ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কোলের শিশুকে বাসায় রেখেই ঘুরতে গেলেন মা, খাবার ছাড়া প্রাণ গেলো শিশুর

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৪; আপডেট: ১৯:৩৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

কোলের শিশুকে বাসায় রেখেই ঘুরতে গেলেন মা, খাবার ছাড়া প্রাণ গেলো শিশুর

ওই মায়ের সাজা শোনাল আদালত  

মাত্র ১৬ বছর বয়সী মেয়েকে ঘরে রেখে নিশ্চিন্তে ঘুরতে যান মা। ১০ দিন পর ফিরে এসে পায় মেয়ের মৃতদেহ। ছোট্ট শিশুটি না খেয়ে পানি না পেয়ে অবশেষে মৃত্যুত কোলে ধলে পড়ে। 
 
১৬ মাসের মেয়ের দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করে বাড়িতে একা রেখে ছুটি কাটাতে যায় মা। ১০ দিন পর বাড়ি ফিরে এসে দেখেন তার মেয়ে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে। সম্প্রতি এই ঘটনায় মৃত শিশুর মাকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। মামলায় ওই মহিলাকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা শোনালেন বিচারক।

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার বাসিন্দা ক্রিসটেল ক্যানডেলারিওকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ১৬ মাসের মেয়েকে বাড়িতে একা রেখে ছুটি কাটাতে ডেট্রয়েট এবং পুয়েরতো ঘুরতে গিয়েছিলেন। বাচ্চাটির জন্য কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি, বাড়িতে খাবার এবং পানীয় জলও রেখে যাননি তিনি।

বন্ধ ঘরে থাকার কারণে খাবার এবং পানি না পেয়ে মৃত্যু হয় ১৬ মাসের মেয়েটির। ১০ দিন পর বাড়ি ফিরে এসে ওই মহিলা দেখেন তার মেয়ে জাইলিন অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে মেঝেতে। তখন তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে জাইলিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ ক্যানডেলারিওর ছুটি কাটানোর বিষয়টি জানতে পারে। তারপরই তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে গ্রেফতার করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বছর জুন মাসে। সোমবার সেই মামলায় রায়দানের সময় আমেরিকার এক আদালতের বিচারক ব্রেনডন শিহান ক্যানডেলারিওর উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনি যেমন আপনার ছোট্ট মেয়েকে তার বন্দিশালা থেকে মুক্তি দেননি, তেমনই আপনারও উচিত বাকি জীবন একটা সেলের মধ্যে কাটানো। তবে পার্থক্য একটাই, জেলে অন্তত আপনি খাবার এবং পানীয় পাবেন, কিন্তু জাইলিন তা পায়নি।’’
এই মামলার শুনানিতে ক্যানডেলারিও দাবি করেছেন যে, তিনি কয়েক দিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।তিনি বলেন, ‘‘জাইলিনকে হারানোয় অনেক কষ্ট পেয়েছি। যা ঘটেছে সব কিছুর জন্য আমি অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। আমিই একমাত্র জানি, আমি কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলাম।’’ যদিও তার কোনও কথাই বিচারকের মনে দাগ কাটতে পারেনি।
 

শিলা

×