মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ভয়াবহ হামলায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবের তেল শোধনাগারগুলোতে এই হামলার পর পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াদ। প্রয়োজনে মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে ইরানকে পরমাণু হামলার মাধ্যমে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের নীতি-নির্ধারকরা।
যুদ্ধের নেপথ্যে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও মার্কিন যোগসূত্র
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নেপথ্যে সৌদি আরবের সক্রিয় সমর্থন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিয়মিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তেহরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ইরানের পক্ষ থেকে একে ‘মুসলিম বিশ্বের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
হুমকির মুখে আরামকো, সক্রিয় হচ্ছে প্রতিরক্ষা চুক্তি
ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আরামকোর তেল শোধনাগারগুলো ক্রমাগত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস ও প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব তার প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সাথে থাকা সামরিক চুক্তি সক্রিয় করতে পারে।
"ইরান যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি জড়িয়ে পড়লে রিয়াদ মূলত পাকিস্তানের 'পারমাণবিক সুরক্ষা' কবচের আওতায় চলে যাবে।"
— সালমান আল আনসারী, ভূ-রাজনৈতিক গবেষক (সিবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে)
পাকিস্তান কি যুদ্ধে জড়াচ্ছে?
গত বছর দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে।
তবে তেহরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। আইআরজিসি ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের হাতে এমন কিছু ‘অদেখা’ শক্তিশালী মরণাস্ত্র রয়েছে যা তারা এখনো প্রকাশ্যে আনেনি। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভয়াবহ বহুমাত্রিক যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
রাজু








