ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

বার্লিনে ট্রাক হামলার নেপথ্য কাহিনী

মুসলিমদের সঙ্গে অন্যদের বিভেদ বাড়ানোই লক্ষ্য

প্রকাশিত: ০৩:৪৩, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬

মুসলিমদের সঙ্গে অন্যদের বিভেদ বাড়ানোই লক্ষ্য

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সরকারী মিডিয়া চ্যানেল আমাকের দাবিটি ছিল সংক্ষিপ্ত ও বেদনাদায়ক। আইএসের এক সৈনিক ইউরোপে বেসামরিক লোকজনের ওপর, এবার বার্লিনে উৎসবমুখর ক্রিসমাস মার্কেটে আরও একবার হামলা চালিয়েছে। এ দাবির সত্যতা নিয়ে মঙ্গলবারও প্রশ্ন থেকে যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষ ছুটি উপভোগকারীদের ওপর ভয়াবহ ট্রাক হামলা চালানোর দায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও এর মোটিভ উভয়ের খোঁজে অনুসন্ধান চালায়। কিন্তু এরই মধ্যে দেখা যায়, হামলার মধ্য দিয়ে আইএসের ঘোষিত অন্যতম লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। আর সেটি হলো কোন পাশ্চাত্য দেশে মুসলিম ও অন্য প্রত্যেকের মধ্যে বিভেদ তীব্র করার আশায় ভীতিও অরাজকতার বিস্তার ঘটানো। সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞরা ঐ দাবিকে জার্মানির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণারই শামিল বলে গণ্য করেন। অথচ এ দেশটিতে এর ফরাসীভাষী প্রতিবেশীগুলোতে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী সহিংসতার তুলনায় তেমন কিছুই ইতোপূর্বে দেখা যায়নি। ধর্মীয় সহনশীলতার দিক দিয়ে সুনাম থাকা সত্ত্বেও জার্মানিকে জঙ্গী দলটি সশস্ত্র হামলার এক গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচনা করে এসেছে। ইসলামিক স্টেট কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাকের মতো অপ্রচলিত অস্ত্র ব্যবহার করাসহ যে কোন উপায়ে জার্মানিতে হামলা চালাতে সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ জার্মানিতে মুসলিমবিরোধী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য। গ্রুপটির মতে, এর ফলে সুচিত দমন অভিযান ইউরোপীয়দের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং দ্বিধাগ্রস্ত মুসলিমদের জিহাদীদের পক্ষে ঠেলে দিয়ে আইএসেরই উপকারে আসবে। সিআইএর সাবেক সন্ত্রাসবাদ কর্মকর্তা পল পিলার বলেন, আইএসবিরোধী তৎপরতায় কেবল ক্ষুদ্র ভূমিকা পালন করলেও জার্মানি পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হওয়ায় দেশটি পশ্চিমা জোটের ভিতর বিভেদের বীজ বপনের পক্ষে এক উত্তম স্থান হতে পারে। পিলার বলেন, যে দেশ মুসলিম অভিবাসীদের এক বিশেষ অংশগ্রহণ করেছে, সে দেশে এরূপ অভিবাসী ও শরণার্থীদের তাদেরই আশ্রয়দাতাদের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য কেবল জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের অন্যত্রও অভিবাসনবিরোধী মনোভাব তীব্রতর করতে পারে। বার্লিনের এক স্কয়ারে হামলার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আইএস এর দায়িত্ব স্বীকার করে। সেখানে এক অজ্ঞাত পরিচয় ঘাতক বড়দিন উপলক্ষে রাস্তায় আয়োজিত এক জনাকীর্ণ মেলায় জনতার ওপর ট্রাক চালিয়ে নিয়ে ১২ জনকে হত্যা ও প্রায় ৫০ জনকে আহত করে। জার্মান পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এমন এক পাকিস্তানী শরণার্থীকে প্রথমে আটক করেছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে জড়িত ছিল না বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে তাকে ছেড়ে দেয়। গ্রুপের বিবৃতিতে একে ‘ইসলামিক স্টেট সৈনিকের’ হামলা বলে বর্ণনা করা হয়, কিন্তু হামলাকারীর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অতীতে গ্রুপটি এর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়েছিল কিন্তু সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল না বা এর সদস্য ছিল না এমন ব্যক্তিদের সংঘটিত সন্ত্রাসী তৎপরতা ও কৃতিত্ব দাবি করেছিল।