ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

অফিসে ঢুকতে ১ মিনিট দেরি করলেই শাস্তি সরকারি চাকরিজীবীদের

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২২ জুন ২০২৪

অফিসে ঢুকতে ১ মিনিট দেরি করলেই শাস্তি সরকারি চাকরিজীবীদের

সরকারি চাকরিজীবী।

সরকারি চাকরিজীবীদের অফিসে ঢোকার সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত সব আধিকারিককে ওই নির্দিষ্ট সময় মেনে দপ্তরে প্রবেশ করতে হবে। এক মিনিট দেরি করলেও হবে শাস্তি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রের কর্মী এবং প্রশিক্ষণ বিভাগ এই নিয়ম চালু করেছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সিনিয়র আধিকারিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। কারও জন্য বিশেষ কোনো ছাড়ের ব্যবস্থা নাই। নির্ধারিত সময় মেনে ঘড়ি ধরেই সব কর্মচারীকে অফিসে ঢুকতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে সরকারি কর্মচারী এবং আধিকারিকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঢুকতে বলা হয়েছে। ১৫ মিনিট দেওয়া হয়েছে ‘গ্রেস টাইম’ হিসাবে। অর্থাৎ, দপ্তরে প্রবেশের সরকারি সময় সকাল ৯টা। সবচেয়ে দেরি হলে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তারা দপ্তরে ঢুকতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি দেরি করা যাবে না।

কর্মীদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি নথিভুক্ত করাতে হবে নির্দিষ্ট দপ্তরে। অর্থাৎ, নিজ নিজ পরিচয়পত্র দপ্তরে ঢোকার সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে পাঞ্চ করাতে হবে। তাতেই উপস্থিতি নথিভুক্ত হবে। ৯টা ১৫ মিনিটের পর কেউ নিজের কার্ড পাঞ্চ করালে তার পৌঁছাতে দেরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে।

সরকারি কর্মচারীরা সারা বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু দিনের ছুটি বরাদ্দ থাকে। কোনো প্রয়োজনে সেখান থেকে ছুটি নিতে পারেন তিনি। এই ধরনের ছুটিকে বলে ‘ক্যাজুয়াল লিভ’। কোনো কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দফতরে না পৌঁছলে সেই বরাদ্দ ছুটির মধ্যে থেকে অর্ধদিবস কাটা যাবে তাঁর। অর্থাৎ, দু’দিন দেরি হলেই হাতছাড়া হবে একটি আস্ত ছুটির দিন। এ ছাড়াও কোন দফতরে কোন কর্মচারী কখন আসছেন, কখন যাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তার দিকে নজর রাখতেও বলা হয়েছে।

অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেই সময়ের হিসাব রাখা হয় না। কর্মীরা যে যখন খুশি অফিসে ঢোকেন এবং সময়ের আগেই বেরিয়ে যান। কেউ কেউ অফিসে ঢুকে উপস্থিতি নথিভুক্ত করিয়েই আবার বেরিয়ে যান। এতে সাধারণ মানুষকেও অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারি দপ্তরগুলোতে সময়ের এই সমস্যা মেটাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির উপস্থিতি অনেক আগেই চালু করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিডের সময় থেকে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনেক আধিকারিক সেই নিয়ম আর আগের মতো করে মানতে চাননি। 

সরকারি সূত্রের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম আটকাতেই নতুন করে নিয়মের কড়াকড়ি করা হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া। 

 

এম হাসান

×