ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামলা, তীব্র ঝুঁকিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ-ভারত

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ১৯ মার্চ ২০২৬

কাতারে গ্যাস স্থাপনায় হামলা, তীব্র ঝুঁকিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ-ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কাতারের বৃহৎ গ্যাস স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা। দেশটির প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি-তে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু কাতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারত—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে দেখা যায়, পাকিস্তান তাদের প্রায় পুরো এলএনজি আমদানিই কাতার থেকে সংগ্রহ করে। একইভাবে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি এলএনজি নির্ভরতা কাতারের ওপর। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এসব দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প খাতে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান QatarEnergy উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাস লাফান শুধু এলএনজি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়; এখানে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো সার, সালফার এবং হিলিয়ামও উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে হিলিয়াম, যা মাইক্রোচিপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তার বৈশ্বিক সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবে, এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Mily

×