ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের স্থল অভিযান এপ্রিলের শেষে!

প্রকাশিত: ২৩:০০, ২০ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের স্থল অভিযান এপ্রিলের শেষে!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আলোচনা জোরদার হয়েছে। টানা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী মহলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের বিষয়টি নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ দখল করা গেলে Strait of Hormuz অঞ্চলে ইরানের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ে।

সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আগে আরও কিছুদিন বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পরিস্থিতি অনুকূলে এলে সীমিত পরিসরে সেনা অভিযান চালানো হতে পারে।

এদিকে Benjamin Netanyahu-এর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলও ইরানের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে স্থল বাহিনী ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আকাশপথে হামলা নয়, অভিযানে “স্থল উপাদান” থাকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উভচর যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli-কে অঞ্চলটিতে পাঠানো হয়েছে, যা সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খার্গ দ্বীপে অভিযান চালানো হলে তা শুধু ইরানের অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে।

তাদের মতে, স্থল অভিযানের পরিবর্তে নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার বা কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।

Mily

×