মাধ্যমে নিরাময় বা যে গতিতে কিডনি ক্ষয় হচ্ছে, তা কমিয়ে আনা যায়কিন্তু পাঁচ নম্বর ধাপ বা শেষ ধাপে চলে গেলে তখন রোগীর জন্য আর কিছুই করার থাকে না

সাবধানতা

বেঁচে থাকার উপায় হলো ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজনএসব পদ্ধতি এতই ব্যয়বহুল, দেশের ১০ শতাংশ লোকেরও এ ধরনের চিকিসা চালিয়ে যাওয়া কঠিনতাই এ ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হলো কিডনি বিকলতা প্রতিরোধ করা

কিডনি ভাল রাখার উপায়

যেমনÑ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্তের শর্করা এবং প্রস্রাবের এ্যালবুমিন পরীক্ষা করা ও রক্তের হিমোগ্লোবিন এওয়ানসি (HbA1C) নিয়ন্ত্রণে রাখাউচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। (১৩০/৮০-এর নিচে যাদের প্রস্রাবে এ্যালবুমিন থাকে, তাদের ১২০/৭০-এর নিচে রাখা)ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর কিডনির কার্যকারিতা প্রতি ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করাশিশুর গলাব্যথা, জ্বর ও ত্বকে খোস-পাচড়ার দ্রুত সঠিক চিকিসা করা উচিতকারণ এগুলো থেকে কিডনি প্রদাহ বা নেফ্রাইটিস রোগ দেখা দিতে পারে

ডায়রিয়া, বমি ও রক্ত আমাশয়ের কারণে রক্ত পড়ে ও লবণশূন্য হয়ে কিডনি বিকল হতে পারেতাই দ্রুত খাবার স্যালাইন খেতে হবেপ্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দিতে হবেচর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা

সতর্কতা

চিকিসকের পরামর্শ ব্যতীত এ্যান্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করাপ্রস্রাবের ঘন ঘন ইনফেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিসা নেয়া

পরীক্ষা ও চিকিসা

মাত্র দুটি পরীক্ষায় জানা যায় কিডনি রোগ আছে কিনা এবং একটি সহজ সমীকরণের বের করা যায় কিডনি শত ভাগের কত ভাগ কাজ করছেএকটি হলো- প্রস্রাবে এ্যালবুমিন বা মাইক্রো এ্যালবুমিন যায় কিনা এবং অন্যটি রক্তের ক্রিয়েটিনিনএকটু সচেতন হলেই এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবএ জন্য জীবনযাত্রা প্রণালি বদলে ফেলতে হবেমেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধিতবেই কিডনি বিকল হওয়া থেকে আমরা নিজেকে দূরে রাখতে সক্ষম হবতাই দেরি না করে যথাযথ চিকিসকের পরামর্শে থাকা ভাল

 

লেখক : কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইউরোলজি বিভাগ, বিএসএমএমইউ

চেম্বার : সেন্ট্রাল হসপিটাল, বাড়ি-২,

 রোড-৫, গ্রিনরোড, ধানমন্ডি, ও আল-রাজি, হাসপাতাল, ফ্রামগেট, ঢাকা

০১৭১১-০৬৩-০৯৩, ০১৯১১-৭৬৫-১৫০