ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

চরম দুর্ভোগে রাজধানীর ৫৫ লাখ মানুষ

দামেস্কে তীব্র পানি সঙ্কট সিরিয়া যুদ্ধের নতুন ক্ষত

প্রকাশিত: ০৪:০০, ৬ জানুয়ারি ২০১৭

দামেস্কে তীব্র পানি সঙ্কট সিরিয়া যুদ্ধের নতুন ক্ষত

সিরিয়া যুদ্ধ কোন পথে যাবে, এ নিয়ে দামেস্কের লাখ লাখ বাসিন্দার দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের মধ্যেই নতুন উৎকণ্ঠা জায়গা করে নিয়েছে। তারা উদ্বিগ্ন যে খাবার রান্না, বাসন ও কাপড় ধোয়া এবং গোছলের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে কিনা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সিরীয় রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার ৫৫ লাখ মানুষ চরম পানি সঙ্কটে ভুগছে। এর ফলে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। দামেস্কের এক নারী ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্টে বলেছেন, যখন পৃথিবী আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়, তখন আমরা তা অন্যভাবে সমাধানের চেষ্টা করি। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কিভাবে চায়ের কাপ পরিষ্কার করছেন। তিনি ভিডিওতে আরও বলেছেন, যখন পানি বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন আমরা কূপ খনন করি। যখন পানির কল বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন আমরা কল তৈরি করি। সিরিয়ার বেশির ভাগ সমস্যার মতো দামেস্কের পানি সঙ্কট যুদ্ধের একটি উপসর্গ। যুদ্ধে হাজার হাজার লোক নিহত এবং যুদ্ধ দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটিকে কয়েক অঞ্চলে বিভক্ত করেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার, সশস্ত্র বিদ্রোহী ও জিহাদী সংগঠনগুলো। গত সপ্তাহে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি অস্ত্রবিরতি হয় এবং ঘোষণা করা হয়, দেশজুড়ে সংঘর্ষের মাত্রা কমিয়ে আনা হবে। এ সত্ত্বেও সর্বত্র লড়াই বন্ধ হয়নি এবং এ বিষয় সমাধান হয়নি যে, শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা খনিজ সম্পদের কি হবে। দামেস্কের পানি সঙ্কটের ঘটনাকে এমনই মনে হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দামেস্কের পানির বেশিরভাগ ঐতিহাসিকভাবে আসে শহরের উত্তরে বারাদা উপত্যকা থেকে। আর এই উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে বিদ্রোহীরা, যারা আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর থেকে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে এই সঙ্কটের শুরু হয়। পানির উৎসের কাছে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে উভয়পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছে। সরকার বিরোধী কর্মীরা পানির উৎসের কাছের অবকাঠামোর কিছু ছবি অনলাইনে পোস্ট করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারী হেলিকপ্টার থেকে ব্যারেল বোমা ফেলে এই অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। অপরদিকে সরকার অভিযোগ করেছে, বিদ্রোহীরা প্রথমে পানি দূষিত করেছে, পরে অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিসের মুখপাত্র জেনস লায়ের্ক মঙ্গলবার এক ই-মেইলে বলেছেন, পানির অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু কারা এর পেছনে তা আমরা বলছি না। কারণ ওই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে, তাই আমরা সেখানে প্রবেশ করতে পারছি না। অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও বারাদা উপত্যকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সরকারবিরোধী কর্মীরা বলেছেন, সরকারী বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহ গ্রুপের যোদ্ধারা ওই এলাকা দখলের চেষ্টার সংঘর্ষ অব্যাহত রেখেছে। Ñনিউইয়র্ক টাইমস