ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া ও মেক্সিকোয় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা

জনকণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২৭, ৩০ মে ২০২৪

ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া ও মেক্সিকোয় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বিক্ষোভকারীকে আটকের পর চ্যাংদোলা করে নিয়ে যায় পুলিশ

গাজায় ইসরাইলি বর্বরতা বন্ধ ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ব্রিটেন, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ও মেক্সিকো সিটিতে ফিলিস্তিনপন্থিদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৪০ জনকে আটক করা হয়। ব্রিটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, হঠাৎ হাজারখানেক লোক ডাউনিং স্ট্রিটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভস্থলের কিছুটা দূরেই প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের বাসভবন। ফলে ওই জায়গায় বিক্ষোভের নিয়ম নেই। তার পরও বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ এখানে জড়ো হয় ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লেøাগান তোলে। তাই তাদের আটক করতে বাধ্য হয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে একাধিক কর্মকর্তা আহত হন। একই দিন মেক্সিকো সিটি ও ভিয়েনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে 
ফিলিস্তিনপন্থিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মেক্সিকো সিটির ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। এ সময় প্রতিবাদকারীরাও দূতাবাস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পানির বোতল নিক্ষেপ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি ও ক্যালিফোর্নিয়া ভার্সিটিতেও ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়া ভার্সিটির বিক্ষোভে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বহু শিক্ষক ও কর্মকর্তা।

ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ করায় কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন তারা। খবর আলজাজিরা, এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।    
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে পশ্চিমারা যখন বিভক্ত, ঠিক তখন পার্লামেন্টের ভেতরেই ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরলেন ফ্রান্সের একজন আইনপ্রণেতা। পরে যা নিয়ে সৃষ্টি হয় তুলকালাম পরিস্থিতি। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লা ফ্রান্স ইনসুমিস পার্টির নেতা সেবাস্তিয়েন দেলোগু একটি ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরার পর, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশন স্থগিত করেন ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রধান।

অধিবেশন স্থগিত করার সময় জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়ায়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, ‘এটি সহ্য করা হবে না। তবে লা ফ্রান্স ইনসুমিস পার্টি কর্তৃপক্ষ জানায়, আমরা সবসময়, সর্বত্র শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে থাকব।’ সেখানে ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ফ্রান্সের জুনিয়র বাণিজ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রিস্টার গাজা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোরও ঘটনা ঘটে।

এদিকে উপযোগী মুহূর্তে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ফ্রান্স। মঙ্গলবার জার্মানিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের জন্য কোনো লুকোচুরি নেই, আমি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। তবে  আমি মনে করি এই স্বীকৃতি একটি কার্যকর মুহূর্তে হতে হবে।’

এ ছাড়াও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি যাতে একটি কার্যকর ফলাফল বয়ে আনে তার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাফাহ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতে আক্রান্ত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ রাফাহতে ইসরাইলি হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এ ছাড়া বেলজিয়ামও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি উপযোগী সময়ের অপেক্ষা করছে। ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ঢেউ আফ্রিকা মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সেনেগালেও বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির রাজধানী ডাকারে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে স্লেøাগান তোলে। ডাকারের ওই বিক্ষোভে কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেন।

এদের মধ্যে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রয়েছেন। এ ছাড়া কিউবা, লিবিয়া এবং লেবানন অ্যাম্বাসির সিনিয়র কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এসব রাষ্ট্রদূত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দেন। আন্তর্জাতিক আদালত ইসরাইলকে রাফাহ শহরে আক্রমণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পরদিন স্টকহোম, ডাবলিন ও বার্লিনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে স্লোগান তোলে।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানীতে ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনে (ইউসিডি) বিক্ষোভ চলছে। ইউসিডি ক্যাম্পাসের বিপরীতে একটি সেতুতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে বিভিন্ন দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যতক্ষণ না ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্যাম্পে থাকবে।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে মিছিল করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা গাজায় ইসরাইলের বর্বর এ হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এ ছাড়া জার্মানির বার্লিন শহরে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায়, এক হাজার লোক মেট্রো স্টেশনে জড়ো হয়ে গাজায় ইসরাইলের আক্রমণ এবং ইসরাইলের প্রতি জার্মানির সমর্থনের প্রতিবাদে তারা মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা রাফাহতে ইসরাইলের হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং সরকারের কাছে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন বন্ধ করার দাবি জানান।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা তেল আবিবকে তার বাহিনীকে গণহত্যামূলক কর্মকা- থেকে বিরত রাখতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করেছে। অভিযাত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ বেশি দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের এক  সমীক্ষায় বিষয়টি বলা হয়। সমীক্ষায় ইসরাইল দাবি করেছে, ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভ নি¤œ আয়ের ছাত্রদের প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি হচ্ছে। নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইসরাইলপন্থি কৌতুক অভিনেতা জেরি শেনফিল্ডকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা শোনামাত্র সমাবর্তন অনুষ্ঠান ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ফ্রান্স, ব্রিটেন, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, ইতালি, পাকিস্তান, কানাডা, জাপান, ভারত, ইরাক, দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, জর্ডান, জার্মানি, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডসহ আরও বহু দেশে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ হয়।

×