ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে ইরানের আঘাত, তেহরানের বড় সাফল্যের দাবি

ওয়াহেদ রাজু

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ২০ মার্চ ২০২৬

মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে ইরানের আঘাত, তেহরানের বড় সাফল্যের দাবি

আমেরিকার গর্ব ও আধুনিক সমরপ্রযুক্তির ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে পরিচিত পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে অত্যন্ত শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত হানা হয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম লকহিড মার্টিনের তৈরি ওই অত্যাধুনিক বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তেহরানের দাবি, বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হয়নি বরং ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং পাইলট অক্ষত আছেন।

কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রযুক্তির লড়াই: এফ-৩৫ কেবল একটি বিমান নয়, একে বলা হয় ‘উড়ন্ত সুপার কম্পিউটার’। এর স্টেলথ প্রযুক্তি রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। সেই বিমানকে শনাক্ত করে আঘাত করা ইরানের জন্য বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ধাক্কা: এই যুদ্ধবিমান প্রকল্পটি আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল (প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার)। একটি বিমানের দাম ৮০ থেকে ১১০ মিলিয়ন ডলার। এই ঘটনায় এফ-৩৫-এর অভেদ্য ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় এর বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাজনৈতিক বার্তা: তুরস্ককে এই প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া বা ইসরায়েল-জাপানের মতো মিত্রদের কাছে এটি বিক্রি করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ইরানের এই আঘাত সেই দাপটে বড়সড় ফাটল ধরালো।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইকে নতুন মোড় দিল। এফ-৩৫ পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও, একে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারাটাই ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।

 

রাজু

×