ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এ্যাওয়ার্ড

মেঘনা ইমদাদ

প্রকাশিত: ০১:৫২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এ্যাওয়ার্ড

ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এ্যাওয়ার্ড নিচ্ছেন মেঘনা ইমদাদ

যশোরের ঝিকরগাছার পেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। তিনিও এমন অনন্য সম্মানের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। তবে মেঘনা খাতুন অপরিণত বয়সে বাল্যবিয়ের আবর্তে পড়া ১৪ বছরের এক বালিকা। তিন বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেঘনা ১৪ বছরে পা দিতেই বিয়ের সাজে সজ্জিত হয়ে পিঁড়িতে বসা যেন জীবনের আকাক্সিক্ষত স্বপ্ন চিরতরে মুছে দেয়া। যা বাংলাদেশের অপরিণত বিবাহ অত্যাচারের নির্মম ঘটনা। কিন্তু মেঘনার বেলায় তা হয়নি।

বরং স্বামী ইমদাদুল হক ইমদাদের একান্ত উৎসাহ আর উদ্দীপনায় মেঘনা নতুন করে লেখাপড়া করার যে সুযোগ পেয়েছেন তা যথেষ্ট শ্রদ্ধা আর সম্মানের একটা বিষয়। স্মরণ করা যেতে পারে, অবিভক্ত বাংলায় নারী শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন উনিশ শতকের প্রাণপুরুষ বিদ্যাসাগর। আর একংিশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে দাঁড়িয়ে বলতে হয় বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের জন্য যে সম্ভাবনার জগত খুলে দিলেন সেখানে শুধু নারীর অবিস্মরণীয় অগ্রগতিই নয় বরং তার চেয়েও বেশি নারী-পুরুষ সবার মধ্যে এক প্রকার সমতার বন্ধন জোরালোভাবে গেঁথে দিলেন সেটাও উল্লেখ করার মতোই।

কারণ মেঘনার স্বামী শ্রদ্ধাভাজন ইমদাদ তার বালিকা স্ত্রীকে ঘরে বসিয়ে রেখে কিংবা সাংসারিক কর্মযোগে সম্পৃক্ত না করে বরং শিক্ষার আলোকিত বলয়টি উৎসর্গ করলেন। আর বালিকা মেঘনা? তার সদ্ব্যবহার করতে মোটেও কার্পণ্য করল না। শুধু তাই নয়, লেখাপড়া শেষ করে নতুন পেশা নির্বাচনে আরও সফলতার দিকে এগিয়েই গেল। তার পরই না প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত এই পুরস্কার অর্জন। ঝিকরগাছা থেকেই ২০০৫ সালে মাধ্যমিক, ২০০৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক করে উচ্চ শিক্ষায় অনুপ্রবেশ শুধু স্বামীর সহযোগিতাই অবারিত হয়নি বরং মেঘনার অনমনীয় মনোবল আর নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার দুর্লভ চেতনাই সফল হয়েছে বললে মোটেও অতিশয়োক্তি হয় না।

২০১১ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করা জীবনের এক অভাবনীয় পালাক্রম। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে স্বামীর অনুপ্রেরণায় উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েও ফেলেন। স্বামীর আগ্রহ আর নিজের শ্রমে গড়ে তোলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নলোকের পাঠশালা’। যেখানে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অনাদরে অবহেলিত উপেক্ষিত আর ছন্নছাড়া জীবনের ভবঘুরে শিশুরা নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে পায়। শুধু তাই নয় এমন সব সুবিধাবঞ্চিত অভিভাবকরাও মেঘনার কর্মযোগের আওতায় এসে নিজেদের স্বনির্ভর করে তোলেন।

তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করে দেয়াও মেঘনার সম্প্রসারিত কর্মযজ্ঞের এক বিশেষ প্রকল্প। শুধু নিজেই সফল হননি পাশাপাশি চারপাশের অনেকজনকে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখানোও মেঘনার অবারিত কর্মপরিকল্পনা। যা শেষ অবধি প্রধানমন্ত্রীর তরুণ প্রজন্মের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হতেও সময় লাগল না। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেয়া মেঘনা এখন ৩৫ বছরের জীবন পার করছেন। আগামীর বাংলাদেশ  তো তাদের সুদক্ষ কর্মপ্রেরণায় নতুন ও প্রযুক্তির বাংলাদেশকে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে উপহার দেবে।
নিগার সুলতানা জ্যোতি
খেলার সমৃদ্ধ জগতেও নারীদের নজরকাড়া অংশীদারিত্ব হতবাক হওয়ারই মতো। সঙ্গত কারণে প্রধানমন্ত্রী ইয়ুথ ভলান্টিয়ার এ্যাওয়ার্ড-২০২২-এ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
পুরস্কার দেয়ার সময় জ্যোতি উপস্থিত ছিলেন না। তার বাবা মোহাম্মদ সিরাজুল হক জ্যোতির পক্ষে দুর্লভ সম্মানটি গ্রহণ করেন। শেরপুরের মেয়ে জ্যোতি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিয়মিত সদস্য। খেলার সময় তিনি মূলত উইকেট কিপারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
পাশাপাশি ডান হাতি ব্যাটসম্যান হিসেবেও তার ভূমিকা অনন্য। জ্যোতি শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন।

পরবর্তীতে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতক প্রথম বর্ষের ইংরেজী বিভাগের (সম্মান) ছাত্রী। লেখাপড়া আর খেলাধুলার পাশাপাশি তিনি শেরপুরের ক্রিকেট একাডেমিতে সম্ভাবনাময় উদীয়মান নতুন ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও দরিদ্র খেলোয়াড়দের উপকরণ সহযোগিতাও দিয়ে যাচ্ছেন। যুব উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক হরেক রকম কর্মযোগে তার বিশেষ অংশীদারিত্ব চোখে পড়ার মতো। ক্রীড়া ক্যাটাগরিতেই নিগার সুলতানা জ্যোতি প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত এই অনবদ্য পুরস্কারটি অর্জন করেন।

২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচীতে টি-২০ এবং একই দলের বিপক্ষে ৬ অক্টোবর ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিষেক হয় জ্যোতির। নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশকে জয়মাল্য দিয়ে অভিষিক্ত করার দুর্দমনীয় ক্রিকেটার এই জ্যোতি। ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট জন্ম নেয়া জ্যোতি এখন মাত্র ২৫ বছরের তরুণী। সামনে আরও সম্ভাবনা তার জন্য অবশ্যই অপেক্ষা করছে। যোগ্যতমদের হাতেই প্রধানমন্ত্রীর এমন অভাবনীয় সম্মান তুলে দেয়া হলো।