ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

নবীনগরের ভন্ড কবিরাজ কামরুলের গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

মো. সফর মিয়া, নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ১৯ মার্চ ২০২৬

নবীনগরের ভন্ড কবিরাজ কামরুলের গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

ছবি: বাড়ি এবং চিকিৎসালয়

ব্রাক্ষণবাড়িয়া নবীনগরের কথিত ভন্ড কবিরাজ কামরুল ইসলাম কে গ্রেফতারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ সরেজমিনে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। 

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এই ভন্ড কবিরাজ উপজেলার রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের উত্তর দাররা(দাল্লা) গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। শুরুর দিকে উপজেলার জাফরপুর গ্রামের একটি মসজিদের ইমামতি করত, ঐ গ্রামের  দুই ছেলের উপর মিথ্যা জ্বীনের নাটক সাজানোর ঘটনায় তাকে ঐখান থেকে বিতারিত করে স্থানীয় জনগণ। পরে উপজেলা সদরের মাঝিকাড়া গ্রামের খাদ্য গোডাউন সংলগ্ন একটি পরিত্যাক্ত রুমে আস্তানা করে মৃত্যু মানুষের হাড়-কংকাল দেখিয়ে অবাধ্য কে বাধ্য, স্বামী-স্ত্রীর অমিল,কঠিন জটিল সমস্যা সহ নানান প্রলোভনে মহিলাদের নিকট থেকে জ্বীনকে দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা। তার কাজের হাদিয়া ২১ হাজার ৫ শত থেকে শুরু হয়ে ৩ লক্ষের উপরে। ঐ টাকায় নামে বেনামে সম্পদ ক্রয় করা সহ উপজেলার পৌরসভার ৬ নং ওয়াডের ঈদগাহের পিছনে কয়েক কোটি টাকার মূল্যের জায়গায়  গড়ে তুলেছে বাগানবাড়ি খ্যাত নোহা এন্ড কহিনূর মঞ্জিল নামক বিশাল আলিশান  অট্টালিকা। এছাড়া নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে মাঝেমধ্যে গরুর মাংস দিয়ে  খাবারের বিশাল আয়োজনও করে সে, তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে পড়তে হয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির তোপের মুখে। আবার অনেকে মনে করে জাদু টোনা বান মেরে মেরে ফেলবে সে।  উপজেলার পৌর শহরের খাজানগরের শাকিলের বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন টিভিতে প্রচারিত হওয়ার পর নেটিজনেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভন্ড কবিরাজ কামরুলের গ্রেফতার ও তার সকল অবৈধ সম্পদ জব্দে ফুঁসে উঠেছে। এবং ধীরে ধীরে বের হতে থাকে তার নানান অবৈধ কর্মকান্ডের নথি।

এবিষয়ে পৌরসভার খাজানগরের ভোক্তভোগী শাকিল ভন্ড কবিরাজ কামরুলের কোটি টাকার উৎস খুঁজে বের করা সহ শাস্তি দাবি করে জানান, তার সংসার না ভাঙ্গতে অনেক অনুরোধ করা হলেও  এই কবিরাজ কামরুল কর্নপাত না করে টাকার লোভে  তার বাড়ি থেকে তার ১৬ মাসের বাচ্চা সহ বউকে নিয়ে গিয়ে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেয়,এবং তাকে শারিরীক নির্যাতনও করে।

ঝরনা নামক অপর আরেক ভুক্তভোগী মহিলা এই ভন্ড কবিরাজের গ্রেফতার দাবি করে জানান, অনেক লোক দূর থেকে আসতে দেখে আমিও যাই,এবং ২১ হাজার ৫০০ টাকা হাদিয়া দিয়ে আমার কাজ শুরু করে ১ লাখ ১৬ হাজার পর্যন্ত নিয়ে এখন আমার কাজও হয়নি এবং আমাকে আর পাত্তা দিচ্ছে না। সে নতুন রোগী ধরে টাকা নেয়ার পর আর পাত্তা দেয় না। 

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়,কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় সে এসকল অপরাধ কর্মকান্ড করে অনেক প্রবাসীর সংসার ভেঙেছে। তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গেলেই ঐসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তোপের মুখে পড়তে হয়। 

সকল অভিযোগের বিষয়ে কবিরাজ কামরুল জানান, ব্যাংক থেকে লোন উত্তোলন করে সে এই আলিশান বাড়ি করেছে। লোন পরিশোধের মাধ্যমে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। জ্বীনের নাটক সাজানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেই কেটে পড়ে সে।

এবিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কবিরাজের বিরুদ্ধে হওয়া নিউজ  দেখেছে,এখনও কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পায়নি।তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

রাজু

×