ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন প্রসিদ্ধ জনপদ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ’ হিসেবে পরিচিত প্রকৃতি কন্যা নামে খ্যাত বিভাগীয় নগরী সিলেট। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও স্বচ্ছ পানির মেলবন্ধন এই অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে করেছে অনন্য আকর্ষণীয়। ওলি আউলিয়ার স্মৃতিধন্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ জেলাটি পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা পর্যটন খাত আবারও চাঙা হওয়ার পাশাপাশি এবার শতকোটি টাকার ব্যবসার আশাও করছেন তারা। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পান্তুমাই অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওরও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবারের ঈদেও এসব পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ কারণে হোটেল-রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন গাইডরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সিলেটের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন মন্দা কাটিয়ে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তাদের আশা। একই সঙ্গে এই মৌসুমে শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের ছুটিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে, যা এ অঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ‘সিলেটের ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। দেড় বছর ধরে দেশের নানা সিলেটের পর্যটন খাত জমে ওঠেনি। তবে এবার জমে উঠবে পর্যটন খাত। আমরা আশা করছি, ১০০-১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে সিলেটের পর্যটন খাতে। ঈদের সময়ে সিলেটে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ইতিমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উৎপল কুমার চৌধুরী জানান, পর্যটন স্পটগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
অন্যদিকে, ঈদে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কথাও জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বৈঠক হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এম.কে








