মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিকল্প পদক্ষেপও বিবেচনায় রাখছে।
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বাজারে তেলের ঘাটতি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব কৌশলগত মজুত থেকেও সরবরাহ বাড়াতে পারে, যাতে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারে ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। এতে করে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের বেশি উঠে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষক বন্দনা হারি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড তেলের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিকতা কত দ্রুত ফিরে আসে তার ওপর।
এদিকে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের মূল্যও ব্যাপক বেড়েছে। প্রতি থার্ম গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭১ পেন্সের বেশি হয়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।








