ছবি: সংগৃহীত।
শীত মৌসুমে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বকের নানা সমস্যার মধ্যে ঠোঁট ফাটা একটি খুবই পরিচিত ও ভোগান্তিকর সমস্যা। ঠান্ডা ও কম আর্দ্রতার প্রভাবে ঠোঁট দ্রুত শুষ্ক হয়ে ফেটে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘কাইলাইটিস’। অনেক ক্ষেত্রে ঠোঁট ফাটার কারণে ব্যথা, রক্তপাত এবং অস্বস্তিও দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁট বেশি সংবেদনশীল। কারণ ঠোঁটে তেল উৎপাদনকারী সিবাসিয়াস গ্রন্থি নেই। ফলে প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখার সক্ষমতাও কম। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং ঠান্ডা হাওয়ার কারণে ঠোঁটের আর্দ্রতা দ্রুত নষ্ট হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠোঁট ফাটার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস ঠোঁটের ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। পাশাপাশি অনেকের অভ্যাসগত কারণে সমস্যাটি আরও বেড়ে যায়। ঠোঁট ফাটলে অনেকে বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট চেটে থাকেন। কিন্তু লালায় থাকা পাচক এনজাইম ঠোঁটের পাতলা ত্বকের ক্ষতি করে এবং ফাটল বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া শীতকালে কম পানি পান করায় শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যার প্রভাব ঠোঁটেও পড়ে।
এ অবস্থায় ঠোঁট ফাটা রোধে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত ঠোঁটের মৃত কোষ দূর করতে চিনি, মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঠোঁটের শুষ্কতা কমে এবং নতুন কোষ তৈরি হতে সাহায্য করে।
ঠোঁটকে আর্দ্র রাখতে নারকেল তেল, দেশি ঘি বা মাখন ব্যবহারের কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রাকৃতিক উপাদান ঠোঁটের গভীরে আর্দ্রতা সরবরাহ করে। পাশাপাশি মধু ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। মধু প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ঠোঁটের সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, শীতকালে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। বাইরে বের হওয়ার সময় ঠোঁটকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে এসপিএফ-যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা উচিত। তবে ঠোঁট ফাটার সমস্যা যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা জটিল আকার ধারণ করে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এম.কে








