আশুলিয়ায় নারী ও শিশু হাসপাতাল
আশুলিয়ায় নারী ও শিশু হাসপাতালে এক সভায় প্রত্যক্ষ হয় ২০২৫ সালে অস্ত্রোপচারের পৃথিবীর আলো দেখে ১৭ লাখ শিশু। শুধু কি তাই? আরোও উঠে আসে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়াও অস্ত্রোপচারে করা হয় শেষ মুহূর্তে গর্ভধারিণী সর্বংসহা জননীকে। বিজ্ঞানের অবদান অস্বীকার্য। তথ্য প্রযুক্তির নব্যযুগ ও সময়ের ন্যায্যতা। আর বিজ্ঞানের উদ্ভাবনি শক্তি কতকিছুকে সহজ করে সার্বিক জনগণের নিত্য আবশ্যিক চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে তাও এক অভাবনীয় নব সৃষ্টির নির্মাল্য।
সন্তান ধারণ ও জন্মদান যে কোনো নারী স্বাভাবিক এবং ঐশ্বরিক শৌর্য। যা সৃষ্টির উষাকাল থেকে আজ অবধি বহমান। বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে সমাজ সংস্কারের দ্রুততার নিত্য নতুন আবহ সমর আর জীবনকে করেছে নিরাপদ নির্বিঘœ। কিন্তু বিপরীত প্রদাহ থেকেও সেভাবে মুক্তি না মেলা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সমান অংশীদারিত্ব। স্বাভাবিক প্রসব বেদনা এবং সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানো মাতৃশৌর্যের নিয়ামক। বিধাতারও অপার মহিমা। সন্তানকে জন্ম দিয়ে গর্ভধারিণী মায়ের যে তৃপ্তি, আনন্দ আর আবেগ তার সঙ্গে দুনিয়ার অন্য কোনো কিছু তুলনাতেই আসে না।
একসময় স্বাভাবিক প্রসবই ছিল গর্ভজাত সন্তানকে দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করানো। অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লব গোটা বিশ্বকে নতুন এক যন্ত্রকৌশলের সামনে দাঁড় করায়। আবিষ্কার আর প্রযুক্তিতে ভিন্নতর এক পৃথিবী নতুন সময়ের অধীন হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবে ও আসে আধুনিকতার অভিগমন।
সম্মিলিত আলোচনা সভায় উদ্বেগজনকভাবে উঠে আসে প্রয়োজন ছাড়াই গোটা বাংলাদেশে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্মগ্রহণ নাকি বাড়ার দিকে। যেখানে সারা দুনিয়ায় অস্ত্রোপচারে শিশুর জন্মহার ২১ শতাংশ। সেখানে আমাদের ক্ষুদ্র বাংলাদেশে তা ৪৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। দুঃখজনক ও আশঙ্কিত হবারই বিষয়। এখানে অর্ধেকেরও বেশি। আধুনিক দুনিয়া যন্ত্রসভ্যতায় ক্রমান্বয়ে নিত্য-নতুন উদ্ভাবনে ছুটে চলেছে। সৃষ্টির আদিম বেদনাকে প্রশমিত করতে এখন সেখানে যুক্ত হয়েছে যান্ত্রিক সভ্যতা। যা কিনা মা-শিশু কারোই জন্যই সেভাবে স্বাস্থ্য গত হিসেবে মঙ্গলজনক নয় বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে ওঠে আসছে। যা কি না মা ও সদ্যজাত শিশুর জন্মকে নানা মাত্রিক উদ্বেগ-আশঙ্কায় আবর্তিত করছে। মায়েরা নানামাত্রিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন যা কিনা প্রজন্ম স্বাস্থ্যকে নিরাপদে নির্বিঘেœ সুরক্ষিত রাখছেই না।
প্রতি ৫ শিশুর মধ্যে ১ জনের জন্ম অস্ত্রোপচারে। শুধু কি মাও শিশুর স্বাস্থ্য বিপন্নতা? তার চেয়ে বেশি নাকি আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া, সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে নিতান্তই জরুরি। কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে প্রয়োজন ছাড়াই নাকি অস্ত্রোপচার করতে দ্বিধা করছেন না স্বয়ংষজ্ঞ। ধৈর্যচ্যুতি, তাড়াহুড়া কিংবা অকারণের যদি তাই করা হয় তাহলে অবিবেচকের মতো তো বটেই। তার চেয়ে বেশি মাও সদ্যজাত শিশুর অবিচ্ছেদ্য, প্রয়োজনীয় অঙ্গসংস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়ার মতোই নয়।
যে কোনো নারীর সবচাইতে বড় শক্তি আর সাহস তার চিরায়ত মাতৃত্ব। যাকি না বিধাতাই দিয়েছেন নারীর দেহে আর মনে। সৃষ্টির আদি যাতনা আর প্রেরণা নারী মনোশক্তি আর দৈহিক অত্যাচর্য এক সাহস আর মাধুর্যময়তায়। যা কিনা দুনিয়ার কোনো কিছু সঙ্গেই তুলনীয়ই নয়। আনন্দ যেমন সীমাহীন সৃষ্টির বেদনাও গভীর থেকে গভীরতার। যা শুধু সর্বংসহা জননীর একান্ত নিজের আর দুনিয়াকে বংশপরম্পরায় এগিয়ে নিতে।
অপরাজিতা প্রতিবেদক
প্যানেল হু








